banglanewspaper

লাদাখের বিরোধপূর্ণ গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে গত মে মাস থেকে উত্তেজনা চলে আসছে। এবার প্যাংগং লেকের দক্ষিণ তীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) অবৈধভাবে অতিক্রম করে ভারতীয় সেনারা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চীন। 

চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) এক মুখপাত্র সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে দাবি করেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, চীনের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এই পাল্টা পদক্ষেপ কী ছিলো তা স্পষ্ট করা হয়নি। আর এই বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়নি। 
 
লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চলছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুই দেশের উত্তেজনা নিরসনে সম্মতিতে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, রাশিয়ার মস্কোতে চীন ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার রাতে চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীর এবং শেনপাও পার্বত্য এলাকায় ঢুকে পড়ে। 

পিএলএ’র পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল ঝ্যাং সুইলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অভিযানকালে চীনের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর টহল দলের ওপর মারাত্মক হুমকিমূলক গুলি বর্ষণ করে ভারতীয় বাহিনী আর মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় চীনা বাহিনী।’ 

ভারতের এই আচরণকে খুবই বাজে ধরণের মারাত্মক উস্কানি আখ্যা দিয়ে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ভারতীয় পক্ষকে মারাত্মক বিপদজনক পদক্ষেপ এখনই বন্ধ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আর ভারতের দাবি, গত দুই সপ্তাহে অন্তত দুইবার প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীরে চীনা সেনাবাহিনী উস্কানিমূলক কাজে জড়িত থেকেছে। 

তবে ভারত ‘নিয়ন্ত্রণ রেখার স্থিতাবস্থা বদলে দেওয়ার একক প্রচেষ্টা থামিয়ে দিতে’ সক্ষম হয় বলে দাবি করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, এসব ঘটনার সময়ে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে কোনও শারিরীক সংঘাতও হয়নি।

ভারতের দাবি, সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট দিনের বেলা এক অভিযানের সময়ে ভারতীয় সেনা সদস্যদের ঘিরে ফেলে চীনা বাহিনী। ভারতীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রিত পার্বত্য এলাকায় নিজেদের অবস্থান ফিরে পেতে চেষ্টা চালাতে গিয়ে ওই ঘটনা ঘটায় চীনা বাহিনী। 

ওই সময়ে চীনা বাহিনীকে থেমে যাওয়ার সতর্ক বার্তা দিয়ে দুই দেশের মাঠ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারা আলোচনায় বসে। উত্তেজনা নিরসনে তখনই দুই দেশের সেনা সদস্যদের নিজ নিজ অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট রাতে চীনা বাহিনী আরও একবার উস্কানিমূলক আচরণ করে বলে দাবি করে ভারত। প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীরে ওই সময়ে চীন বিপুল সেনা মোতায়েন করে সেখানকার পশ্চিমাঞ্চল দখলের চেষ্টা চালায়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতে জড়ায় ভারত ও চীনের সেনা সদস্যরা। এতে ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত হয়। তবে চীনের তরফে কোনও হতাহতের কথা জানানো হয়নি। ওই সংঘাতের পর জুলাই মাসে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয় ভারত ও চীন। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।

ট্যাগ: bdnewshour24