banglanewspaper

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে এবার বিদেশে মানবপাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় এ মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। মামলায় অমি ছাড়া আরও পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও পাঁচ-সাতজনকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিকদার মো. শামীম হোসেন বলেন, একজন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অমিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ-সাতজনের নামে একটি মামলা করেছেন। মামলাটি মানবপাচারের অভিযোগ এনে করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

ঢাকার অদূরে বিরুলিয়ায় বোট ক্লাবে গত ৮ জুন মধ্যরাতে পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গত সোমবার গ্রেপ্তার হন অমি। সাভার থানায় করা পরীমনির মামলার দুই নম্বর আসামি অমি তাকে ফাঁদে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর থেকেই অমিকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

এদিকে অমিকে গ্রেপ্তারের সময় বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাকে সাতদিনের রিমান্ডে পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। বর্তমানে তাকে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কে এই অমি?

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অমির গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সেখানে অনেক সম্পদ গড়েছেন তিনি। অবৈধভাবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হওয়ায় বনে গেছেন প্রভাবশালী। এসএসসির গণ্ডি পেরোতে না পারা অমির রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে আনাগোনা ছিল নৈমিত্তিক। বাবা তোফাজ্জল হোসেন একসময় বিদেশে ছোটখাটো চাকরি করতেন। এরপর দেশে ফিরে রাজধানীর আশকোনায় ‘সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

ওই ট্রেনিং সেন্টারের আড়ালে অমি নারী পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েন বলে অনেকে জানিয়েছে। শত শত কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে ও প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিকও হন তিনি। রাজধানীতে তাদের (অমি ও তার পরিবারের) একাধিক সুরম্য বাড়ি ছাড়াও উত্তরা ও আশকোনায় একাধিক বাড়ি ও প্লট রয়েছে। এসব এলাকায় তাকে একনামে চেনে সবাই।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক একজন মহাসচিবের সঙ্গে অমির দারুণ সখ্যের কথাও জানা যায়। এই সখ্যের সুবাদে অমি তার জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান আইএসএমটির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় একচেটিয়া কর্মী পাঠানোর সুযোগ পান। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়াভিত্তিক মানব পাচারকারী চক্রের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ আছে। মালয়েশিয়ার একজন অতি বিতর্কিত জনশক্তি ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ সুবিধা দিয়ে অমি হয়ে ওঠেন এই চক্রের ঘনিষ্ঠজন।

অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে সেকেন্ড হোমও গড়েছেন অমি। দক্ষিণখানে একটি রিসোর্টের আড়ালে প্রায় প্রতিদিন মদ-জুয়ার আসর বসাতেন। বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগও আছে। অমি একসময় ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেনও বিএনপির রাজনীতি করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তারা ভোল পাল্টে ফেলেন।

ট্যাগ: bdnewshour24