banglanewspaper

দেশের ‘সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে’ নারীর নিকাহ রেজিস্টার (বিয়ের কাজী) হতে পারবেন না মর্মে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। নিজাপুরের এক নারী রেজিস্ট্রার প্রার্থীর রিট খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের পাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন।

রবিবার (১০ জানুয়ারি) রায়ের বিষয়টি সাংবাদিদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস কে সাইফুজ্জামান। 

তিনি বলেন, নারীর নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে নির্দেশনা দিয়ে গতকাল (৯ জানুয়ারি) এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। রিটের পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিসকোয়ালিফেশন থাকেন। মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিয়ের অনুষ্ঠান হয় মসজিদে। ওই সময়ে নারীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারে না। এবং তারা নামাজও পড়তে পারে না। সুতরাং বিয়ে যেহেতু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। এই পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন।

এর আগে, গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে আইন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট।

দিনাজপুরের এক নারী নিকাহ রেজিস্ট্রার প্রার্থী আয়েশা সিদ্দিকার রিট খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে তিনজন মহিলার নাম প্রস্তাব করেন উপদেষ্টা কমিটি। তিন সদস্যর এই প্যানেল আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ট্যাগ: bdnewshour24