banglanewspaper

স্বামীর সঙ্গে নিজের ছোট বোনের পরকীয়ার সন্দেহ করেন মেহজাবিন মুনা। বিষয়টি মা-বাবাকেও জানান। কোনো সুরাহা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বোনসহ মা-বাবাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন তিনি। পরে নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা সেল ৯৯৯ এ ফোন করে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে আহ্বান করেন মুনা।

শনিবার সকালে রাজধানীর কদমতলীর মুরাদপুর এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার দায়ে মেহজাবিন মুনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


এই ঘটনায় নিহতরা হলেন- মাসুদ রানা, তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার এবং তাদের ছোট মেয়ে জান্নাতুল।

বিকালে কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মুনা আলাদা বাসায় থাকতেন। দুই দিন আগে তিনি বাবার বাসায় বেড়াতে আসেন। এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে।

এসআই জানান, মুনা সকালে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বলেন, ‘মা-বাবা ও ছোট বোনকে হত্যা করেছি। আপনারা আসেন। এসে আমাকে ধরে নিয়ে যান।’

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি মরদেহের পাশাপাশি অচেতন অবস্থায় মেয়ের জামাই শফিকুল ইসলাম ও নাতনি তৃপ্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়।

এসআই আজাদ কালাম আরও জানান, দুই দিন আগে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মেহজাবিন। তার ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তার স্বামীর পরকীয়া রয়েছে বলে বাবা-মাকে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরেই হয়ত তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এছাড়া সম্পত্তি নিয়েও তার পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল। নিজের নামে সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য বাবা-মাকে অনেক চাপ দিতেন তিনি। এ নিয়ে এর আগে সালিশ-বৈঠকও হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিষাক্ত কিছু প্রয়োগের আলামত পাওয়া গেছে। আলামতগুলো পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। মরদেহগুলো সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, সকালে আমরা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করি। আমরা মরদেহগুলো হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পেয়েছি। মাসুদ রানার বড় মেয়ে (মেহজাবিন) তাদের হত্যা করেছেন। তাকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগ: bdnewshour24