banglanewspaper

মন থেকে বহু আগেই মুছে ফেলেছেন, এবার সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও স্বামী নিখিল জৈনের সব স্মৃতি মুছে দিলেন টলিউডের সাংসদ-অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। ইনস্টাগ্রামে থেকে সরিয়ে ফেললেন নিখিলের সঙ্গে তোলা সমস্ত ছবি, যেগুলো তিনি তুরস্কে বিয়ের আসরে তুলেছিলেন। ছবিগুলো বুধবার পর্যন্তও নায়িকার ইনস্টাগ্রামে শোভা পাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎই সেগুলো উধাও।

২০১৯ সালের ১৯ জুন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দিল্লির ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নিখিল জৈনের গলায় মালা পরিয়েছিলেন নুসরাত জাহান। কিন্তু বুধবার ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে সেই বিয়েকে বেমালুম অস্বীকার করেন নায়িকা। তিনি দাবি করেন, নিখিলের সঙ্গে তিনি শুধুমাত্র সহবাস করেছেন, এক ছাদের নিচে কিছুদিন থেকেছেন। তাদের বিয়ে হয়নি। তাই তাদের ডিভোর্স হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।


এমন মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা না যেতেই ইনস্টাগ্রামে থেকে নিখিলের সঙ্গে তোলা বিয়ের সব ছবি মুছে দিলেন নুসরাত। এছাড়া রথযাত্রায় ইসকনের মন্দিরে নিখিল ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছবিরও দেখা মিলল না নায়িকার ইনস্টাগ্রামে। কেবল হানিমুনে গিয়ে নিখিলের তুলে দেয়া কয়েকটি ছবিই রেখেছেন নুসরাত, যেগুলো তিনি সিঙ্গেল তুলেছিলেন।

তবে অভিনেত্রীর এই কাণ্ড নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। নুসরাতের সোশ্যাল মিডিয়ার অনুসারীরা বলাবলি করছেন, যেহেতু তিনি নিখিলের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন, তাই যাবতীয় প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই বিয়ের সব ছবি ডিলিট করে দিয়েছেন নায়িকা। সত্যি কি তাই? তাই যদি হয়, তবে সরকারি তথিতে তার বিয়ে সংক্রান্ত যে তথ্য প্রমাণ আছে, সেগুলোর কী করবেন নুসরাত?

২০১৮ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যানারে বসিরহাট কেন্দ্রের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আলোচিত ও বিতর্কিত এই অভিনেত্রী। ওয়েবসাইটে তৃণমূল সাংসদদের যে তালিকা রয়েছে, তাতে নুসরাতের নামে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে যাবতীয় তথ্য। সেখানে স্পষ্ট করে লেখা, নুসরাত জাহান বিবাহিত। ২০১৯ সালের ১৯ জুন তার বিয়ে হয়েছে। স্বামীর নাম নিখিল জৈন। এসব তথ্য কীভাবে মুছবেন তিনি?

তুরস্কে বিয়ে সম্পর্কে বুধবার নুসরাত দাবি করেন, ‘তুরস্কের বিবাহ আইন অনুযায়ী এটা অবৈধ। হিন্দু-মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনও হয়নি তাদের। ফলে এটা আইনত সিদ্ধ নয়। নিখিলের সঙ্গে আমি লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলাম। এটা বিয়েই নয়। সুতরাং বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না।’ এছাড়া তার সমস্ত গয়না, জামাকাপড় নিখিলের কাছে রয়েছে বলেও দাবি নুসরাতের।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশ্য নিখিল জৈন বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে নুসরাত যেসব অভিযোগ এনেছে, সেসব শুনে আমার খারাপ লেগেছে। মানুষ হিসাবে খারাপ লাগারই কথা। কিন্তু আমি ওর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। যা হয়েছে তা সবার সামনে ঘটেছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৯ জুন নিখিলের সঙ্গে নুসরাতের বিয়েতে অভিনেত্রীর পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন টলিউডে নুসরাতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু আরেক সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সেই বিয়ের ছবি এবং ভিডিও ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে ঘাটলে সহজেই পাওয়া যাবে। তাই নুসরাত যতই নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবি ডিলিট করেন না কেন, তাতে সত্য লুকানো যাবে না বলে মত নেটিজেনদের।

এদিকে, নিখিলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে বর্তমানে অভিনেতা যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন নুসরাত জাহান। তিনি নাকি যশের সন্তানের মা-ও হতে চলেছেন। এই জুটি একসঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেখান থেকেই তাদের প্রেমের সূত্রপাত বলে গুঞ্জন। টলিউডের বাতাসে এও গুঞ্জন, গোপনে বিয়েও করে ফেলেছেন যশ-নুসরাত। যদিও এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি দুই তারকা।

ট্যাগ: bdnewshour24