banglanewspaper

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার রুমে ঢুকে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। 

জেএসএস সন্তু লারমা সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ১০ সদস্যের নাম উল্লেখ ও ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গতকাল বুধবার রাতে বাঘাইছড়ি থানায় এ মামলা দায়ের করেন ইউপি সদস্য বিনয় চাকমা।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন খান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার রুমে ঢুকে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে (৩৮) গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা) সমর্থক অংশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা জানান, নিহত সমর বিজয় চাকমা তাদের সহযোগী সংগঠন যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্তু লারমা সমর্থক পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কর্মীদের দায়ী করে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। 

ঘটনার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ইউপি সদস্য সমর বিজয় চাকমা রুমে বসে প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ ২-৩ জন লোক দরজার বাইরে উঁকি দিচ্ছিল। তাদের একজন রুমে ঢুকে সমর বিজয়ের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকারের কার্যালয়। তার তিনটি কক্ষ পরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফুল ইসলামের কক্ষ। 

শরিফুল ইসলাম জানান, হত্যাকারীরা মোটরসাইকেলে করে এসেছিল। গুলি করেই তারা দ্রুত অফিস ত্যাগ করে যায়।

তবে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনও সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ: bdnewshour24