banglanewspaper

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে বিধ্বস্ত শ্রীবিজয়া এয়ারের বিমানটির হতভাগ্য যাত্রীদের স্বজনরা প্রিয়জনদের খবর পাওয়ার অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ এখনও তাদের প্রিয়জনের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। স্বজনরা আশায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।

গত শনিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে শ্রীবিজয়া এয়ারের ফ্লাইটটি ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পনতিয়ানাক রওয়ানা হওয়ার চার মিনিটের মধ্যে রাডার থেকে হারিয়ে যায়। 

পরে বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লাকি দ্বীপের কাছে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা ৬২ জন আরোহীর বেঁচে থাকার আশা আর নেই বললেই চলে।

বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে ওই এলাকায় সাগরের পানি থেকে মানবদেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো থেকে কারও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই উদ্ধার অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ লোক অংশ নিয়েছেন। ৫০টিরও বেশি জাহাজ ও ১৩টি এয়ারক্রাফট এতে যুক্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সাগরের ৭৫ ফুট গভীর থেকে অনেক আরোহীর শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিমানের বিভিন্ন টুকরা, যাত্রীদের জামাকাপড় উদ্ধার হয়েছে। 

বিমানে থাকা ২৯ বছরের আনগা এখনো বেঁচে আছেন বলেই মনে করেন তার মা আফরিদা। পশ্চিম সুমাত্রার বাসিন্দা আফরিদা বলেন, ‘জাকার্তায় থাকা পরিবারের সদস্যরা আনগার খোঁজ করছেন। আমিও সেখানে যেতে চাই। কিন্তু মহামারির কারণে তার যাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

মাত্র এক সপ্তাহ আগে নাবিক আনগা প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন। ছেলের নাম রেখেছেন আলভানো ফায়েজা আলিনগা। 

তার মা জানালেন, বাবা হওয়ার পর আরও পরিশ্রমী হন আনগা। মা শান্তভাবে বললেন, যদি ছেলে মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে আসবেন। ঠিকভাবে দাফন করবেন। সে সময় তাঁর হাতে আনগার ছবিটি ধরা ছিল।

ট্যাগ: bdnewshour24