banglanewspaper

আন্দোলনের নামে কোনও ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি, জনভোগান্তি এবং জানমালের ক্ষতি সরকার মেনে নিবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  

তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের নামে কোনও অপশক্তি দেশের বিদ্যমান শান্তি ও স্বস্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’  

রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। 

আগামী দুই মাসের মধ্যে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের মাঠে নামার প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মাঠে থাকুক তা আমরাও চাই। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই জনগণ চায়। আন্দোলনের নামে কোনও ধরনের সন্ত্রাস সৃষ্টি, জনভোগান্তি এবং জানমালের ক্ষতি সরকার মেনে নেবে না।’

বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলার কল্পিত অভিযোগের ভাঙা রেকর্ড বাজানো এখনো অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন সড়কমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘আসন্ন উপনির্বাচনে ভরাডুবির আশংকায় বিএনপি এখন থেকেই হামলার মিথ্যা অভিযোগ করছে। ভোটারদের আস্থা অর্জনে তাদের কোনও পুঁজি নেই। তাই বিএনপি মিথ্যাচারের ভেলায় চড়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার অপচেষ্টা করছে।’ 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রার্থীরা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চাইলেও বিএনপির হাইকমান্ডের অপরাজনৈতিক কৌশলের কারণে প্রার্থীরা ভোটে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় একান্ত অনিচ্ছায়। নির্বাচন করা বিএনপির আসল লক্ষ্য নয়। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।’

তিনি বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকার স্বোচ্চার, অনিয়ম উদঘাটন করে সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, কারো চাপে পড়ে নয়। যাদের হাত দিয়ে এদেশে দুর্নীতি বটবৃক্ষে রূপ নিয়েছিলো তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে- একথা শুনলে জনগণের হাসি পায়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীদের মতে তারা এখন কোমর ভাঙা রাজনৈতিক দল। নির্বাচন ও কমিটি গঠনের সময় এলে বিএনপি নেতারা বাণিজ্য করছে বলে তাদের কর্মীদের প্রকাশ্যে অভিযোগ আছে। তাই তারা নাকি অনিয়ম দূর করার আন্দোলন করবে? জণগণ তা বিশ্বাস করে না।’ 

আওয়ামী লীগের জমা দেয়া কমিটির প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে সকল কমিটি জমা পড়েছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে কমিটি করতে হবে। দুর্যোগ দুর্বিপাকে একমাত্র আওয়ামী লীগই জণগণের পাশে থাকে। একদিকে করোনা মহামারি আর অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলতার সাথে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা এবং উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান। 

পরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ করেন নেতৃবৃন্দ। 

ট্যাগ: bdnewshour24