banglanewspaper

মোদিবিরোধী বিক্ষোভে কর্মী নিহতের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরীকে আটক করেছে র‌্যাব। রবিবার বিকালে রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটকের পর নিপুণ রায়ের একটি অডিও ফাঁস হয়। সেখানে আরমান নামে এক কর্মীর সঙ্গে হরতালের আগের রাতে গাড়িতে আগুন দিতে নিপুণ রায়নে নির্দেশনা দিতে শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডটি নিপুণ রায় ও আরমানের মধ্যকার কিনা তা তাৎক্ষণিক যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অডিওতে দুজনের মধ্যেকার সেই কথপোকথন হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

কলিং…

আরমান: ও দিদি?

নিপুণ রায়: আরমান ভাই, এলাকাতেই তো আছেন তাই না? কালকে তো হরতাল, একটা কিছু করা যাবে না?

আরমান: কী করতে হবে বলেন?

নিপুণ রায়: ধরায় দেন।

আরমান: ওকে ঠিক আছে।

নিপুণ রায়: শোনেন

আরমান: হুম

নিপুণ রায়: বাস হোক যেটাই হোক, একদম পুরা, ফুল ধরবে, ফুল ধরবে। একটু দূর থেকে ভিডিও ছবি আমারে পাঠাবেন, অবশ্যই, অবশ্যই। ঠিক আছে…আমি কিন্তু জায়গা মতো পাঠাবো। হ্যাঁ, ওইটা মাথায় রাখবেন। ঠিক আছে, আজকেই আজকেই।

আরমান: ওকে।

নিপুণ রায়: বের হন।

আরমান: ইনশাল্লাহ।

নিপুণ রায়: এটা আমি চাই। একদম দাউ দাউ।

এরপর পরবর্তীতে আরেকটি ফোন কলে শোনা যাচ্ছে। আরমান ফোন করে নিপুণ রায়কে ফোন করে বলেন,

আরমান: ভিডিও করতে পারিনি। ছবি পাঠিয়েছি। লীগের লোকজন ঘেরা। পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

নিপুণ রায়: ওকে সরে দাঁড়ান।

আরমান: সরে গেছি গা।

নিপুণ রায়: হোয়াটস অ্যাপে পাঠান।

আরমান: হুম, হোয়াটসঅ্যাপেই পাঠাইছি।

গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর সায়েদাবাদ জনপদ মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় যাত্রীরা তাড়াতাড়ি নামতে গিয়ে আহত হলেও কোনো হতাহত হয়নি। পুলিশের ধারণা, নিপুণ রায়ের এ নির্দেশনার পরই মূলত বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা পালনকারী আরমান খোরশেদ ও শাহীনকে কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, কথোপকথনের অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর র‌্যাব সর দপ্তরের গোয়েন্দা টিম নিপুণ রায়সহ নির্দেশনা পালনকারী আরমান, খোরশেদ, শাহীনকে আটক করেছে।

ট্যাগ: bdnewshour24