banglanewspaper

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ মানেই কাড়ি কাড়ি টাকার গন্ধ। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলোও তাই ভারতকে বেশি কিছু বলতে চায় না। কিন্তু করোনার এই সময়টায় নিজের দেশের জনগণের স্বার্থ তো আগে। তাই ভারতীয় দলকে কোয়ারেন্টাইনের ব্যাপারে কোনোরকম ছাড় দিতে নারাজ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

যে ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি চলছে তো চলছেই। ভারত ইতোমধ্যে হুমকি দিয়ে বসেছে, যদি তাদের জন্য নিয়ম শিথিল করা না হয়, তবে ব্রিসবেনে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট না খেলেই দেশের বিমান ধরবে দল।

জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে কোভিড-১৯ এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন নিয়মনীতি চালু রয়েছে এবং কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের অন্তর্গত গ্যাবায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফ থেকে যে কঠোর নিয়মবিধি বলবৎ রয়েছে তাতে সেখানে গিয়ে ফের কঠোর কোয়ারেন্টাইনে প্রবেশ করতে হবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের।

কুইন্সল্যান্ড প্রশাসন জানিয়েছে, সিডনি থেকে যাওয়া দুই দেশের ক্রিকেট দলকেই গ্যাবায় প্রবেশ করে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। অর্থাৎ, আইপিএল খেলে সিডনিতে পৌঁছনোর পর যেভাবে তাদের উপর ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনের নীতি আরোপিত হয়েছিল, সেভাবে তাদের ফের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে ১৪ দিন।

কিন্তু দ্বিতীয়বার হোটেলরুমে বন্দি থেকে কোয়ারেন্টাইনের দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিতে চান না ভারতীয় ক্রিকেটাররা। ভারতীয় দলের এক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ‘আমরা দুবাইয়ে গিয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থেকেছি। এরপর সিডনিতে এসেও একই জিনিস করেছি। অর্থাৎ, জৈব সুরক্ষা বলয়ে আমরা প্রায় একমাস কাটিয়েছি। কিন্তু এখানে সফর শেষেও একই কাজ করতে আমরা মোটেই ইচ্ছুক নই।’

সে কারণে প্রয়োজনে সিডনিতেই তৃতীয় টেস্ট খেলে দেশে ফিরতে চায় টিম ইন্ডিয়া। নতুবা অন্য এমন কোনো শহরে খেলতে চায়, যেখানে কোয়ারেন্টাইনের বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মনোভাবও এমন, ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।

সিডনিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু ৭ জানুয়ারি থেকে। তার আগে ভারতের চতুর্থ টেস্টে খেলা না খেলা নিয়েই আলোচনা বেশি। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেইনও স্বীকার করলেন, পুরো ব্যাপারটা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এবং দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে তাদের।

টেস্টের আগের দিন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে পেইন বলেন, ‘এটা নিয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে সত্য। কিছু একটা তো হচ্ছেই। এটা শুধু ক্রিকেটের কারণে নজরে আসছে তা নয়, অনেক অসমর্থিত সূত্রের খবর দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, তারা চতুর্থ টেস্ট অন্য জায়গায় খেলতে চায়, সেখানে যাবে না। দেখা যাক, কী হয়।’

স্বাগতিক অধিনায়ক হিসেবে কি বাড়তি হতাশা কাজ করছে? পেইনের দুশ্চিন্তা আসলে ভারতের ক্ষমতা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ভেতরে হতাশা কাজ করছে না। তবে ভারতের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের ক্ষমতাশালী এক দলের কাছ থেকে এমন কথা শুনলে কিছুটা অনিশ্চয়তা তো তৈরি হয়ই। মনে হচ্ছে, কিছু একটা হতে পারে।’

সেই কিছু একটা কি? ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, দলের এক সূত্র জানিয়েছে, যদি অস্ট্রেলিয়া কোয়ারেন্টাইন নিয়ে তাদের জেদ ধরে বসে থাকে, তবে সিরিজ শেষ না করেই দেশে ফিরে আসতে পারে ভারত।

সূত্রটির সাফ কথা, ‘সংকটে ভুগতে থাকা অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের এই সিরিজ থেকে যথেষ্ট লাভ হচ্ছে। তাহলে ভারতকে দয়া করা হচ্ছে, এমন মনোভাব দেখানো হচ্ছে কেন?’

সব মিলিয়ে, ব্রিসবেন টেস্ট নিয়ে জট কেবল বাড়ছে। সেই জট আদৌ খুলবে নাকি সিরিজ শেষ না করে দেশে ফেরত আসার মতো কঠিন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে ভারত, দেখতে সময়ের অপেক্ষা।

ট্যাগ: bdnewshour24