banglanewspaper

খাদ্রগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম হয়ে বেঁচে থাকা।  যে কোনো খাবার খেয়ে পেট ভরানো যায়, কিন্তু তাতে দেহের চাহিদা মিটিয়ে সুস্থ থাকা যায় না। এমনিতেই আমাদের দেশের বিরাট অংশের মানুষ সারা বছর অপুষ্টিতে ভোগেন। কিন্তু বর্তমানে করোনার কারণে সময় একটু খারাপ কাটছে। করোনায় কর্মহারিয়ে অনেকে সাধারণত ডাল ভাত খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এতে পেট ভরছে ঠিকই কিন্তু পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে কি করে?

এদিকে করোনা কালে কর্মহীন মানুষগুলো নিজেকে বাঁচাতে পুষ্টিগুণের পাশাপাশি খাবারের স্বাদও ভুলতে বসেছে। চড়া বাজার দরের কারণে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন পছন্দের মাছ-মাংস। মাছে ভাতে বাঙালি হলেও এই দুর্যোগকালে পাতে তুলতে পারছেন না মাছ! মাছে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন-ডি,ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড,ভিটামিন-এ,সেলেনিয়াম,অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।

সম্প্রতি জাপানের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এসেছে মাছ আপনার পুষ্টির সাধনের অন্যতম মাধ্যম। আর এই খাদ্যাভ্যাস যে কতটা ভাল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নিয়মিত মাছ খেলে দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায়।মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মেটাবলিজম বাড়াতে এবং দৃষ্টি শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

ন্যাশানাল সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন ইন টোকিওর স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসেই জরাকে জয় করে জাপানিরা। আর খাদ্যতালিকার প্রধান উপাদানই হচ্ছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত মাছ খেলে থাইরয়েড ফাংশন খুব ভাল থাকে। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত নিয়মিত মাছ খাওয়া।মাছে থাকা সেলেনিয়াম থাইরয়েড ফাংশনকে উন্নত করতে সাহায্য করে।

আর এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে তেলযুক্ত মাছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে উপস্থিত এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের উর্বরতাও যোগায়। 

 এছাড়া সিঙ্গাপুরের লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক সম্প্রতি দাবি করেন, দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। 

 দলের প্রধান নিকোলাস বাজানের দাবি, রেটিনার স্বাস্থ্য ধরে রাখতে পাতে রাখতে হবে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। ছোট মাছে উচ্চ পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে।যা,হাড়ের গঠনের জন্য ভীষণ দরকারি। সুতরাং,শক্তিশালী হাড় গঠনের জন্য ছোট শিশুদের নিয়মিত ছোট মাছ খাওয়ানো উচিত।

ট্যাগ: bdnewshour24