banglanewspaper

করোনার কারণে অনুষ্ঠিত না হওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঘোষিত ফল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট থেকে ফল ঘোষণা করা হয়। 

এর আগে গণভবন থেকে অনলানে যুক্ত হয়ে ডিজিটালি এই পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হয়ে যাক সেটি আমরা চাইনি, এজন্য ফলাফল ঘোষণা দিলাম।”

শেখ হাসিনা বলেন, ভেবেছিলাম অবস্থার পরিবর্তন হলে পরীক্ষা নিতে পারব। কিন্তু নতুনভাবে সংক্রমিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একই পদ্ধতিতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

দুই পরীক্ষার ফলাফল ভিত্তিতে এইচএসসির মূল্যায়নের ফল প্রস্তুত করা কঠিন কাজ ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এ কাজটি করতে পেরেছেন তারা সবাই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

এ সময় তিনি করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল নিয়ে বা ফল দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

ফল ঘোষণার সময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

করোনার কারণে অনুষ্ঠিত না হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবাই পাস করেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে এর মধ্য জিপিএ–৫ (গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন পরীক্ষার্থী, যা মোট পরীক্ষার্থীর ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। 

করোনায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না হওয়ায় এসএসসি ও জেএসসির পরীক্ষার গড় ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। জেএসসির ফল থেকে ২৫ শতাংশ এবং এসএসসির ফল থেকে ৭৫ শতাংশ নিয়ে গড় করে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। 

গত ৭ অক্টোবরে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা সরাসরি গ্রহণ না করে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের এইচএসসি শিক্ষার্থীরা দুটি পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে এসেছে। এদের জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড় অনুযায়ী এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের বছরের পর এবার মহামারির মধ্যে পরীক্ষা ছাড়া সব শিক্ষার্থীকে পাস করানো হল। 

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, সাধারণ ও মাদরাসা বোর্ডের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়গুলোকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান এবং একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার বিষয়গুলোকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুত হয়েছে ফল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রকাশ করা হয়। সমন্বয়কৃত বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরের গড় মানের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক নম্বর প্রতিস্থাপন করে বিদ্যমান পদ্ধতিতে গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণের মাধ্যমে জিপিএ চূড়ান্ত করা হয়।”

এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রুপ বা বিভাগ পরিবর্তনকারী পরীক্ষার্থী, বোর্ড পরিবর্তনকারী পরীক্ষার্থী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত পরীক্ষার্থী, অনিয়মিত পরীক্ষার্থী, মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী, সমতুল্য সনদপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থী ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের ফলাফল পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়।

দীপু মনি বলেন “ফলাফলে কোনো শিক্ষার্থী সংক্ষুব্ধ হলে রিভিউ চেয়ে আবেদন করতে পারবে।”

তিনি জানান, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা না হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের ফরমপূরণ বাবদ আদায়কৃত অর্থের অব্যয়িত অংশ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যদি মূল্যবোধ তৈরি না হয়, তাহলে শুধু বেশি নম্বর পেয়ে কী হবে, মানবিক গুণে গুণান্বিত হও; চারপাশে তাকাও- মানুষকে ভালবাসো। নীতি নৈতিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠো, স্বদেশ প্রেমে উজ্জীবিত হও, নিঃস্বার্থ চিত্তে মানব কল্যাণে নিবেদিত হও।”

দীপু মনি অভিভাবকদের প্রতি বলেন, “আপনার সন্তানকে অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না, স্বার্থপর হিসেবে গড়ে তুলবেন না। দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হওয়ার শিক্ষা যদি আপনার সন্তান না পায়, মনে রাখবেন এ শিক্ষা অর্থবহ হবে না, শিক্ষার আসল উদ্যেশ্যই ব্যাহত হবে।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা শিক্ষকতা পেশায় আছেন, আপনাদের দায়িত্ব অনেক অনেক বেশি। শিক্ষার গুণগত পরিবর্তনে বিষয়ভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষাদানে আপনাদের ভূমিকাই প্রধান। মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরির ক্ষেত্রেও আপনারাই রাখতে পারেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।”

জানা গেছে, এই মূল্যায়নের কাজটি করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করেছে। বিভাগ পরিবর্তনজনিত (যারা বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা অন্য বিভাগ পরিবর্তন করেছে) কারণে যে সমস্যাটি হবে তা ঠিক করতেও বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করেছে। এই বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের পরামর্শ বা মতামত দিয়েছে। সেই পরামর্শের ভিত্তিতে এই মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হচ্ছে আজ।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, দুভাবে ফল জানা যাবে। প্রথমত যারা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রাক‌–নিবন্ধন করে রেখেছে, তাদের দেওয়া নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তায় ফল জানানো হবে। এ ছাড়া বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ফল জানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই শিক্ষার্থীদের।

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল: যারা মুঠোফোনের খুদেবার্তার মাধ্যমে ফলাফল পেতে ইচ্ছুক তাদের ফলাফল প্রকাশের আগেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে : HSC< >Board name (First 3 letter) <> Roll<>2020 টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফল প্রকাশের সাথে সাথেই প্রি-রেজিস্ট্রেশনকৃত পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের ফল পৌঁছে যাবে। টেলিটক ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd-এ ফল দেখা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

ফল সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, এবার ফল অনলাইনে প্রকাশিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ফল পাঠানো হবে না। কাজেই কোনো অবস্থাতেই ফল প্রকাশের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত হওয়া যাবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি ছাত্রছাত্রী। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির কিছু বেশি। আর কলেজে মোট শিক্ষার্থী প্রায় অর্ধকোটি। বাকি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর করোনার সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়, যা দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাপঞ্জি ওলটপালট হয়ে গেছে। দীর্ঘ এই বন্ধের ফলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলে আসছেন শিক্ষাবিদেরা। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, এই চার কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি পোষানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন তারা।

ট্যাগ: bdnewshour24

জাতীয়
চলতি অধিবেশনেই ইসি গঠনে আইন পাসের চেষ্টা থাকবে: আ.লীগ

banglanewspaper

প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কমিশনার নিয়োগ ও নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশন গঠনে মন্ত্রিসভা যে আইনের খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে তা চলমান অধিবেশনেই পাস হওয়ার সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে দলটি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপে অংশ নেয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, আওয়ামী লীগের দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজস্ব বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবেন এবং সংবিধান অনুযায়ী নিয়োগসংক্রান্ত উপযুক্ত আইন করা যেতে পারে। যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়ার জন্য আইন করার গুরুত্ব রয়েছে। ইসিকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করার বিষয়েও সংলাপে গুরুত্ব দিয়েছে দলটি।

এর আগে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংলাপে অংশ নেয় দলটির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ওই প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে নির্বাচন কমিশন গঠনে দলীয় প্রস্তাব তুলে ধরে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বৈঠকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে ‘গণতন্ত্র ও নির্বাচন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শিরোনামে দলের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনায় নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ, নির্বাচন কমিশনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন ও সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয় এবং এই ধরনের অর্থবহ সংলাপ আহ্বানের মধ্য দিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত যেকোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি আমাদের পরিপূর্ণ আস্থা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত মূল বিধানাবলী দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানেই (অনুচ্ছেদ ১১৮-১২৬) উল্লেখ রয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের বিষয়ে বৈঠকে তারা কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন-

(ক) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন।

(খ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দান করবেন।

(গ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান সাপেক্ষে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের কোনো আইন না থাকায় সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণের নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান ব্যতিরেকে অন্য কোনো আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে যেকোনো আইন হবে সাংবিধানিক বিধান মতে একটি বিশেষ ধরনের আইন। এই বিশেষ ধরনের আইন প্রণয়নের জন্য আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট উদাহরণ ছিল না।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে একটি রাজনৈতিক মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি সাংবিধানিক রীতি ও রাজনৈতিক অনুশীলন (Constitutional Convention) প্রতিষ্ঠা করেছে। এই সাংবিধানিক রীতিটি হলো ‘সার্চ কমিটি/অনুসন্ধান কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে সকলের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন। এই ব্যবস্থাটি এখন পর্যন্ত দুইবার (২০১২ এবং ২০১৭) অনুশীলন করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। দুই বারই দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ এই অনুশীলনে অংশগ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায়, এই রীতিটির আলোকে এবং এই প্রক্রিয়ালব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

(ঘ) সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সকল নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মো. আব্দুর রহমান, মুহাম্মদ ফারুক খান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

ট্যাগ:

জাতীয়
নতুন জেলা পরিষদ গঠনের আগে পূর্ববর্তীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ

banglanewspaper

জেলা পরিষদগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন জেলা পরিষদ গঠনের আগে পূর্ববর্তী জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের জেলা পরিষদ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপর্যক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী জেলা পরিষদসমূহের মেয়াদ পরিষদের প্রথম সভার তারিখ হতে পাঁচ বছর। তবে পরবর্তী পরিষদ প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

এমতাবস্থায়, বর্তমান জেলা পরিষদসমূহের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী পরিষদসমূহকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ট্যাগ:

জাতীয়
শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে, মৃত্যু ১০

banglanewspaper

দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু, শনাক্ত এবং শনাক্তের হার সবই বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ছয় হাজার ৬৭৬ জনের শরীরে। এই সময়ে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২০.৮৮ শতাংশে। আর গত এক দিনে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।

সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনায় দেশে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৫৪ জনের। আর মোট শনাক্তের পরিমাণ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৭।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৯৮০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪২৭ জন। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩২০ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে চারজন পুরুষ, ছয়জন নারী। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের সাতজন, চট্টগ্রাম বিভাগের একজন এবং বরিশাল বিভাগের একজন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে সংক্রমনের এই ঊর্ধ্বগতি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সোমবার মন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমরা ঢাকায় কিছু জরিপ করেছি। সেই জরিপে দেখা গেছে, ঢাকাতে করোনা শনাক্তের ৬৯ শতাংশই ওমিক্রন ধরন। সেটা আগে ১৩ শতাংশে ছিল। ১০ দিনের জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপটি শুধু ঢাকায় করা হয়েছে। আমার মনে হয়, ঢাকার বাইরেও একই হার হবে।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। এরপর থেকে মাঝখানে দুই দিন কেটেছে মৃত্যুহীন। এছাড়া বাকি সব দিনই মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত চরম আকার ধারণ করলেও সেপ্টেম্বর থেকে তা কমতে শুরু করে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অব্যাহতভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। সরকার ইতিমধ্যে ওমিক্রন ঠেকাতে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে। তবে সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগ:

জাতীয়
দেশে করোনা শনাক্তের ৬৯ শতাংশই ওমিক্রন!

banglanewspaper

মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে যত শনাক্ত হচ্ছে এর ৬৯ শতাংশই নতুন ধরন ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আক্রান্তদের বেশির ভাগ রাজধানী ঢাকার বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকায় কিছু জরিপ করেছি। সেই জরিপে দেখা গেছে, ঢাকাতে করোনা শনাক্তের ৬৯ শতাংশই ওমিক্রন ধরন। সেটা আগে ১৩ শতাংশে ছিল। ১০ দিনের জরিপে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপটি শুধু ঢাকায় করা হয়েছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমার মনে হয়, ঢাকার বাইরেও একই হার হবে। করোনা শনাক্তের হার ১৮ শতাংশ হওয়ার পেছনে কারণই হচ্ছে এটা। হাসপাতালে ১০ শতাংশ হারে রোগী ভর্তি বাড়ছে।’

মন্ত্রী বলেন,‘ওমিক্রন দিনে দিনে ধাপে ধাপে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত ও আতঙ্কিত। আমরা চাই না এভাবে করোনা আবার বাড়ুক। গত ১৫ দিনের করোনা শনাক্তের হার ১৮ শতাংশে উঠে আসছে। গতবার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ২৯-৩০ শতাংশে উঠতে সময় লেগেছে এক মাস। এভার করোনা যেভাবে বাড়ছে তাতে ৩০ শতাংশ হতে বেশি দিন লাগবে না।’

ইতিমধ্যে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০০ জনের ওপরে যাচ্ছে। এই হারে যদি করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তাহলে এক দেড় মাসের মধ্যে হাসাপাতালে আর কোনো জায়গা থাকবে না। তখন চিকিৎসা দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।’

ট্যাগ:

জাতীয়
ইসি গঠন নিয়ে যে চার প্রস্তাব দিলো আ’লীগ

banglanewspaper

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়ে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী করা, কমিশন গঠনে আইন করা এবং সব ধরনের নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে এসব প্রস্তাব দেয়।

পরে দলটির কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে-

>> সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন।

>> প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, সেই প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগদান করবেন।

>> প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান সাপেক্ষে একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের কোনো আইন না থাকায় সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণের নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান ব্যতিরেকে অন্য কোনো আইন প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাংবিধানিক চেতনা সমুন্নত রাখতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারগণের যোগ্যতা-অযোগ্যতা এবং তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

>> সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে সব নির্বাচনে অধিকতর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এর আগে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে প্রতিনিধি দল নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫টা ১০ মিনিটে বৈঠক শেষে বের হন তারা।

ট্যাগ: