banglanewspaper

আমার অতীত এতোটাই কষ্টের ছিল যে, এটা আমাকে আরও শক্তিশালী করেছে। আমি ভাঙব না, আমি সহিংসতাকে না বলি। এভাবেই বলছিলেন শাকিলা জেরিন নামের একজন আফগান নারী। যিনি এখন পরিচিত তার চেহারার জন্য। এই মুখটা যেন নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগাচ্ছে। 

ছোটবেলায় শাকিলা কোনো দিন হেসেছেন কিনা তাই তিনি মনে করতে পারেন না। অভাবের সংসার, তার উপর অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে স্বামীর ঘর করা। বলা যায় স্বামীর অত্যাচার সহ্য করাই আফগান মেয়েদের বিয়ের পরের ভবিষ্যৎ। শুধু স্বামী নয় তার পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতেও নির্যাতনের শিকার হতে হয় শাকিলার মতো হাজারো মেয়েদের। 

সুখী, দৃঢ়চেতা এই মুখের পেছনে রয়েছে নির্মম আর অন্ধকার এক গল্প। উত্তর আফগানিস্তানের বাঘালানে বেড়ে উঠেছেন শাকিলা জেরিন। ১৭ বছর বয়সেই একজন বয়স্ক লোকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো জেরিনের। 

জেরিন বলেন, আমাকে বিয়ে করার পরেই একটি হাতে তৈরি চাবুক দেখিয়ে তারা আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলো এটি আমার ওপর ব্যবহার করা হবে। আমাকে আমার শ্বশুর বাড়ির সবাই মারধর করতো। আফগানিস্তানের অনেক পুরুষই মানতে নারাজ যে কোনো নারী তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলবে। নির্যাতনের একপর্যায়ে জেরিন থানায় অভিযোগ করেন। থানায় যাওয়ার কথা জানতে পেরে তার তৎকালীন স্বামী তার মুখে গুলি করে দেন।

জেরিন বলেন, আমাকে গুলি করার পর আমি দিন রাতের হিসেব ভুলে যাই। আমি ভাবছিলাম এটি একটি দুঃস্বপ্ন। ঘুম ভেঙে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় ঘুম ভাঙার পর আমি বুঝতে পারি এটা স্বপ্ন ছিল না। তার মুখে ২২ টি অপারেশন করাতে হয়েছে।

কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো ও সালমান খানের সঙ্গে শাকিলা জেরিন

শাকিলা জেরিন বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। কানাডায় থেকেই আফগানিস্তানসহ বিশ্বের সকল নারীদের অধিকারের জন্য কাজ করছেন তিনি। ইতোমধ্যে মোযাইকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি আফগানিস্তানের নারীদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।  তিনি বলেন, আমি যদি তখন প্রতিবাদ না করতাম তাহলে হয়তো তারা আমাকে নির্যাতন করে মেরেই ফেলতো।

নারীদের জন্য বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ আফগানিস্তান। গত বছর এখানে নারীদের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজারের বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতির কারণে সহিংসতার এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ২৫ বছর বয়সী শাকিলা জেরিন ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়েও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন। 

ট্যাগ: bdnewshour24