banglanewspaper

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা। 

রবিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার (বিএনপিবি) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে। 

গেল শুক্রবার সকালে সুলাওয়েসি দ্বীপে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৮২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর প্রায় ১৫ হাজার লোক বসতভিটা ছেড়ে গেছে। তাদের অনেকেই উদ্বাস্তু হয়ে পর্বতগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। দ্বীপজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ঘুমন্ত শহরটি হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে মানুষ ঘর ছেড়ে যে যার মতো ছুটতে থাকে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মাজনে শহর থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূ-স্থল থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটির স্থায়ীত্ব ছিল ৭ সেকেন্ড।

ঠিক তার আগের দিন বৃহস্পতিবারও মাজনে শহরটিতে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফার এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে অনেক স্থানে ভূমিধস দেখা দেয়। 

তবে এখনও পর্যন্ত সুনামি সতর্কতা জারি না হলেও ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থার প্রধান দ্বিকোরিতা কার্নাওয়াতি গতকাল শনিবার স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেছেন, আরেকটি ভূমিকম্প  হতে পারে এবং সেটি ৭ মাত্রা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। সুনামি ঝুঁকির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাগর এলাকা থেকে নিরাপদ দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি। 

প্রশান্ত মহাসাগরের কথিত ‘রিং অব ফায়ার’ (প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা) এর ওপর ছড়িয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ায় মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প প্রবণ দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ২০১৮ সালে সুলাওয়েসির পালু শহরে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাতে হাজারও মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। 

ট্যাগ: bdnewshour24