banglanewspaper

বিশ্বজুড়ে চারদিনের সামান্য বেশি সময়েই নতুন ১০ লাখ শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এক কোটি ৩০ লাখ থেকে এক কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ১০০ ঘণ্টা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রয়টার্সের করোনা টালি অনুযায়ী, সর্বশেষ ১০ লাখ রোগী পেতে বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হয়েছে মাত্র ১০০ ঘণ্টা। যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় এখন প্রায় প্রতিদিনই গড়ে আড়াই লাখেরও বেশি নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

রয়টার্সের টালিতে বিভিন্ন দেশের সরকারের দেয়া প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে শুক্রবার রাতেই বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

যদিও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যাশবোর্ডে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ ছাড়ায় আরও কয়েক ঘণ্টা পরে।

ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহানে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের আবির্ভাবের পর বিশ্বজুড়ে প্রথম ১০ লাখ রোগী পেতে সময় লেগেছিল তিন মাস। সংক্রমণের বিস্তৃতি ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিমাণ বাড়ায় এরপর প্রতি ১০ লাখ শনাক্তে সময় ক্রমাগত কমতে থাকে।

গত সপ্তাহের সোমবার রোগীর সংখ্যা টপকায় এক কোটি ৩০ লাখ। তার মাত্র ১০০ ঘণ্টার ব্যবধানেই যুক্ত হয় আরও ১০ লাখ। 

বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত যত রোগী শনাক্ত হয়েছে তার এক চতুর্থাংশেরও বেশি মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে শনিবার সকাল পর্যন্ত ৩৬ লাখের বেশি মানুষের দেহে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৬৬ জনের মৃত্যুও হয়েছে।

কেবল বৃহস্পতিবারই দেশটিতে শনাক্ত হয়েছে ৭৭ হাজার ২১৭ নতুন রোগী; আর সুইডেনে প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ২৮১।

সংক্রমণের এমন ঊর্ধ্বগতিতেও অবশ্য টলানো যাচ্ছে না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে সংক্রমণ না কমা পর্যন্ত মার্কিনিদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নির্দেশ দিতে তাকে রাজি করানো যায়নি। রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট ও তার সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ফের সচলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াসহ বিধিনিষেধ শিথিলের নানান উপায়ও খুঁজছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বে এখন শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে ফ্লুতে আক্রান্ত গুরুতর রোগীর প্রায় তিনগুণ।

করোনা ভাইরাসে ১০ জানুয়ারি প্রথম মৃত্যুর খবর জানার পর পরের ৭ মাসেই মহামারী বিশ্বের ৫ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পর শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলেও মৃত্যুর সংখ্যা ৭৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

লাতিন আমেরিকার এ দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর দেহে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধী ছিলেন। মতের মিল না হওয়ায় দুই দফায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বদলেছেন তিনি।

বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে শুক্রবার সরকারি হিসাবেই আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে; দেশটিতে এখন প্রতিদিনই গড়ে ৩০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

এ তিন দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে একদিনেই বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৩ জনের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে তুলনামূলক কম শনাক্তকরণ পরীক্ষা ও উপসর্গবিহীন রোগীর কারণে সরকারি হিসাবে আসা সংখ্যা মোট আক্রান্তের চেয়ে অনেক কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে হাত ধোয়া ও মাস্ক পরার নির্দেশনা মানার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারকে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিধিনিষেধসহ আগ্রাসী ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24