banglanewspaper

তাদের দুজনের একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। দুজনেই হয়েছেন কিংবদন্তি। একজন ব্যাট হাতে আর অন্যজন বল হাতে। কিন্তু বিস্ময় বালক শচীন টেন্ডুলকার সম্পর্কে শোনা তথ্য বিশ্বাসই করতে পারেননি ওয়াকার ইউনিস। সেই ঐতিহাসিক প্রথম সিরিজের দিকে ফিরে তাকিয়ে ওয়াকার বলেছেন, স্কুল ক্রিকেটে যে সব কীর্তি করে এসেছিলেন শচীন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য! পুরো পাকিস্তান দলের বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে, এমন সব কীর্তি এত ছোট বয়সে করে দেখানো সম্ভব। 

১৯৮৯ সালে পাক সফরের করাচি টেস্টে অভিষেক হয় শচীনের। একই ম্যাচে অভিষেক হয় ওয়াকারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম ইনিংসে ওয়াকারেরই শিকার হন শচীন। ১৫ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথম সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ওয়াকার ইউনিসের বাউন্সার নাকে আছড়ে পড়ে শচীনের দেহে। আঘাত পাওয়ার পর সেই বিস্ময় বালক রান করার জন্য আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। সেই দৃশ্য দেখেও বিস্মিত হন ওয়াকার। 

অভিষেক ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে ওয়াকার বলেন, 'জীবনের প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসেই চার উইকেট পেয়েছিলাম। শচীনের উইকেটও আমিই নিয়েছিলাম। এটা ঠিক যে, প্রথমবার দেখে বুঝিনি যে, পরবর্তীকালে এত বড় ব্যাটসম্যানে পরিণত হবে। কিন্তু প্রথম টেস্টে ওর কিছু শট দেখেই বোঝা গিয়েছিল, দুর্দান্ত এক প্রতিভাকে দেখছি।'

প্রথম টেস্টে তরুণ শচীন টেন্ডুলকার ব্যর্থ হলেও, দ্বিতীয় টেস্টে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি হারিয়ে যেতে আসেননি। ওয়াকারের কথায়, 'দ্বিতীয় টেস্ট ছিল শিয়ালকোটে। প্রথম ম্যাচে শচীনকে দ্রুত আউট করেছিলাম। তাই আত্মবিশ্বাস ছিল, এই ম্যাচেও ভালো কিছু করার। একেবারে সবুজ উইকেট তৈরি করা হয়েছিল প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য। আমার ডেলিভারি শচীনের নাকে আছড়ে পড়ে। রক্ত পড়তে শুরু করে। স্পষ্ট মনে আছে, ওর নাকে লাগার পরে ঠিক ৫ থেকে ৭ মিনিট সময় লেগেছে সুস্থ হতে।'

ওয়াকার আরও বলেন, 'নন-স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে নভজ্যোত সিং সিধুর সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করার শচীন আবারও ক্রিজে ফিরে যায়। নাকে লাগার পরে রান করার জন্য ওকে আরও মরিয়া দেখাচ্ছিল। সেই ইনিংসেই শচীন হাফ-সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে সে কত বড় মাপের ক্রিকেটার।

ট্যাগ: bdnewshour24