banglanewspaper

করোনার কারণে জাপানের টয়োটার টয়োসু মাছের বাজার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা বিশ্বের বৃহত্তম ‘টুনাবাজার’ হিসেবেও পরিচিত। রেস্তোরাঁ মালিক ও পাইকারদের ব্যবসায় পতনের জেরে টুনাবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। 

মে মাসের শেষ দিকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পরে ব্যবসায়ীরা যে ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আশা করেছিলেন; তেমনটা হয়নি। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার মিটিং ও বিয়ের ভোজের মতো বড় ইভেন্টগুলো বন্ধ থাকার পাশাপাশি বেশির ভাগ জাপানিই রেস্তোরাঁয় যেতে ভয় পাচ্ছে।

বিভিন্ন ইভেন্টের জন্য আগে কিং অব সুশি ‘ব্লুফিন টুনা’র যে চাহিদা ছিল, মহামারীর ধাক্কায় তা কমে এসেছে। এক বছরের আগের তুলনায় গত জুলাইয়ে টুনার দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। সরকারি উপাত্তে আরো দেখা গেছে, জাপানের সার্বিক মাছের দাম বছওয়ারি ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

টোকিওর কান্দা বাণিজ্য অঞ্চলের টুনা খাবারের জন্য বিশেষায়িত ‘ইজাকায়া’ ডাইনিং বারের মালিক ইয়াসুয়ুকি শিমাহারা বলেন, গত আগস্টের তুলনায় আমাদের বিক্রি ৬০ শতাংশ কমেছে।

এক বছর আগে তার ডাইনিং বার চালু করা শিমাহারা এখন লোকসান এড়াতে গত জুলাই থেকে অনলাইনে গ্রাহকদের কাছে হিমায়িত টুনা বিক্রি শুরু করেছেন।

৫ হাজার ৫০০ ইয়েন বা ৫২ মার্কিন ডলার মূল্যের প্রতি বাক্সের জন্য এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২০০ ক্রয়াদেশ পেয়েছেন। ছোট্ট ওই বাক্সে ‘আকামি’ নামে দুই টুকরো রেড মিট টুনা দেয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ৮ হাজার ৫০০ ইয়েনে আরেকটু দামি ‘ছুতরো’ মিডিয়াম ফ্যাটি টুনা বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তিনি।

কিছু ক্রেতা যদিও তাদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের উপহার হিসেবে বাক্সগুলো কিনছেন, তবে এটা ডিফ্রস্টিংয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া বিরক্তির কারণ হয়েও দাঁড়িয়েছে। মাছটি বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিতে হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম মাছের বাজার টয়োসুর পাইকারি ব্যবসায়ী কিমিও আমানো (৪৬) বলেন, খানাগুলোয় ভোগ বাড়লেও অন্যান্য জায়গায় ব্যবসায় যে পতন হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়।

জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পরে তার মাছের জন্য রেস্তোরাঁগুলো থেকে ক্রয়াদেশ কিছুটা চাঙ্গা হলেও টোকিওর গিনজা অঞ্চলের মতো অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন বন্ধ থাকায় চাহিদা আগের স্তরে ফিরে আসেনি। তার মানে হচ্ছে বিভিন্ন ইভেন্টের বড় বড় ক্রয়াদেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। আগে বিয়ে ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ৩০ থেকে ৪০ কেজি করে টুনা মাছ কেনা হতো। এখন সুশি রেস্তোরাঁগুলো ৬ কেজি থেকে ১০ কেজির মতো টুনা কিনছে।

আমানো আরো বলেন, জুলাইয়ের শুরুর দিকে ব্যবসা কিছুটা চাঙ্গা হলেও কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে ফের শ্লথগতি দেখা দেয়। আগে যে পরিমাণ তাজা ও হিমায়িত টুনা বিক্রি করতেন, বর্তমানে তা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে বলে মনে করেন আমানো। বর্তমানে অবশ্য বৈদেশিক চাহিদার ওপর দাঁড়িয়ে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ায় রফতানি মহামারীপূর্ব সময়ের সমানে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানায়, ২০১৯ সালে জাপানের উচ্চমূল্যের টুনা আমদানি ১০ শতাংশ এবং ব্লুফিন টুনা আমদানি ১৩ শতাংশ বেড়েছে। মূলত ২০২০ সালের অলিম্পিক আয়োজন সামনে রেখে আমদানি বাড়তে শুরু করেছিল। ২০১৮ সালে বৈশ্বিক টুনা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের। এতে সবচেয়ে বড় অবদান জাপানের।

কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীতে জাপানের টুনা আমদানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে জাপানের টুনা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে। মানুষ এখনো ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে, এজন্য চাহিদা শিগগিরই চাঙ্গা হবে এমনটা আশা করা যাচ্ছে না। খবর রয়টার্স।

ট্যাগ: bdnewshour24