banglanewspaper

ইসলামে ধর্মের রীতি অনুযায়ী পুরুষের খাতনা করার বিধান রয়েছে। স্বাস্থ্য বিবেচনা করে শুধু ইসলাম ধর্ম নয় অনেক ধর্মের অনুসারীরাও খাতনা করে থাকেন। কিন্তু নারীদের খাতনার বিষয়টিও বেশ পুরনো। বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে নারীদের খাতনা করানো হয়। দিন দিন এর ভয়াবহতা বাড়ছে। এতে প্রতি বছর বহু নারী মৃত্যুর মুখে পড়ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে বেশ কিছু দেশ রয়েছে যেখানে মেয়েদের যৌনাঙ্গ ছেদন বা খাতনা দেয়া হয়। এই বিভৎস প্রথা চালু রয়েছে খ্রিস্টানদের মধ্যেও। আফ্রিকার দেশ সুদান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াও চর্চা করা হয়।

 

জাতি সংঘের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ২০ জন নারীর মধ্যে একজনকে খাতনা করানো হয়ে থাকে। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২০ কোটি নারী রয়েছে যাদের আংশিক খাতনা করানো হয়েছে। কিংবা যৌনাঙ্গ কেটে ফেলানো হয়েছে। এসব নারী মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। এ ভয়াবহতা বন্ধের আহবান জানিয়ে জাতিসংঘ প্রতিবছর ৬ ফেব্রুয়ারি ‘জিরো টলারেন্স দিবস’ হিসেবে পালন করে।

এ দিকে, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে চালু থাকা ইসলামী শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদান। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে অমুসলিমদের মদ্যপানের অনুমতি এবং স্বধর্ম ত্যাগের আইন ও অপরাধের শাস্তি হিসেবে জনসম্মুখে বেত্রাঘাতের সাজা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

 

দেশটির আইন ও বিচারবিষয়কমন্ত্রী নাসরিদিন আবদুল বারি বলেছেন, আমরা সুদানের সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আইন বাতিল করব। গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে বেশ কয়েকটি আইন পাস হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো দেশটির সরকার এসব আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে মেয়েদের খতনা করানোর প্রথাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সন্তানদের সঙ্গে নারীদের ভ্রমণের সময় কোনো পুরুষ স্বজনের অনুমতির দরকার নেই।

বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখে গত বছর দীর্ঘমেয়াদে প্রেসিডেন্টের আসনে থাকা দেশটির শাসক ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হন। তার এই ক্ষমতাচ্যুতির পর ইসলামী শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হল।

ট্যাগ: bdnewshour24