banglanewspaper

করোনা আক্রান্ত এক অভিবাসী নারীকে ইতালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপের অভিবাসন কেন্দ্র থেকে হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল। এ সময় হেলিকপ্টারেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। প্রসব বেদনা ওঠার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই নারীর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসির খবরে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাকে ল্যাম্পেদুসার একটি অভিবাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। যেখানে ধারণক্ষমতার চেয়েও ১০ গুণ বেশি বন্দি ছিল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারে এক ঘণ্টা দূরত্বের সিসিলির পালার্মো শহরের হাসপাতালে নিলে তিনি নিরাপদে সন্তান প্রসব করতে পারবেন, এ বিবেচনা থেকে ওই নারীকে সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কিন্তু মাঝপথে ফ্লাইটেই সন্তান প্রসব করেন তিনি। ওই নারী ও তার সন্তান এখন পালার্মোর হাসপাতালে আছেন। সদ্য মা হওয়া ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে শরণার্থী ইস্যু নিয়ে সিসিলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতালি সরকারের দ্বন্দ্ব চলছে। সিসিলির গভর্নর নেলো মিউসুমেকি অভিযোগ তুলে বলেছেন, আফ্রিকা থেকে আসা শরণার্থী স্রোত মোকাবিলায় রোমের পক্ষ থেকে তাকে যথেষ্ঠ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না।

ইতালি জানিয়েছে, চলতি বছর শরণার্থী স্রোত অনেক বেড়ে গেছে। জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার একটি উদ্ধারকারী জাহাজকে সিসিলি দ্বীপে ৩৫৩ জন শরণার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য পাঠানো হয়। চলতি বছর ইতালিতে হাজির হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি উদ্ধারকারী নৌযান থেকে প্রায় ৪শ জন শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তাদের বিষয়ে তখনও কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তারা অনেকটাই অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছিল।

পরবর্তীতে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠায় ইতালি। এদিকে, ২৭ জন শরণার্থীকে বহনকারী একটি ট্যাংকারও সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছে।

চলতি বছর ইতালির উপকূলে প্রায় ১৯ হাজার ৪শ শরণার্থী পৌঁছেছে। গত বছর ওই একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২শ। এ বছর শরণার্থীর স্রোত আগের সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছর ইউরোপে পৌঁছেছে ৪০ হাজারের বেশি শরণার্থী। আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগরে পাড়ি দিতে গিয়ে ৪৪৩ জন শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24