banglanewspaper

উপমহাদেশের প্রাচীন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহার জামাতও হবে না। দেশজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঈদ উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

এর আগে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠানও বন্ধ করেছিল জেলা করোনা প্রতিরোধ ও ঈদ উৎসব উদযাপন কমিটি।

কিশোরগঞ্জ শহরতলির উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ২০০ বছরের পুরো ও ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহ ময়দানে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের তিন লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের জামাত আদায় করতে আসেন। একসময় এই ঈদগাহ ময়দানটি দেশ তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাতের খ্যাতি অর্জন করে।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের জামাতের আগ মুহূর্তে শোলাকিয়া মাঠে প্রবেশপথের সবুজবাগ সংযোগ সড়কে মুফতি মোহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনের তল্লাশি চৌকিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ, এক প্রতিবেশী নারী এবং এক জঙ্গিসহ ৪ জন নিহত ও পুলিশসহ অন্তত ১৬ মুসল্লি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। 

এরপর গত দু-তিন বছর শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত নিয়ে মুসল্লিতের মধ্যে কিছুটা ভীতি বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ঐতিহাসিক এই মাঠে ঈদের জামাতে লোকসমাগমে এতটুকুও ভাটা পড়েনি।

প্রসঙ্গত, ১৯১ বছর আগে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে শুরু হয়েছিল ঈদের বড় জামাত। এরও দুইশ' বছর আগ থেকে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর নানা প্রতিকূল সময় কেটেছে। কিন্তু ঈদের জামাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এবারই প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান খালি থাকছে টানা দুই ঈদে।

ট্যাগ: bdnewshour24