banglanewspaper

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নাশকতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের সর্বত্র সতর্কাবস্থা লক্ষ করা গেছে।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে বাইডেনের বিজয় নিশ্চিতের দিন ট্রাম্প-সমর্থকরা পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালায়। এ কারণেই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ডেমোক্রেটদের উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সময়ের আগে অভিশংসিত করলেও তার সমর্থকদের মধ্যে সহিংস আচরণ দেখা যেতে পারে। এ নিয়ে এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যান্য সংস্থা মাঠে নেমেছে।

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও ৫০ অঙ্গরাজ্যের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে এ ব্যাপারে প্রচারপত্রও বিলি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে সতর্কতাসহ ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ১৫ হাজার অতিরিক্ত ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হচ্ছে।

যদিও শপথ নিতে যাওয়া বাইডেন বলেছেন, উন্মুক্ত স্থানে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস মোটেই ভীত নন।

অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে ২০ জানুয়ারির শপথ অনুষ্ঠান সাজানো হচ্ছে। ছয় দিন আগে থেকেই সবকিছু প্রস্তুত থাকবে। এর মধ্যেই কার্যকর নিরাপত্তার নির্দেশনা দিয়ে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি–প্রধান চ্যাড উলফ নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

গত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের আহ্বানে ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হওয়া লোকজন ফের সহিংসতায় জড়িত হতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে সাবেক সেনা ও পুলিশের লোকজন সমাবেশে যোগ দিয়ে সহিংসতায় অংশ নিতে পারে। সাবেক এসব পেশাজীবীকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এখন আগাম ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ট্রাম্প-সমর্থক উগ্রবাদীরা আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র মহড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের আগে ১৭ জানুয়ারি তারা এমন সমাবেশের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। 

এফবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ একটি স্মারক উল্লেখ করে এবিসি নিউজসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বলেছে, ট্রাম্পকে সময়ের আগে ক্ষমতাচ্যুত করার যেকোনো প্রয়াসে সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আদালত ভবন, অঙ্গরাজ্য সভা, নগর ভবন, ফেডারেল ভবন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ট্যাগ: bdnewshour24