banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়ার ইউনিয়নের ৩টি বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অটো রিক্সার ব্যাটারী চুরি করতে হাতে নাতে ধরা পড়ে নবী উজ্জ্বল।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জান যায়, দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়নের মৃত সহরাব মোল্লার ছেলে নবী উজ্জ্বল ও তার দল প্রথমে মোন্নাফ এর ঘাট থেকে জয়নালের নৌকায় রাত ৯ টায় ৩ জনে মিলে পাড় হয়। পরে চুরি করার উদ্দেশ্য বের হয়। প্রথমে ধুবড়িয়ার ছাত্তারের বাড়ি থেকে একটি ট্রাংক ও কিছু অলঙ্কার চুরি করে। চুরি শেষে বুঝতে পারে অলঙ্কারগুলো এমিটিশনের তখন ট্রাংক ক্ষেতের মাঝে ফেলে চলে যায় জাহালমের বাড়িতে।  
এ বছর জাহালমের বাড়িতে ধান কাটার কামলা দেয়া নবী উজ্জ্বল তার মুনিবের ঘর থেকে ২টি টর্চ লাইট ও ১ টি মোবাইল ফোন চুরি করে। 
এরপর সে যায়, একই ইউনিয়নের গোপালপর বাড়িতে, শহিদের অটোর ব্যাটারী চুরি করতে। সেখানে গিয়ে অটোরিকশার ব্যাটারী চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে। 

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার সময় নিমাই টয়লেটে যাওয়ার উদ্দেশ্য টর্চ লাইট নিয়ে বের হয়। ঘরের পাশে খচমচ শব্দে, ঐ দিকে টর্চের আলো ফেলতেই নিমাই দেখে কে যেন অটো রিক্সার ব্যাটারী খুলতেছে। নিমাই দেরি না করে চোরকে জাপটে ধরে চিৎকার করে। তার ডাক চিৎকারে সবাই এগিয়ে আসে। তারা চোরকে রশি দিয়ে বাঁধে, খবর দেয় মেম্বর ও মাতাবরদের।

একে একে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পারিষদের মেম্বর শাহআলম, মফিজ ও কালাম এসে উপস্থিত হয়ে চোরের চাচা ও শশুর মাগুরিয়া গ্রামের মজিদ মোল্লা কে ডেকে আনে। পরে চর থাপ্পড় দিয়ে চোরকে চাচার হাতে তুলে দেয় মেম্বরা।

এ বিষয়ে শাহআলম মেম্বর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে চোর ধরে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে ঘটনা স্থলে গিয়ে সব শুনে  জাহালমের চুরি যাওয়া টর্চ ও মোবাইল ফোন ফেরত দেই। যেহেতু ব্যাটারী চুরি করতে পারেনি তাই আর বেশি কিছু না বলে নবী উজ্জ্বলের অভিভাবকে শাসন করে নিয়ে যেতে বলি। তখন মফিজ মেম্বর এবং কালাম মেম্মর সহ এলাকার অনেকেই উপস্থিত ছিলো।

নবী উজ্জ্বলের চাচা মজিদ মোল্লাও লজ্জার সাথে ঘটনার সত্য স্বীকার করে এমনটাই বলেন। ভাতিজার এমন কাজ করায় এলাকাবাসী তাকে চর-থাপ্পড় মেরে বেঁধে রেখে ছিলো। আমাকে শাসন করে নিয়ে আসতে বলায়, আবার চর-থাপ্পড় মেরে এনে ওর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, এসব চুরির ব্যাটারী উপজেলার ভূগোল হাট বাজারের শাজাহান নামক এক দোকানীর কাছে নবী উজ্জ্বল নিয়মিত বিক্রি করে আসছে। ঐ দিনও তার কাছেই বিক্রি করার কথা ছিলো। নবী উজ্জল সেজে দোকানীকে একাধিক বার ফোন করে ব্যাটারীগুলো নিয়ে যেতেও বলে এলাকাবাসীরা। 

এলাকাবাসীর সাথে কথা কথা বলে জানা যায়, গত বছর, ৩ জনের অটোরিক্সা থেকে ১১টি ব্যাটারী চুরির অপবাদ দিয়ে একজনকে ফাঁসিয়ে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলো শাহআলম মেম্মর। আর আজ চোর হাতেনাতে ধরলেও অজানা কারনে তাকে চর থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলো।

তারা আরো বলে, গত প্রায় ২ বছর যাবৎ প্রতিমাসেই ২-৪ টি চুরির ঘটনা ঘটে আসছে আমাদের গ্রামে। এছাড়াও মাগুরিয়া গ্রামে প্রায় প্রতিদিন বসে তাশ দিয়ে জুয়ার আসর। কেউ প্রতিবাদ করে না। তারা বলেন, এ সবের সাথে জড়িত সন্দেহজনক লোকদের কিছু বলতে গেলে লাশ হতে হবে। তাই ভয়ে সবাই চুপ থাকি।

আমরা খেটে খাই। ১টি অটো রিক্সার ব্যাটারী ক্রয় করতে ৪০-৬০ হাজার টাকা লাগে। এ ভাবে আমাদের রুটি-রুজির অবলম্বন অটোরিক্সার ব্যাটারী চুরি হলে, আমাদের তো ভিক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবেনা। তাই সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের পরিশ্রম করে পরিবার নিয়ে দু-বেলা খাওয়া, পড়ার বিষয়টি যেন নিশ্চিত করেন।

ট্যাগ: bdnewshour24