banglanewspaper

করোনা প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধে ২০২০ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতি ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে পড়েছিল। চলতি বছর টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠছে বিশ্ব। পাশাপাশি সরকারগুলোর ঘোষিত বড় অংকের প্রণোদনা উজ্জ্বল অর্থনীতির আশা দেখাচ্ছে।
 
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা’ (ওইসিডি) বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে তাদের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে ওইসিডি। এটি সংস্থাটির ডিসেম্বরে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
 
ওইসিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় টিকাদান কার্যক্রমের বিস্তৃতি, কিছু দেশে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এবং ভাইরাসজনিত বিধিনিষেধ আরো ভালোভাবে মোকাবেলা করায় বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি হয়েছে।
 
সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স বুন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। আর এক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা কর্মসূচি বড় ভূমিকা পালন করবে।
 
চলতি বছর মার্কিন অর্থনীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ওইসিডি। এটি প্রতিষ্ঠানটির আগের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রাক-মহামারী পর্যায়ে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
 
তবে এর মানে এই নয় যে মহামারিজনিত ক্ষয়ক্ষতি সব ঠিক হয়ে যাবে। এ সময়কালে কেবল চীন, ভারত ও তুরস্ক প্রাক-মহামারীর স্তরকে ছাড়িয়ে যাবে। যেখানে অন্যান্য অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে পিছিয়ে থাকবে।
 
সংস্থাটি বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির পূর্বাভাস, উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এগুলো প্রাক-মহামারির স্তরে ফিরতে ২০২২ সালের শেষ পর্যন্ত সময় নেবে।
 
এক্ষেত্রে শীর্ষ অগ্রাধিকার নীতি হলো, যত দ্রুত সম্ভব টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা। এটি একদিকে জীবন বাঁচাবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি ত্বরান্বিত করবে।
 
বুন বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসের জন্য বিশাল ও উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষত টিকাদান কর্মসূচির গতির সঙ্গে এটা সম্পর্কযুক্ত। আমরা জানি দেশগুলো পুনরায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু করতে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
 
দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এটা যুক্তরাজ্যের নিজস্ব পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। টিকাদান কার্যক্রম ধীরভাবে চলা ইউরোপীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
 
চলতি বছর এ অঞ্চলে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে ইতালি ও ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস খুব কম বাড়ানো হয়েছে।
 
সংস্থাটি নতুন সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে ভাইরাসের রূপান্তরের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে মহামারি চলাকালীন অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের ধরন কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, সেটি সম্পর্কেও আকর্ষণীয় তথ্য উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
 
উন্নত অর্থনীতিতে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে অনলাইন বিক্রি এক বছর আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে এবং ব্রিটেন ও কানাডায় এটা ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। যদিও মোট খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে এ চিত্র ভিন্ন ছিল। সুতরাং এটি ছিল ভোক্তাদের আচরণ পরিবর্তনের একটি নিদর্শন।
 
কয়েকটি দেশে মোট বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। তবে স্পেন ও ইতালিতে এটি হ্রাস পেয়েছে। অনলাইনে পোস্ট করা কাজের সুযোগগুলোয়ও স্বাস্থ্য সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছিল। স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছিল।
 
তবে আতিথেয়তা খাতের মতো পরিষেবাগুলোয় কর্মসংস্থানের হারে গভীর পতন দেখা গেছে। যদিও গত এপ্রিলে ঘটে যাওয়া গভীর সংকোচন থেকে এরই মধ্যে সব খাত কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসি।

ট্যাগ: bdnewshour24