banglanewspaper

বাংলা ভাষার ব্যবহার উচ্চ আদালতেও বাড়ছে। হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি নিয়মিত বাংলায় রায় দিচ্ছেন। আরও বেশ কয়েকজন বিচারপতি ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় রায় লিখেছেন। তবে এ পর্যন্ত কতগুলো রায় ও আদেশ বাংলায় হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, উচ্চ আদালতে আবেদনও এখন বাংলায় করা যাচ্ছে। ফলে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ স্বস্তিবোধ করছেন। এছাড়া ইংরেজিতে দেওয়া আদালতের রায়গুলো বাংলায় অনুবাদ করতে সম্প্রতি ‘আমার ভাষা’ নামে একটি সফটওয়্যারের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রচলন বিষয়ে এবং বেতার ও দূরদর্শনে বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ এবং দূষণ রোধে হাইকোর্টের রুলসহ নির্দেশনা রয়েছে। দুটি নির্দেশনাই এসেছে ফেব্রুয়ারি মাসে। একটি ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, অন্যটি ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। একটির ক্ষেত্রে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে, অন্যটিতে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলায় আদেশ দেন হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চ। কিন্তু এর বাস্তবায়নও এখনো কার্যত হয়নি।

বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে ৯৯ জন বিচারপতি আছেন। বছরদশেক আগেও বাংলায় রায় দেওয়ার সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। বিচারপতিদের যারা বাংলায় রায় লিখেন, তারা তা লিখছেন মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার টানে। বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে বলে মনে করেন তারা।

গত বছর আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। দেশের ইতিহাসে এ মামলার আসামির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেই রায়ের ১৬ হাজার ৫৫২ পৃষ্ঠা বাংলায় লিখে আলোচনায় এসেছেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। 

হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বেশির ভাগ রায়, আদেশ ও নির্দেশ বাংলায় দিচ্ছেন। গত বছর ভাষার মাসে বাংলায় রায় ও আদেশ দেওয়া শুরু করেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। 

১৯৯৯ সালে উচ্চ আদালতের কয়েকজন বিচারক বাংলায় রায় লেখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এরপর ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে কোনো রায় বাংলা ভাষায় দেওয়া হয়নি। ২০০৭ সাল থেকে হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি, ফৌজদারি ও রিট মামলায় কয়েকটি রায় বাংলায় দেওয়া হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ২০০৭ সাল থেকে ২০১১-তে অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ২০০ রায় বাংলা ভাষায় লিখেছেন।

সুপ্রিমকোর্টে প্রায় ১০ হাজার আইনজীবীর মধ্যে মাত্র দুজন- অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আবু ইয়াহিয়া দুলাল উচ্চ আদালতে বাংলায় মামলা দায়ের ও শুনানি করছেন। কিন্তু তারা আদালতের রায় বা আদেশের কপি পান ইংরেজিতে।

ট্যাগ: bdnewshour24