banglanewspaper

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর ফাঁসির মঞ্চে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়  বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

জ্যেষ্ঠ জেল  সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ১০ মিনিট পর অর্থাৎ ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কাসেম আলীর দেহ ফাঁসির মঞ্চ থেকে নামানো হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

প্রশান্ত কুমার আরো জানান, এরপর সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মীর কাসেমের মরদেহ মানিকগঞ্জে নিজ গ্রামে পাঠানো হবে। মীর কাসেমের ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর মরদেহ মানিকগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান জেল সুপার।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটি ফাঁসি কার্যকরের ষষ্ঠ ঘটনা।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর কনডেমড সেলে ছিলেন মীর কাসেম আলী। 

মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর পরই ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে কাশিমপুর কারাগারের চারপাশে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পোশাকে ও সাদাপোশাকে কাজ করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা ও গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যায় মীর কাসেমের সঙ্গে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে শেষ দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে প্রথম আলোকে তার স্ত্রী খন্দকার আয়েশা খাতুন বলেন, ‘তিনি (মীর কাসেম) আমাকে বলেছেন, তাকে ফাঁসির কথা জানানো হয়েছে। মানিকগঞ্জে তাকে দাফন করা হবে।’

মীর কাসেম শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে আয়েশা খাতুন বলেন, শেষ মুহূর্তেও ছেলের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন তিনি।

মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন গত মঙ্গলবার খারিজ করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। 

রিভিউ খারিজের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই কেন্দ্রীয় নেতার দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাওয়ায় তার ফাঁসি কার্যকর হয়।

 

ট্যাগ: bdnewshour24