banglanewspaper

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে বাংলাদেশ- এই একটি সিদ্ধান্তই সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আর পরনির্ভরশীল নয়।’

সোমবার (১১ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।  

বৈঠকে পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের জন্য প্রধানমন্ত্রী কারও নাম উল্লেখ না করে এক ব্যক্তির প্রতি অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে তার ব্যাংকের এমডি পদ আঁকড়ে থাকার প্রচেষ্টাকে দায়ী করেন। 

তিনি বলেন ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পেছনে আমাদের দেশেরই স্বনামধন্য কিছু লোক জড়িত, যেটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’

তিনি বলেন, ‘একটি ব্যাংকের সামান্য এমডি পদের লোভে দেশের ক্ষতি করতে চেয়েছিল। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে যেটি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে, যে পদ্মা সেতু আমাদের দক্ষিণের ২২টি জেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি শতকরা ২ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে সেটি বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছিল। যাহোক একটি আঘাত আসলে হয়তো মানুষ সচেতন হয় এবং নিজের কাজ করা শেখে, আমরা সেটাই শিখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই আঘাতটা আসাতে আমরা হতাশ না হয়ে বরং সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দিই এবং যেটা আজকে বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কোভিড-১৯ এর জন্য জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘটা করে পালন করতে না পারলেও দেশের সব জনগণকে একটি ঘর করে দেয়ার মাধ্যমে দেশের সব ভূমিহীন, নিঃস্ব, হতদরিদ্র পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশে আর একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সব ঘরে বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দিয়ে আমরা আলো জ্বালব। জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে মৌলিক চাহিদাগুলো তার সরকার পূরণ করবে। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে এবং সেভাবেই দেশকেও এগিয়ে নিয়ে জাতির পিতার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

ট্যাগ: bdnewshour24