banglanewspaper

বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্তে গেল বছরের জুনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ চীনা সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা অবশেষে স্বীকার করে নিয়েছে বেইজিং। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের প্রায় ৮ মাস পর শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে এ তথ্য জানিয়েছে। 

নিহত ওই ৪ সেনা কর্মকর্তাকে মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে চীনা সেনাবাহিনীর সংবাদমাধ্যম ‘পিএলএ ডেইলি’।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহত ৪ সেনা কর্মকর্তার নাম চেন হংজুন, চেন শিয়াংরং, শাও সিয়ুয়ান এবং ওয়াং ঝৌরান। তারা শর্ত লঙ্ঘন করে অনুপ্রবেশকারী ‘বিদেশি বাহিনী’র সঙ্গে ‘ভয়ঙ্কর লড়াই’য়ে প্রাণ হারান।

এদিকে চীনের ক্ষমতাসীন দল কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি) এর ট্যাবলয়েড গ্লোবান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত সেনা কর্মকর্তা চেন হংজুনকে ‘সীমান্ত রক্ষার নায়ক’ এবং বাকি তিনজনকে ‘ফার্স্ট-ক্লাস মেরিট’ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জিনজিয়াং মিলিটারি কমান্ডের রেজিমেন্টাল কমান্ডার কিউ ফাব্যাওকেও মরণোত্তর পুরস্কৃত করা হয়েছে। 

দীর্ঘ ৪৫ বছর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পর গত বছরের জুনে লাদাখের চীন-ভারত সীমান্ত আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। দু’পক্ষই সীমান্তে সেনা ও সমরাস্ত্র বাড়ায়। একে অপরের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। 

১৫ জুন রাতে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে শারীরিক সংঘাত শুরু হয়। উভয়পক্ষ ইট-পাথর নিক্ষেপ করে এবং লাঠি নিয়ে দুপক্ষের সেনারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত ও ৭৬ জন আহত হয়। 

সংঘর্ষে চীনের ঠিক কতজন সেনা হতাহত হয়েছে তা নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে নানা রকম তথ্য দেয়া হলেও এ নিয়ে এতদিন নীরব ছিল চীন। অবশেষে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে নিহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করলো বেইজিং।

ট্যাগ: bdnewshour24