banglanewspaper

সিলেটের পাম্পগুলোতে কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমদিকে তেল মজুদ থাকায় সংকট কিছুটা কম হলেও মজুদ ফুরিয়ে আসায় সিলেটজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বেশিরভাগ পাম্পে মিলছে না অকটেন। একই চিত্র নগরীতেও। ফলে শতাধিক পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দ্রুত জ্বালানি তেলের সংকট সমাধান না হলে লাগাতার ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিলেটের পাম্প মালিকরা।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরের কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে অকটেন নেই। এ সময় অনেককে তেল না নিয়েই ফিরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার অকটেন না পেয়ে পেট্রোল নিয়ে যাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় পেট্রোলও মজুদ না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছে না পাম্পগুলো।

সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার সিএনজি ও নর্থ ইস্ট ওয়েল পাম্পের ম্যানেজার স্বপন কুমার দত্ত জানান, তিন চারদিন থেকে কোম্পানিগুলো অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। প্রথদিকে মজুদকৃত তেল দিয়ে সংকট কাভার করা গেলেও এখন মজুদও ফুরিয়ে গেছে। ফলে আমরা অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছি। এভাবে চলতে থাকলে পাম্প বন্ধ করে দিতে বলেও জানান তিনি।

পাম্প মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কম হওয়ায় বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নিরবচ্ছিন্ন রেলের তেলবাহী ওয়াগন না আসায় এবং সিলেটের গ্যাস ফিল্ডগুলোর খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্ঠি হয়েছে।

আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে তেল সংকটের সমাধান না হলে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদের নেতারা। এর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গত ২৭ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২৬ ডিসেম্বর ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন নেতারা।

সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টি ও জেলায় ৭০টি পাম্প রয়েছে। বর্তমানে সিলেটে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর তুলনায় প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল আসছে।

সূত্র আরও জানায়, তেল সরবরাহের জন্য প্রথম পর্যায়ে ২৪টি ওয়াগন দিলেও পরে তা কমিয়ে ২০টি করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জের রেল দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে বর্তমানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত রেলের ২০টি ওয়াগন আসছে। শায়েস্তাগঞ্জে আসার পর ১০টি করে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে তেল পরিবহণে বেশি সময় লাগছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও তারা আমাদের কথা রাখেননি। এমনকি তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। আমাদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্বে সাপ্তাহে ৩ রেক তেল আসলেও এখন আসে ১ রেক তেল। যা সিলেটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সিলেটের চাহিদা সাড়ে ৫ লাখ লিটার তেল সিলেট বিভাগে। এর মধ্যে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে বিতরণ করা হয় প্রায় ১লাখ লিটার তেল। 

তিনি আরও বলেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে একটি চক্র। তেল বিক্রি না করায় এই গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার তেল নষ্ট হচ্ছে।

ট্যাগ: bdnewshour24