banglanewspaper

দিনদুপুরে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে খালাস পেয়েছেন বাকি ৪ জন। 

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরগুনা জেলা দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। 

মেয়ের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিন্নির বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। সঠিক বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।’

এদিন সকালে মেয়েকে আদালতে নিয়ে আসার পর রায় ঘোষণার আগে মিন্নির বাবা মেয়ে ‘বেকসুর খালাস পাবে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমরা আসলেই হয়রানির শিকার। জীবনবাজি রেখে মিন্নি তার স্বামীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মিন্নি প্রথমে স্বামী হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ছিল। পরে তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। যা খুবই কষ্টকর।’

মিন্নি ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড অন্য ৫ আসামি হলো- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২) ও মো. হাসান (১৯)। 

আলোচিত এ মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলো- মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

গত বছরের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৭ জুন সকালে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে প্রথমে ১২ জনের নাম ও আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। 

পরে ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওইদিনই রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তখন স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মিন্নি। 

গত ১ জানুয়ারি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ মামলার ১০ প্রাপ্তবয়স্ক আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। 

এরইমধ্যে গেল ১৯ জুলাই মিন্নি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মিন্নিকে বরগুনা জেলা জজ ৩০ জুলাই জামিন নামঞ্জুর করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। 

গত ২৯ আগস্ট দুই শর্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মিন্নি। রাষ্ট্রপক্ষ মিন্নির জামিন বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার বিচারপতি। 

ট্যাগ: bdnewshour24