banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার রনাঙ্গনের জীবিত ভারতীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানী কমান্ডার, প্লাটুন কমান্ডার, সেকশন কমান্ডার ও সাবেক উপজেলা কমান্ডারদের পক্ষে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের আয়োজনে নাগরপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবে ১৪ এপ্রিল বুধবার এক সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিযুক্ত অমুক্তিযোদ্ধা সুজায়েতের বিরুদ্ধে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা বলেন,

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
টাঙ্গাইল জেলাধীন নাগরপুর উপজেলার, ভারতীয় তালিকাভুক্ত ও মুক্তিবার্তা লাল, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বসম্মত বিবরণের পক্ষে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা কমান্ডার মো: মোকাদ্দেস আলী, ভারতীয় তালিকা নং ৭৭৭৬, মুক্তিবার্তা লাল ০১১৮০৬০০৯২ বেসাময়িক গেজেট নং-৩৪৭৯ লিখিত বক্তব্য পাঠ করিতেছি। সকল প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সংগ্রামী সালাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। 

প্রতারণা:

মো. সুজায়েত হোসেন প্রশিক্ষণ গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে ভারতের যুব ক্যাম্প থেকে ১৯৭১ইং সনের মহান বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বরের পরে প্রায় ৪/৫ হাজার যুবকের সাথে দেশে ফিরে আসে। 

ওখান থেকে ফিরে আসা সুজায়েত সহ প্রায় ২০০ জন নিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকীর সাথে সেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যোগদান করে, কাগমারী কলেজে অবস্থান নেয়। জাতীর জনকের ১৯৭২ইং জানুয়ারী মাসের শেষদিকের এক ঘোষণায় সকল মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। সকল মুক্তিযোদ্ধাদের দেশগড়ার স্বার্থে নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে বলেন। এরই মাধ্যমে সেচ্ছাসেবক ক্যাম্পও বিলুপ্ত হয়ে যায়। উক্ত সুজায়েত হোসেন ও তার দল জালিয়াতী, প্রতারণা, অবৈধ ও বে-আইনীভাবে জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদ গ্রহন করে, সুজায়েত কাদেরীয়া বাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করে। বিগত ২০০৪-০৫ সালে যাচাই বাছাই কালে তাহার সংগীরা, সুজায়েত কে কোম্পানীর কমন্ডার হিসাবে দাবি করে। কাদেরীয়া বাহিনীর তাদের কোম্পানী কমান্ডারদের নামের তালিকা প্রকাশের পর, খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সুজায়েতের নাম কাদেরীয়া বাহিনীতে না থাকায়, সে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হয়। উল্লেখ্য, তাদের কোন প্রকার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ নেই, তাদের নামে কোন অস্ত্র ইস্যু নেই এবং যুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করেনি। জাতীর জনক ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধীনায়ক বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গায় ও মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতির প্রজ্ঞাপনের নীতি মালা মোতাবেক তাহারা মুক্তিযোদ্ধা নহে। 


জালিয়াতি:

উক্ত সুজায়েত হোসেন, সাবেক এমপি মরহুম খন্দকার আব্দুল বাতেনের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেকে ও তাহার আত্মীয়স্বজনসহ অনেকেই অর্থের বিনিময়ে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকা ভুক্ত করে। গত ১৬/০২/২০২১ইং স্বারক নং-১২৭ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাগরপুরের একটি দাপ্তরিক পত্র কৌশলে হস্থগত করে, নিজ প্রভাব খাটিয়ে উক্ত পত্রটি হাতে হাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দেবার কথা বলে। পরে, সে উক্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রালয়ে, ইউএনও প্রেরিত পত্রে হাতে লেখা অতিরিক্ত ৩৪ জনের নামের তালিকা, ঐ দাপ্তরিক টাইপকৃত পত্রে কলম দিয়ে ওভার রাইটিং করে বারতি সংখ্যা বসিয়ে ইউএনও স্বাক্ষরিত পত্রের সাথে যাচাই বাচাইয়ের জন্য অনাকাংখিত তালিকা প্রেরণ করে। এছাড়াও ইউএন ও সিফাত-ই-জাহান স্বাক্ষরিত পত্রে তাহার অনুমতির বাইরে মোট ১৬৮ জনের নামের তালিকা দাখিল করে সুজায়েত। উল্লেখ্য, ইউএনও মুলত প্রেরণ করে ছিলেন ১২৯ জনের নামের তালিকা। অতিরিক্ত নাম, তালিকা ও  সংখ্যাগুলো অভার রাইটিং করে হাতে লেখা, যাহা দাপ্তরিক কাজ বলে গন্য নয়। সুজায়েত হোসেন, মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর স্বাক্ষর, সীল জাল করেছে, বলে আমরা বিশ্বাস করি। মাননীয় মন্ত্রীমহাদয় বিষয়টি জানতে পেরেও, জালকারী/জালকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য মহাপরিচালক  জাতীয়  মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে নির্দেশ প্রদান করেন। 

দুর্নীতি:

সুজায়েত হোসেনের র্দূনীতির কথা লিখে শেষ করা যাবে না। বিগত ২০০০-০৩সালে জাসদ রাজনীতির সুবাদে আওয়ামি লীগের পরাজিত এমপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল বাতেন সাহেবের ছত্রছায়ায়, উপজেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার পদে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একের পর এক প্রতারণা জালিয়াতি সহ অবৈধ ভাবে বিভিন্ন খাত থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা পয়সার মালিক হতে থাকে। উল্লেখ্য, এসব ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহদর নাবলক ছোট ভাই, ভগ্নিপতি সহ অসংখ্য ব্যক্তিকে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মুক্তি বার্তায় তালিকা ভুক্তি করে। ঐ সময় সে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ৩৫০ জন এর স্থলে ৭১৫ জনকে মুক্তিবার্তায় তালিকা ভূক্ত করে। ফলে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে অ-মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেড়ে যায়।

এছাড়াও ২০০৯-২০১৯ সাল পর্যন্ত, এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেন সাহেবের এবং অন্যান্যদের দেয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে বরাদ্দকৃত টি আর, কাবিখা, অর্থ, ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশ, মেরামত ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, এলইডি টেলিভিশন, সৌর বিদ্যুাৎ প্রকলেল্পর সমুদয় টাকাই সে আতœস্বাত করেছে। এছাড়াও সে অবৈধ উর্পাজিত টাকায়, ঢাকায় ২টি ফ্লাট বাড়ি, নাগরপুর উপজেলার বাবনাপাড়া গ্রামে বিলাস বহুল ১টি ৩ তলা সু-বিশাল বাড়ি, সলিমাবাদ ইউনিয়নে তেবাড়িয়া গ্রামে পাকা বাড়ি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজ নামে দোকান সহ নামে বেনামে গড়েছে  কোটি, কোটি টাকার সম্পদ। 

রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিস্বাধন: নিজে অ-মুক্তিযোদ্ধা হয়ে, শত শত অ-মুক্তিযোদ্ধাদের টাকার বিনিময়ে জালিয়াতি পূর্বক, তালিকাভুক্ত করে দেশের সূর্য্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার হানি করেছে এবং রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুন্ন করে রাষ্ট্রের অপরিসীম আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস এদের কারণে বিকৃত হয়েছে। 

ক্ষমতার অপব্যবহার:  

সে নিজে অ-মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্বেও, গোপনে নিজ সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি বানিয়ে, গণতন্ত্র হত্যা করেছে। 

প্রিয় জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইয়েরা: আমরা আপনাদের মাধ্যমে এ সকল অভিযোগ সমূহের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাদের দ্বারা সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবি জানাই। অ-মুক্তিযোদ্ধা মুক্ত নাগরপুর গঠনে ও  প্রতারক সুজায়েতের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগের ভিত্তিতে, তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, এমপি টাঙ্গাইল-০৬ ও মহাপরিচালক জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সমীপে জোর দাবী জানাইতেছি।’’

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক উপজেলা কমান্ডার, নাগরপুর মো: গোলাম সরয়ার হোসেন (ছানা), সাবেক উপজেলা কমান্ডের সদস্য মো: আব্দুল করিম, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার মো: গিয়াস উদ্দিন ও সহকারী ইউনিয়ন কমান্ডার গয়হাটা মো: আব্দুর রশিদ খান।

ট্যাগ: bdnewshour24

ঢাকা
টাঙ্গাইলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্বির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ 

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল নাগরপুর উপজেলা বিএনপি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দাম বৃদ্বির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। 

শনিবার (৫ মার্চ) নাগরপুর উপজেলা বিএনপি সাবেক ভারপাপ্ত আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ছালাম সভাপতিত্বে পালিত হয়েছে এ বিক্ষোভ প্রতিবাদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মোঃ শরিফ উদদীন আরজু, মো. হাবিবুর রহমান হবি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম মিয়া, যুবদলের আহবায়ক মোঃ ফনির হোসেন ভূইয়া, সদস্য সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম দিপন মোল্লা, ভাদ্রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হাবিব মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক
মোঃ শাজাহান শাজু, সদস্য সচিব মোঃ জিহাদ হোসেন ডিপটি প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, চাল, ডাল, তৈল সহ সকল পন্যের দম কমাতে হবে। দেশের মানুষের আয়ের সাথে খাদ্য দ্রব্যের আকাশ ছোঁয়া দামের আজ দিশেহারা বাঙালী। খাদ্যদ্রব্যের এ আকাশছোঁয়া দামের জন্য দায়ী এই সরকার। দেশের মানুষের আয়-ব্যয়ের সাথে সামাঞ্জস্য প্রয়োজন। সরকার এই  সামঞ্জস্য বজায় না রাখতে পারলে এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।

ট্যাগ:

ঢাকা
পাত্রী দেখে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে প্রাণ গেল প্রবাসীর

banglanewspaper

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে গাছের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুল্লাহ (২২) নামে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পেচারআটা-সলিং আঞ্চলিক সড়কের মোচারবাড়ী মোড়ে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ সম্প্রতি মালেয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। শনিবার তিনি বিয়ের জন্য পাত্রী দেখে বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা উপজেলার পেচারআটা-সলিং আঞ্চলিক সড়কের মোচারবাড়ী মোড়ে পৌঁছলে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের শিমুলগাছের সাথে ধাক্কা খায়। তাঁর বন্ধু অক্ষত থাকলেও ঘটনাস্থলেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।

ট্যাগ:

ঢাকা
বিয়ের পরেও স্ত্রীর মর্যাদা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে জুলিয়া!

banglanewspaper

জসিউর রহমান লুকন, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের মৃত রজব মিয়ার মেয়ে জুলিয়া আক্তার জুলি স্ত্রীর মর্যাদা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাননি কোনো সহায়তা। 

ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, একই ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. বাছেদ খান ওরফে বাচ্চু মাষ্টারের ছেলে মো. রাকিব খানের সাথে প্রেমে সম্পর্কের একপর্যায়ে বিয়ে হয় তাদের।

গত ২৪ অক্টোবর ২০২১ সালে ভাদ্রা ইউনিয়নের কাজী মো. আবুল বাশার ৮ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে পড়ান। বিয়েতে ভাদ্রা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলামসহ উপস্থিত ছিলেন অনেকেই। বিয়ের পর যথারীতি নতুন সংসার শুরু করে নবদম্পতি। প্রেমের শুরু থেকেই রাকিবের বড়লোক বাবা বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। বিয়ের কথা শুনে ছেলে রাকিবকে বাবা বাড়িতে আসতে না দেওয়ায়, নবদম্পতি আশ্রয় নেয় নানা শাশুড়ী বাড়িতে। এসব দেখে বাচ্চু মাষ্টার ছেলে হারানোর অভিযোগ দায়ের করে থানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ১ মাস পর, থানা পুলিশ নবদম্পতি উদ্ধার করে তাদের অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেয়। আর তখন থেকেই জুলিয়ার সুখের সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। 

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, তখন থেকেই রাকিকে ওর বাবা বাড়িতে আটকে রেখেছেন। আমি রাকিবের বাড়িতে গেলে, ওরা মা সহ অনেকেই আমার কাছে বিয়ের কাবিননামা চায়, তখন হাতে কাবিননামা না থাকায়, আমাকে পশুর মত পিটিয়ে বাড়ি থেকে টেনে ছিড়ে বেড় করে দেয়। সাথে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ফোনে ছিলো আমাদের প্রেম ও বিয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছবি এবং ভিডিও। পরে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় ফেলে চলে যায়। এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে সুস্থ হলে ভাদ্রা ইউনিয়নের কাজী মো. আবুল বাশারের কাছে আমাদের বিয়ের কাবিননামা আনার জন্য গেলে, তিনি বিভিন্ন অযুহাতে দিনের পর ঘোরাতে থাকেন। আজ পর্যন্ত তিনি কাবিননামা বা বিয়ের কোনো প্রামানপত্র দেয়নি। তবে, লোক মুখে শুনেছি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাশার কাজী আমাদের বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করেছে।

তবে তিনি বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করেছেন কি না তা এখনো সঠিকভাবে বলেনি।

জুলিয়া আরও বলেন, রাকিবের বাবা ও তার পরিবারের সকলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মনগড়া বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রটাচ্ছে। আমাদের বাসায় এসে বলে গেছেন, টাকা যত লাগে আমি খরচ করবো, তাও তোর মত ছোটলোকের খারাপ চরিত্রের মেয়েকে আমার বাড়ির বৌ করে আনবো না। আমার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে, আমি তার ন্যায় বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাকে স্বামীর সংসার করার জন্য সহায়তা দান করুন। 

রাকিব ও জুলিয়ার বিয়ের বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতে ভাদ্রা ইউনিয়নের কাজী মো. আবুল বাশারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ২৪ অক্টোবর রাকিব ও জুলিয়ার বিবাহ তিনি পরিয়েছিলেন। কিন্তু ৩১ অক্টোবর রাকিব-জুলিয়ার বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করেন। তবে আবুল বাশার এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়ননি। ক্যামেরা বের করা মাত্র তিনি দৌড় দেন।

বিয়ের বিষয়ে রাকিবের বাবা মো. আব্দুল বাছেদ ওরফে বাচ্চু মাষ্টারের বাড়িতে গেলে, তাদের বাড়ি তালাবন্ধ দেখা যায়। পরে, তিনি মুঠোফোনে জানান, চরিত্রহীনা মেয়েকে ছেলের বৌ হিসেবে মেনে নিতে রাজী নন। এছাড়াও বিয়ের সময় রাকিব বিয়ের অনুপযুক্ত ছিল। তাই কাজী রাকিবের বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করেন। তবে কথার প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন শরিয়ত মোতাবেক রাকিব ও জুলিয়ার বিয়ে এখনো বিদ্যমান। তবে তাদের বিয়ের কোনো বৈধ রেজিষ্ট্রেশন নেই। 

রাকিব-জুলিয়ার বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে ভাদ্রা ইউনিয়নের স্থানীয় কমপক্ষে ১০ জনকে জিজ্ঞেস করলে, তারা সকলে একবাক্যে বলেন, এটা তো উঁচুনিচু প্রেমের বিয়ে। আমাদের ইউনিয়নে ১০ গ্রামের মানুষ এ বিয়ে সম্পর্কে জানে। এ বিয়ের ঘটনা জানেনা এমন মানুষ এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাবে না।

ট্যাগ:

ঢাকা
টাঙ্গাইলে ট্রাকে করে ফেনসিডিল বিক্রির সময় গ্রেফতার ২

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের একটি ট্রাক থেকে ১৮৪ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে টাঙ্গাইলে র‌্যাব-১২। 

গ্রেফতাররা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বাহিরমাদী গ্রামের মো. হেরেশ মন্ডলের ছেলে মো. অপিনুর রহমান (২৫) ও হারান মন্ডলের ছেলে মো. মিঠুন (১৯)।

রোববার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মো. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইল জেলার সদর থানাধীন নগর জলফৈ সাকিনস্থ আশিকপুর বাইপাস জয়গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডারের পূর্ব পাশে টাঙ্গাইল টু ঢাকাগামী মহাসড়কের উপর অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফাতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৮৪ বোতল ফেনসিডিল, একটি ট্রাক, নগদ ৩ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল এবং ৩টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়। 

পরে, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের কাছ থেকে জব্দকৃত ফেনসিডিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, বহুদিন ধরে ফেনসিডিল অবৈধভাবে সীমান্তবর্তী জেলা থেকে সংগ্রহ করে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতো।তাদের বিরুদ্ধের টাঙ্গাইল জেলার সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

ট্যাগ:

ঢাকা
টাঙ্গাইলে সাড়ে ৭ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে মারামারি

banglanewspaper

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে গ্রামীণ রাস্তায় সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার দরপত্রের লটারি নিয়ে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও গতকাল ১৬ জানুয়ারি ১ কোটি ২১ লাখ টাকার হেয়ারিং বন্ডের কাজের সিডিউল বিক্রি না করার অভিযোগ উঠেছে পিআইও অফিসের বিরুদ্ধে।

হেয়ারিং বন্ডের দরপত্র কিনতে আসা ঠিকাদার মজিবর ও আজিজুল বলেন, গতকাল রবিবার আমরা দরপত্র কিনতে পিআইও অফিসে গেলে অফিস তালাবদ্ধ দেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. আবু বকরকে ফোন দিয়ে সিডিউলের প্রসঙ্গে কথা শুরু করলে তিনি ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে অফিস থেকে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।

এ ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, পিআইও টাকা খেয়ে কাজ হয়তো কাউকে দিয়ে দিয়েছে। 

অপরদিকে, লটারির এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়। পরে লটারির কার্যক্রম স্থগিত করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত ই জাহান। 

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ ঘটনা ঘটে। 

সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর নাগরপুরে ১০টি সেতুর জন্য সাত কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার ১২৬ টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি। সে অনুয়ায়ী সোমবার ছিল লটারীর নির্ধারিত দিন। দুপুর ১টার দিকে লটারি শুরু করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। লটারির শেষ মুহুর্তে এসে দুটি কাজের লটারি বাকি থাকতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী কাশাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে খালের উপর প্রায় ৭২ লাখ টাকার সেতু নির্মাণের কাজটি লটারি না করতে ইউএনও ও অংশ গ্রহনকারী সকল ঠিকাদারকে অনুরোধ করেন। তার অনুরোধে সকলে সম্মতি জানায়।

মেসার্স তাবিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী পারভেজ হাসান অভিযোগ করে বলেন, ওনাদের হাতাহাতির ঘটনায় এসময় আমিসহ আহত হন আমিন টেডার্সের কাজি জহির সুমন, নজরুল টেডার্সের নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ঠিকাদারদের বিক্ষোভের মুখে ইউএনও লটারী স্থগিত করেন। 

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ও হামলাকারীদের বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন জেলার ঠিকাদার নেতারা। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরত আলী বলেন, কোন মারামারির ঘটনা ঘটেনি। লটারির শেষ মুহুর্তে একটি সেতুর কাজ চেয়েছিলো ছাত্রলীগ। ভিডিও করা ও ঠিকাদারদের বসা নিয়ে একটু ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। 

দরপত্র না বিক্রি করা এবং মারামারির বিষয়ে কথা বলতে উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. আবু বকরকে একাধিক বার মুঠোফোনে কল করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও কথা বলতে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত ই জাহানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, লটারির শেষ সময়ে এসে ঠিকাদারদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিশৃংখলা পরিস্থিতির কারণে লটারীর সকল কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

ট্যাগ: