banglanewspaper

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে। কিন্তু ধাপে ধাপে বাড়ছে সোনার দাম। গত ৪-৫ মাস ধরেই সামাজিক অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ, মানুষ এখন জুয়েলার্স দোকান বিমুখী। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে  সোনার চাহিদা আগের চেয়ে কয়েকগুণ কমেছে। তবুও কেন বাড়ছে সোনার দাম? 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোনা একটি কারেন্সি বা মুদ্রা হিসেব বিশ্ব বাজারে ডলারের মতো ব্যবহার হয়। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা ও ডলার দুটোই কিনে রাখে এবং ব্যবসা করে। বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোতে ডলারের দাম পড়ে গেছে। ফলে চীনসহ বিভিন্ন দেশে অনেকেই ডলার বিক্রি করে সোনা কিনতে শুরু করেছে। এতে সোনার চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামও বাড়ছে।

জানা গেছে, করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৫শ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহেই প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে আড়াইশ ডলার করে। যে কারণে দেশের বাজারে সোনার চাহিদা কমলেও দাম বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের সোনা যাতে দেশের বাইরে না যায় সে জন্যই দাম বাড়ানো হয়। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ব্যালেন্স ঠিক রাখার জন্যই সোনার দাম বাড়ানো হয়। চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স করার জন্য এটা করতে হয়।

 তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরও দেশের বাজারে দাম যদি না বাড়ানো হয়, তাহলে ভারতসহ দুনিয়ার সব দেশের মানুষ বাংলাদেশ থেকে অল্প দামে সোনা কেনা শুরু করবে। বাংলাদেশ হবে স্মাগলিংয়ের অভয়ারণ্য। করোনার কারণে দেশে সোনার চাহিদা কমে গেলেও সোনার দাম বাড়ছে। এর প্রধান কারণ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা। 

তিনি উল্লেখ করেন, সোনা এক ধরনের কারেন্সি। আন্তর্জাতিক নিয়ম হলো ডলার অথবা সোনা নির্দিষ্ট পরিমাণ রিজার্ভ থাকলেই কেবল টাকা প্রিন্ট করা যায়। করোনার কারণে পৃথিবী জুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে সব দেশগুলোকে টাকা প্রিন্ট করতে হচ্ছে। যে কারণে পৃথিবীর সব দেশের রিজার্ভ বাড়াতে হচ্ছে। এতে সোনার চাহিদাও বেড়ে গেছে। 

ট্যাগ: bdnewshour24