banglanewspaper

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী*

১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট টঙ্গীপাড়ার নিভৃত পল্লীতে এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়। ফুলের রেনুর সাথে সাদৃশ্য টেনে তার নামকরন করা হয় রেনু। তার একটি পোশাকী নামও রাখা হয়, তবে তার পোশাকী নামটি পরিচিতি পেতে প্রায় অর্ধ শতাব্দীরও মত সময় কেটে যায়। জন্মের তিন বছরের মাথায় শিশুটির পিতা জহুরুল হক ও পাঁচ বছরের মাথায় মাতা হোসনে আরা বেগম দেহ ত্যাগ করেন। এতিম শিশুটি তার চাচা-চাচী অর্থাৎ হবু শ্বশুর-শাশুড়ীর পরম যত্নেয়া বাড়তে থাকেন। মিশন স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করলেও পারিবারিক রীতি মোতাবেক তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, বাংলা ও ইংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করেন গৃহ শিক্ষকের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক সীমিত শিক্ষা নিয়ে তিনি আমৃত্যু ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মীনি; শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, কামাল, জামাল ও রাসেলের সার্থক মাতা, শ্বশুর লুৎফর রহমান ও শাশুড়ী সায়েরা খাতুন এর আদর্শ বধূ। আত্মীয় স্বজন কারো খালা, কারো মামী, কারো কারো ভাবী, তবে তার ভাবী পরিচয়টি ছিল সর্বব্যাপী বিশেষত: মুজিবের সহকর্মী ও রাজনৈতিক সহচরদের কাছে তার ভাবি পরিচয় ছিল অত্যুজ্জ্বল। তিনি শুধু মুজিবের জীবন সঙ্গিনী ছিলেন না, পরবর্তী কালে আমরা তাকে দেখেছি মুজিবের একজন বন্ধু, দার্শনিক ও পথ প্রদর্শক হিসাবে। মূলত: তিনি ছিলেন মুজিবের এক নম্বর অনুসারী,  আদর্শের ধারক বাহক ও অনুশীলনকারী। জীবনে বহুবার হয়ত তিনি মুজিবকে উদ্দেশ্য করে মুখে উচ্চারন করেছেন, ‘আমি তোমার রাজনীতি করি না’, অর্থাৎ তিনি রাজনীতি করতেন কিন্তু প্রকাশের তাড়না বা দ্যোতনা তার মাঝে ছিল না। আমরা যারা তাকে নিয়ে লেখালেখি করেছি বা করছি তারাও কিন্তু এই প্রচ্ছন্ন রাজনীতিবিদের স্বরূপ বা প্রতিকৃতি উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছি। শেখ হাসিনার লেখা, কথায় ও বক্তব্যে তার ইঙ্গিত আছে যখন তিনি বলেন যে, ‘রাজনৈতিক জীবনে অনেক জটিল পরিস্থিতিতে তিনি স্বামীর পাশে থেকে তাকে সৎ পরামর্শ দিতেন এবং স্বামীর সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করতেন’। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ৬ দফা বা বাঙ্গালির মুক্তি সনদ প্রণয়ন, প্রচার ও প্রসার রয়েছে, রয়েছে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং অন্তিম লগ্নে প্যারোলো মুক্তি নিয়ে লাহোরে গোল-টেবিলে যোগদান প্রসঙ্গ, ৭১ এর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন, ২৩ জুনের পতাকা উত্তোলন ও ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা। এসব ক্ষেত্রে তাহলে রেনুর ভূমিকাটা দাঁড়াচ্ছে একজন উপদেষ্টা বা পরামর্শকের। 

সেকালে আওয়ামী লীগে এমন কোন পদ কিংবা পদবী ছিল না। থাকলেও তাকে যদি তা দেয়া হতো, বিনয়ী ও পর্দার অন্তরালের মহানায়িকা ফজিলাতুন্নেছা তা গ্রহণ করতেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। তিনি শুধু আওয়ামীলীগের বড় নেতা বা প্রধান নেতার গৃহাঙ্গনের পরামর্শক ছিলেন না, তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের পরামর্শক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছা-সেবক  লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান পৃষ্ঠ-পোষক। ‘স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সর্বান্তকরনে সহযোগীতা করেছেন’, বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রতি পদক্ষেপে তিনি সহযোগিতা করেছেন, ছায়ার মত অনুসরন করেছেন স্বামীর আদর্শ । বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার বিরুদ্ধে দাঁড় করা মামলা পরিচালনা করা, দলকে সংগঠিত করা, আন্দোলন পরিচালনা করা ছিল তার জীবনের অতিরিক্ত দায়িত্ব। তাহলে আমরা কেন তাকে একজন স্বার্থক রাজনীতিবিদ হিসাবে আজও চিত্রায়িত করতে পারছিনা? আমার প্রশ্নটির পরোক্ষ প্রতিধ্বনি ঘটেছে আরও বিশিষ্ট মানুষের লেখায় কিংবা স্মৃতিচারণেও। তাদের সংখ্যা অনেক আর তারা যে সবাই আওয়ামী পন্থী ছিলেন বা অনুগত ছিলেন তেমনটি নয়। তাদের মধ্যে আছেন আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধুর কট্টর বিরোধী রাজনীতিবিদ অলি আহাদ, শিক্ষাবিদ নীলিমা ইব্রাহিম, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’-র অমর রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আছেন সাবেক সংসদ রাজনীতিবিদ মমতাজ বেগম, শিক্ষাবিদ আসলাম ভূইয়া কিংবা, শিক্ষাবিদ ও বিখ্যাত চিকিৎসক নূরুল ইসলাম দিয়ে। বাদ যাবেনা এ বি এম মূসা, নীতিশ সাহা বা কামরুল হুদা কিংবা মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ আবদুল মান্নান চৌধুরী, বেবী মওদুদ প্রমুখ। দুই মলাটের মাঝে খুঁজতে গেলে আরও অনেককে পাওয়া যাবে।

শেখ হাসিনা ও অন্যান্যরা শেখ ফজিলাতুন্নেছা রেনুকে দেখেছেন একজন অনন্য মেধাবী ও শ্রুতিধর হিসাবে, বঙ্গবন্ধু ও আন্দোলনকারীদের যোগ সূত্র ও মধ্যস্ততা কারী হিসাবে। তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ ছাড়াও সংগঠনের অর্থায়ন, কর্মীদের আর্থিক সংকটে সহায়তা, রোগে শোকে চিকিৎসা এমনকি নেতা কর্মীদের সন্তানাদির বিয়ে সাদীতে মুক্ত হস্তে এগিয়ে আসতেন। পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দৃষ্টি এড়িয়ে এমনকি এ্যারেস্ট ও নির্যাতনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দলকে সংগঠিত করেছেন, অখন্ড রেখেছেন। ছাত্রদের নির্দেশ দিতেন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সর্বদা স্বামীর পাশে থেকে দেশ ও জাতির সেবা করে গেছেন। শেখ হাসিনার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে অপর কয়েক গবেষক তাকে দেখেছেন একজন নিরহংকার, নির্লোভ, ত্যাগী, কষ্টসহিষ্ণু, প্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা ও অনুকরণীয় নেত্রী হিসেবে। তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে ফজিলাতুন্নেছার মত এমন দূরদর্শী নারীর আবির্ভাব বঙ্গবন্ধুর জীবনে না ঘটলে শেখ মুজিব জীবনে কোনদিন বঙ্গবন্ধু হতেন না, বঙ্গপিতা বা জাতির পিতা হতেন না কিংবা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি হিসবে চিহ্নিত হতেন না। 
তাহলে যার সম্পর্কে এমনতর উক্তি, তার রাজনীতিক হিসাবে স্বীকৃতি কোথায়? আসলাম ভূইয়ার কন্ঠে ধ্বনিত অনুরোধ নিম্নরূপ :

‘আমি ইতিহাস লেখকদের কাছে এই মহীয়সী মহিলাকে (শেখ ফজিলাতুন্নেছা) কেবল একজন সু-গৃহিনী, স্বার্থ বিসর্জনকারী ত্যাগী নারী এবং আদর্শ মাতা হিসাবে তুলে ধরা নয়, একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক ভূমিকাকে তুলে ধরারও অনুরোধ করব।’
তিনি যে সত্যিকার একজন রাজনীতিক ছিলেন এবং অনেকটা কোন পদ-পদবী ছাড়াই ইত্তেফাক সম্পাদক মানিক মিয়ার মত; তার আরও কিছু তথ্য বিদাগ্ধ পাঠক ও নব-প্রজন্মের জন্য তুলে ধরছি। 

তার ব্যক্তিজীবনের আলেখ্য অনেকেই স্বার্থক রূপায়ন করেছেন। নীলিমা ইব্রাহিম ও বেবী মওদুদের দীর্ঘ ও নাতিদীর্ঘ লেখায় তা প্রতিভাত। তার রাজনীতির ব্যাপারে বিশেষ দূরে যাব না, ৬ দফা দিয়ে শুরু করছি।  অনেকের মনে আশংকা ছিল ৬ দফা আন্দোলনে রক্তাক্ত ও বিয়োগান্ত পরিনতি ঘটতে পারে। বঙ্গবন্ধুও যে এই আশংকা করতেন না, তা নয়। বঙ্গবন্ধুর চিন্তার কারন ছিল ভিন্ন। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকে তিনি বলেছিল ‘আমি গ্রীণ সিগন্যালের অপেক্ষায় আছি’। আর এই সবুজ সংকেত দাত্রী ছিলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা ওরফে রেনু। সেদিন তার প্রেরণায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধের দুর্গম পথ যাত্রায় নেমেছেন। শেখ মুজিবকে এই আন্দোলন থেকে বিচ্যুৎ করার ফজলুল কাদের চৌধুরীর পারিবারিক প্রয়াসকে বেগম মুজিব ভোঁতা ও প্রতিহত করেছিলেন। এই ৬ দফা নিয়ে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা এসেছে শেখ হাসিনা, মমতাজ বেগম ও আসলাম ভূইয়ার লেখায়। শেখ হাসিনা লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে ৩২ নম্বরে তিনি শুধু নেতা নেত্রীদের আপ্যায়নে সময় দেননি, ৬ দফার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করেছিলেন। তারই প্রতিধ্বনি মিলে মমতাজ বেগমের স্মৃতি চারনে। তার আগে গাফ্ফার চৌধুরীর ক’টি কথা তুলে ধরতে চাই। ‘শুধু ৬ দফার কর্মসূচী ঘোষনা নয়, আন্দোলন চলার সময়, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সেই রুদ্ধবাক দিনগুলিতে, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে, প্যারোলে শেখ মুজিবের মুক্তির প্রস্তাব জানানো হলে, বত্রিশ নম্বরের বাড়িতে স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথম তোলার আগে, মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়ঙ্কর অনিশ্চিত মাসগুলোতে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নেপথ্য ভূমিকা কিভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রন করেছে।’ সেসব বিষয় বিবেচনায় নিলে তিনি যদি রাজনীতিবিদ না হোন তাহলে আনুষ্ঠানিক পদ পদবীধারী, কারা নির্যাতনকারী ও মন্ত্রীর আসনে আসীনরাই কি কেবল রাজনীতিবিদ? 

৬ দফার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথাতে আসি। মমতাজ বেগম লিখেছেন, আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতা ৬ দফার আন্দোলনকে ছাপা দিয়ে তথাকথিত ৮ দফা কার্যকরী করাতে চেয়েছিলেন। সেদিন বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেনুর দূরদর্শিতা ও সাহসী পদক্ষেপের জন্য ৬ দফা আওয়ামীলীগের একমাত্র দাবি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘৩২ নং বাড়িতে যখন ৬ দফাকে ৮ দফায় রূপান্তরিত করার চেষ্টায় বাক-বিতন্ডা, চিৎকার ও চেয়ার ছুড়াছুড়ি চলছিল ঠিক সেই মুহূর্তে লাল পেড়ে ডোরা শাড়ি পরা বেগম ফজিলাতুন্নেছা রেনু উপস্থিত হলেন। সভাকক্ষের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে উচু স্বরে বললেন, “কি হচ্ছে এখানে? আপনারা কি শুরু করেছেন? আমার বাড়িতে বসে কোন ষড়যন্ত্র করা চলবে না, এখানে কোন মারামারি করা চলবে  না।” সবাই চুপ হয়ে গেল, নিস্তব্ধ কক্ষ, সবাই হতবাক। শান্ত অথচ দৃঢ় কন্ঠে তিনি বললেন, “আপনাদের নেতা জেলে আছেন। তার অবর্তমানে তার প্রণীত কোন কর্মসূচি আপনারা পরিবর্তন করতে পারেন না। এটা হবে না। এটা হওয়া উচিত নয়। সভা স্থগিত করুন।

মমতাজ বেগমের তথ্য সূত্রে আছেন বিশিষ্ট যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি আর উপরের উদ্বৃতিটি আসলাম ভূইয়া থেকে নেয়া। রেনুর সেদিনের শেষ কথা ছিল ‘আমি স্পষ্ট করে বলছি, ৬ দফা যারা মানবে না তারা দল থেকে চলে যেতে পারেন’। তার নির্দেশ সেদিন কার্যকরী হয়েছিল যেখানে মমতাজ দৌলতানা, সালাম খানের মত বাঘা বাঘা নেতারা হাজির ছিলেন। তাহলে একথাও মানতে হবে যে বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে এই গ্রাম্য সাদাসিদে মহিলাটি ছিলেন আনঅফিসিয়ালি আওয়ামী লীগের কখনও সাধারন সম্পাদক বা কখনও সভাপতি। তদুপরি ৭ মার্চের ভাষনের প্রধান প্রেরণাদাত্রী, ২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলনের প্রধান অনুঘটক ছিলেন তিনি। এসব কথা শুধু মমতাজ বেগম, গাফ্ফার চৌধুরী, আসলাম ভূঁইয়া বা ডাক্তার নূরুল ইসলামের লেখনীতে পরিস্ফুট তা নয়, আমরা ব্যক্তি জীবনেও আমি তা দেখেছি কিংবা গভীর ভাবে উপলব্ধি করেছি। বলতে দ্বিধা নেই আমি ছিলাম তার স্নেহধন্য ও মায়া মমতা সিক্ত। ছাত্র জীবনে এমন কি শিক্ষকতা জীবনে তিনি ছিলেন আমার মামী, রক্তের সম্পর্কের বাইরে। সম্ভবত, মমতাজ বেগম ও আমি তাকে মামী বলে সম্মোধন করতাম। অন্যরা তাকে ভাবী বলেই সম্মোধন করতেন। মামী এক সময় আমার মায়ের অবস্থানটি দখল করে নিলেন, যার বিস্তৃত বর্ণনা অন্যত্র রয়েছে। তবে যা বর্ণনায় আসেনি তা হলো কেমন করে রেনু একদিন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলেন, কেমন করে তিনি আত্মীয়তার বাইরেও সকলের ভাবী হয়ে গেলেন আর কেমন করে তিনি বঙ্গমাতায় রূপান্তরিত হলেন। শেখ মুজিব খোকা থেকে কিভাবে বঙ্গশার্দুল হলেন, শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হলেন, বঙ্গবন্ধু হতে জাতির পিতা হলেন আর জাতির পিতা থেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হলেন তা সবার জানা। এক কথায় তার রাজনীতিই তাকে এসব অভিধায় অভিসিক্ত ও সম্মানিত করেছে। আমরা একদিন উপলব্ধি করলাম, ‘একজন পুরুষ ও নারী স্বামী স্ত্রীতে পরিণত হয়ে যখন সুখী সংসার গড়ে তোলেন তখন তাদের চিন্তা ও কর্মের দুরুত্ব ঘুচে যায়। তাদের একজন বঙ্গপিতা হলে অপরজন বঙ্গমাতা হয়ে যান।’ তাদের সামগ্রিক অর্জনের তারা সমভাগী। সে কারনেই তিনি বঙ্গমাতা আর তার আনুষ্ঠানিক কোন রাজনৈতিক পরিচিতি, অভিধা বা খেতাব না থাকলেও তিনি সঠিকাংর্থে একজন রাজনীতিবিদ, যাকে বলে উবভধপঃড় রাজনীতিবিদ” তাকে  উবলঁৎরড় রাজনীতিকের পদবী দানের হয়ত উপায় নেই কিন্তু খ্যাতিমান সাংবাদিক মানিক মিয়ার এখন যেমন ভাবে রাজনৈতিক নেতার স্বীকৃতি জুটেছে, তেমনি বঙ্গমাতার নামের সাথে রাজনৈতিক পরিচিতি সংযুক্তি সময়ের ব্যাপার। হয়ত ইতিহাস একদিন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি মহিলা রাজনীতিকের খেতাবটি তাকে দিয়ে বসতে পারে। 

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, সভাপতি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ ও 
উপাচার্য, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
প্রবন্ধের তথ্যসূত্র: আবদুল মান্নান চৌধুরী সম্পাদিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ‘স্মারক গ্রন্থ’, বৈশাখী প্রকাশনী-২০১৫, ঢাকা।

ট্যাগ: bdnewshour24