banglanewspaper

দেশের অধিকাংশ নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনও ৩৩ জেলার ৫৪ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি। ১২টি নদীর ১৬ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে। 

তবে চলমান বন্যার ভেতরেই এই মাসের শেষের দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘আকস্মিক’ বন্যায় আরেকবার ভাসতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। 

সংস্থাটি বলছে, আগস্টের শেষের দিকে উজানে ভারি বর্ষণের পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আকস্মিক বানে ডুবতে পারে ওই সব অঞ্চল। এটি হতে পারে খুবই স্বল্পমেয়াদি।

গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান জানান, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি কমছে। কমছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানিও। একইভাবে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোরও পানি কমছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, বন্যা দুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকা সিটি করপোরেশনের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপরে থাকলেও আজ নিচে নেমে গেছে। শুধু যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টের পানি এখনও বিপদসীমার উপরে রয়েছে। তবে তা গতকালের তুলনায় কমে ২১ থেকে মাত্র ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এছড়া গুড় নদীর সিংড়া পয়েন্টে ৬৩ থেকে কমে ৫২, আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে এখন ৬৩ থেকে কমে ৭, ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে ৬২ থেকে কমে ৪৮ এবং জাগির পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এখন পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আজকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পানির মতো কমতে শুরু করেছে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানিও। এর মধ্যে বালু নদীর ডেমরা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৫ থেকে কমে ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

একইভাবে তুরাগ নদীর পানি মিরপুর পয়েন্টে ৫৯ থেকে কমে ৪১, টঙ্গী খালের টঙ্গী পয়েন্টে ৩৫ থেকে হালকা বেড়ে ৩৭ এবং লাক্ষ্যা নদীর পানি নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে ৩৭ থেকে কমে ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কালিগঙ্গা নদীর তারাঘাট পয়েন্টে ৬৬ থেকে ৪৬, বংশী নদীর নায়েরহাট পয়েন্টে ১৬ থেকে ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। 

আবার পদ্মা নদীর সবগুলো পয়েন্টের পানিও কমেছে। পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টে এখন ৭৯ থেকে কমে ৩৮, ভাগ্যকূল পয়েন্ট ৪৮ থেকে কমে ২০, মাওয়া পয়েন্টে ৪২ থেকে কমে ২২ এবং সুরেশ্বর পয়েন্টের পানি ৫৪ থেকে কমে ৩১ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া মেঘনা নদীর চাঁদপুর পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ৬৭ থেকে কমে ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩৩ জেলা এখনও বন্যা উপদ্রুত। বন্যাকবলিত ৩৩টি জেলা হলো– রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিলেট, জামালপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, নওগাঁ,  শরীয়তপুর, ঢাকা,  মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নাটোর, হবিগঞ্জ ময়মনসিংহ, রাজশাহী, গাজীপুর, পাবনা এবং মৌলভীবাজার। 

এই ৩৩ জেলার ১৬৫টি উপজেলার এক হাজার ৬৩টি ইউনিয়নের ১০ লাখ ৫৭ হাজার ২৫৩ পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় আছে। এদিকে ৩০ জুন থেকে ৬ আগাস্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে, ডায়রিয়ায়, সাপের কামড়ে ও বজ্রপাতে ১৬৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পানিতে ডুবে ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে মারা গেছে ১৩ জন।

ট্যাগ: bdnewshour24