banglanewspaper

পুষ্টিগুণে অনন্য কলমি শাক এক ধরনের অর্ধ জলজ লতা। জলে জন্মে, জলেই বেড়ে ওঠা শাকটি ভর্তা, ভাজি অথবা তরকারী হিসেবে খাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশে সাধারণত একে ভাজি করেই খাওয়া হয়ে থাকে। দামে কম ও সহজলভ্য এই শাকের উপকারিতাও রীতিমতো অবিশ্বাস্য!

প্রতি ১০০ গ্রাম কলমি শাকে রয়েছে ২৯ কিলোক্যালোরি, সোডিয়াম ১১৩ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩১২ মিলিগ্রাম, খাদ্যআঁশ ২.১ গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম, কর্বোহাইড্রেটস ৫.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭৩ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৫ মিলিগ্রাম, জলীয় অংশ ৮৯.৭ গ্রাম।

চলুন জেনে নেয়া যাক, ঠিক কি কারণে কলমি শাক খাবার টেবিলে রাখা দরকার!

৥ রোগ প্রতিরোধক: কলমি শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। এই শাকটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশক্তি থাকায় শারীরিক দুর্বলতা দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। রোগীদেরকে দ্রুত সুস্থ্য হবার জন্য তাই কলমিশাক খাওয়ানো হয়ে থাকে।

৥ হাড় শক্ত করে: কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে বলে এ শাক হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কলমি শাক খাওয়ালে তাদের আর বাজারের প্রচলিত চটকদার ফুড সাপ্লিমেন্টের দরকার হয় না।

৥ চোখ ভালো রাখে: কলমি শাক চোখের জন্য বিশেষ উপকারী। কলমিশাক দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে। এছাড়া আঁশে ভরপুর শাকটি খাদ্য হজম, খাদ্য পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ায় সাহায্য করে। নিয়মিত কলমি শাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হয়।  

৥ বসন্ত রোগে: কলমি শাক বসন্ত রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া হাত-পা বা শরীর জ্বালা করলে কলমী শাকের রসের সঙ্গে একটু দুধ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

৥ রক্তশূন্যতায়: কলমি শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে লৌহ থাকায় রক্তশূন্যতার রোগীদের জন্য দারুণ উপকারী। শরীরে প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ ঠিক রাখতেও এই শাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের মাঝে মাঝে বিনা কারণে মাথাব্যথার সমস্যা আছে, তারা কলমি শাক খেলে উপকার পাবেন। অনিদ্রা দূরীকরণেও কলমি শাক খেতে পারেন।

ট্যাগ: bdnewshour24