banglanewspaper

দেশে ক্রমেই বাড়ছে করোনায় মৃত্যু ও রোগীর সংখ্যা। ফলে দ্রুত কমে যাচ্ছে হাসপাতালগুলোর সাধারণ শয্যার পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। বিশেষ করে বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রবিবারের দেয়া তথ্যমতে, এই মুহূর্তে করোনা চিকিৎসা হয় ঢাকার এমন ১৬টি সরকারি হাসপাতালে মাত্র ৫৭টি আইসিইউ শয্যা খালি আছে।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের মধ্যে হাসপাতালে বেড ফাঁকা থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকার সরকারি করোনা ডেডিকেটেড ১৬ হাসপাতালে মোট আইসিইউ শয্যা ৩৯৩টি। রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৫৭৮ জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা শনাক্ত ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেল। মোট ১১ লাখ তিন হাজার ৯৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত হলো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শনিবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় যারা করোনায় মারা গেছেন তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬০ জন। এছাড়া ২২৫ জনের মধ্যে ১৮০ জন সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন।

কোন হাসপাতালে কত আইসিইউ ফাঁকা

রাজধানী ঢাকার করোনা ডেডিকেটেড ১৬ হাসপাতালগুলোর মধ্যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা হলেও সেখানে তাদের জন্য আইসিইউ নেই।

বাকিগুলোর মধ্যে রাজধানীর করোনা ডেডিকেটেড কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ১০ বেড, সরকার কর্মচারী হাসপাতালের ছয় বেড, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ বেড, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ বেড, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ বেড আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বেডের সবগুলোতে রোগী ভর্তি রয়েছে।

বাকি হাসপাতালগুলোর মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের ২৬ বেডের মধ্যে একটি, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৬ বেডের মধ্যে একটি, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫ মধ্যে দুটি, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আট বেডের মধ্যে একটি, টিবি হাসপাতালের ১৬ বেডের মধ্যে ১২টি, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ১০ বেডের মধ্যে চারটি ও ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের ২১২টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৩৬ বেড।

রোগী সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগেই শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশের প্রান্তিক পর্যায়সহ জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ শয্যার সংখ্যা কমে আসছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমণের সংখ্যা কিছুতেই কমছে না জানিয়ে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেছেন, যেখানে গত দুই মাস আগেও সারাদেশে সাধারণ শয্যা এবং আইসিইউ বেড খালি ছিল সে সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

রোবেদ আমিন জানান, যে হারে দেশে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে করে যদি হাসপাতালের বিদ্যমান চাপ চলতেই থাকে তাহলে আগামী সাত থেকে ১০ দিন পর আর হাসপাতালের বেড খালি থাকবে না।

ট্যাগ: bdnewshour24