banglanewspaper

উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আরও ঘনীভূত হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে সাগর খুবই উত্তাল। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছে।

জোয়ারে নদ-নদীর পানি বেড়ে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা নোয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি ও ভোলা। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে গ্রামের পর গ্রামে। ভেসে গেছে শতাধিক ঘের ও পুকুরের মাছ। পানিবন্দি হয়েছেন প্রায় ১ লাখ মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রেও অবস্থান নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।


উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট ও খুলনার কিছু অঞ্চলেও পানি উঠেছে। জেলা সংলগ্ন নদ-নদীগুলোর পানি বেড়েছে চার থেকে পাঁচ ফুট। ঘরবাড়ি ছেড়ে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বিকালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ছিল, সন্ধ্যায় তা এগিয়ে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। একইভাবে কক্সবাজার থেকে বিকেলে ছিল ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, সন্ধ্যায় তা ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা বন্দর থেকে ছিল ৪২৫ কিলোমিটার, এখন তা থেকে এগিয়ে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে বিকালে ছিল ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, এখন তা ৪৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সুপার সাইক্লোন ইয়াস উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার ভোরে ভারতে ধামারা বন্দরে এবং দুপুর নাগাদ উত্তর উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস যখন ভারতের উপকূল অতিক্রম করবে সে সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলাগুলো এবং তার আশপাশের দ্বীপ ও চরগুলোতে দমকা হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকার ওপর দিয়ে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুটে বেশি উচ্চতার জোয়ারের শঙ্কা আছে।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

প্লাবিত চার জেলা

নোয়াখালী: অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে অন্তত ১১টি গ্রামের লোকালয়ে। প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে গৃহপালিত পশুগুলোকে পাশের আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে প্লাবিত হয় গ্রামগুলো।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জোয়ার আসে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ার বাড়তে থাকে। মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। এতে তিন-চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড। এছাড়াও অস্বাভাবিক জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের মদিনা গ্রাম, বান্দাখালী গ্রাম, মুন্সি গ্রাম, মোল্লা গ্রাম, আদর্শগ্রাম ও ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড।

নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দিনাজ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, পানিতে ঘরবন্দি হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তবে গরু, মহিষসহ গৃহপালিত পশুগুলোকে উঁচু রাস্তা ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে কৃষি জমির ফসল।

হাতিয়া উপজেলা সিপিপি কর্মকর্তা বদিউজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার প্রভাব এক হয়ে যাওয়ায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের জোয়ারে পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা ও মানুষকে নিরাপদ রাখতে হাতিয়ায় সিপিপির ১৭৭টি ইউনিট ও সরকারি ১৮২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভোলার চরাঞ্চল প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভোলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে জেলার বিচ্ছিন্ন ৪০টি চরের মানুষ। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নদী ও সাগর মোহনা উত্তাল রয়েছে।

গতকাল দুপুরের দিকে সদর উপজেলার বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রচণ্ড বাতাস বইছে। নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বাঁধের বাইরে বসবাস করা মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। সেখানকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে।

এছাড়াও জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে কুকরি-মুকরি, ঢালচর ও চরপাতিলাসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত দুই হাজার মানুষ।

ঢালচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, নদী ও সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো ইউনিয়ন। এতে সাত থেকে আটশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুকরি-মুকরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, অতিজোয়ারে পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট, মাছের ঘেরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তলিয়ে গেছে।

এদিকে প্রশাসন দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাস করা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনার জন্যে পর্যাপ্ত ট্রলার এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। সরকার প্রতি ইউনিয়নে দুর্যোগকালে শুকনো খাবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন বলেন, এসব চরাঞ্চল থেকে লোকজন নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্যে মোট ১৫টি ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নের আশ্রিতদের খাবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ হয়েছে। তবে এখনও দেওয়া হয়নি।

লালমোহন উপজেলার ইউএনও আল নোমান বলেন, তারা খাবার সংগ্রহের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। খাবারের মজুদ করতে বলেছেন। যেন দরকারে সংকট না পড়ে। চারটি ট্রলার রাখা হয়েছে পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য। যদি কোনো খারাপ ইঙ্গিত পাই, যেন ব্যবস্থা নিতে পারি।

ভোলার জেলা প্রশাসক তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি চরাঞ্চলের তিন লাখ ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসতে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষকে শুকনো খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বরগুনায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত

গতকাল সকাল থেকেই বরগুনার নদ-নদীতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে ২৫টি মাছের ঘেরসহ প্রায় ৭০টি পুকুরের মাছ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

বরগুনার তালতলী উপজেলার খোট্টার চর, তেতুবাড়িয়া, নলবুনিয়া এলাকার তিন শতাধিক বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে। ভেসে গেছে ২৫টি মাছের ঘেরসহ প্রায় ৭০টি পুকুরের মাছ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পায়রা নদীর কাছাকাছি থাকায় এসব ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এদিকে পাথরঘাটা ও বরগুনা সদর উপজেলার লাকালয়ে পানি প্রবেশ করে অন্তত ৭টি গ্রামের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ফসলের মাঠসহ মাছের ঘের।

খোট্টার চর এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা বেড়িবাঁধের বাহিরে থাকায় আমাদের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ চলিয়ে গেছে। এতে আমাদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে পানিতে।

ঠংপাড়া এলাকার সেন্টু মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধের বাহিওে থাকায় উঁচু জোয়ার হলে আমাদের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় আমার পুকুরের প্রায় ১ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

বরগুনা পানি উন্নায়ন বোর্ডের প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, জেলায় প্রধান দুটি নদীর মধ্যে বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমার আড়াই ফুট উপরদিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং পায়রানদীর পানি বিপদসীমার ৬ ইঞ্চি উপরদিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় ২৫ কিলোমিটার বেড়িবাধ ঝূকিপূর্ণ রয়েছে। তিনি আরও বলেন উঁচু জোয়ারের কারণে এসব বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া উঁচু জোয়ারের কারণে বাঁধের বাইরের এলাকাগুলোও প্লাবিত হয়েছে।

ঝালকাঠি

গতকাল সকাল থেকেই থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। বাতাস বাড়ারা সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নদ নদীর পানি। সুগন্ধা-বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। এতে কাঠালিয়ার বেড়িবাঁধ ভেঙে জেলার নিম্মাঞ্চলে ইতিমধ্যে পানি ঢুকেছে।

গতকাল দুপুরে উপজলা পরিষদ ও কাঠালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বিষখালী তীরের বাঁধের একটা অংশ ভেঙে পানি ঢুকে বাড়ির আঙিনাসহ তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। এতে আতংকে রয়েছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে কাঠালিয়া সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বড় কাঠালিয়া, পূর্ব কচুয়া, লতাবুনিয়া, রঘুয়ার দড়ির চর, সোনার বাংলা, আওরাবুনিয়া, জাঙ্গালিয়া, ছিটকী ও আমুয়া, ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি, নতুন কলাবাগান, পৌরসভা খোয়াঘাট এলাকা, রাজাপুরের বাদুরতলা লঞ্চঘাট, নাপিতের হাট, চল্লিশ কাহনিয়া এলাকাসহ সুগন্ধা-বিষখালী নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪৫টির অধিক গ্রামে পানি ঢুকেছে। এর মধ্যে অধিক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বিষখালী নদী পাড়ের (বাঁধ ভাঙন) বাসিন্দা আ. রব খান বলেন, ঝড়-বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে আমারা খুবই আতঙ্কে থাকি। বিশেষ করে রাতে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসে থাকি। কখন বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নদীতে চলে যায়। আজ দুপুরে হঠাৎ করে নদীর বাঁধ ভেঙে যেভাবে পানি উঠতেছে এতে খুবই বিপদে আছি।

কাঠালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান জানান, সকাল থেকে আমি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা নেই। তবে উপজেলা পরিষদের পেছনের বিষখালী তীরের বাঁধের কিছু অংশ ভেঙেছে। কিন্তু তেমন কোন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’মোকাবিলায় উপজেলায় একটি কন্ট্রোল রুম, ৬টি মেডিক্যাল টিমসহ প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে ৬৩টি কমিটির সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।

কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা পরিষদে জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে।

ঝালকাঠি জেলায় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় জেলা ও উপজেলা পযায়ে ৪টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ৫৯টি সাইক্লোন সেল্টার খুলে দেয়া ও ৪৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ দেয়া হয়েছে। ৩৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রেগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা, তৃণমূল পর্যায়ে মাইকিং করা, স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জোহর আলীর সভাপতিত্বে ঝালকাঠি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভার্চুয়ালি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা-উপজেলা কর্মকর্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বেসরকারি সদস্যবৃন্দ ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন।

বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া

উপকূলীয় বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রধান নদ-নদীগুলোতে জোয়ারের পানি বাড়ছে। স্বাভাবিক জোয়ারে চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট পানি বেড়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আসা জোয়ারে জেলার প্রধান ভৈরব, পশুর, বলেশ্বর, পানগুছি ও মোংলা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপ বেড়ে উপকূলের বাঁধ উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

উপকূলের ঘের মালিকদের মাছ রক্ষা করতে নেটজাল দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

ঝড়ের পূর্বাভাসের পর নদী ও সাগর থেকে মাছ ধরার শত শত ট্রলার কূলে ফিরে বাগেরহাটের কেবি মাছ বাজারঘাটে অবস্থান নিয়েছে। ঝড় শুরুর আগেই উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয় সেজন্য জেলার ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন। উপকূলবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবক সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) খাদিজা আক্তার।

জেলে লিটন হাওলাদার ও সেলিম শেখ বলেন, ঝড়ের খবর পেয়ে নদী থেকে আমরা নিরাপদে ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরে এসেছি। নদীতে প্রচণ্ড পানির চাপ। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই-তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীদিন পূর্ণিমা তিথি। পূর্ণিমা তিথিতে নদনদীতে আরও পানি বাড়বে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, দুপুরে বাগেরহাটের প্রধান প্রধান নদনদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই-তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ণিমা তিথি বুধবার। তাই আগামী দিন নদ-নদীতে পানি আরও বাড়বে। বাগেরহাট জেলায় কোস্টাল এলাকার যে পোল্ডারগুলো আছে তার মধ্যে টেকসই বেড়িবাঁধ উপপ্রকল্পের আওতায় শরণখোলায় বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষের পথে।

ট্যাগ: bdnewshour24