banglanewspaper

বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিএসএফের একজন উপ-পরিদর্শককে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বিএসএফ ক্যাম্পের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ৩০ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বনগাঁও আদালতে রমেশ্বর কায়াল নামের বিএসএফ জওয়ানকে হাজির করা হয়। তাকে দুই দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে।


পুলিশ সূত্র ধরে টাইমস অব ইন্ডিয়ার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দুইজন নারী গাইঘাটার নিকট ঝাউডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল। তখন ১৫৮ বিএসএফ জওয়ানরা তাদের আটক করে। ওই দুই নারীর বাড়ি বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলায়।

গাইঘাটা থানায় করা মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেছেন যে, বিএসএফ জওয়ানরা তাদের দুজনকে খড়ের মাঠ বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে রমেশ্বর কায়াল নামের ওই বিএসএফ জওয়ান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এরপর এক পর্যায়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। তখন আশেপাশে কেউ ছিল না।

ওই নারী বলেছেন, ‘আমি ও আমার বান্ধবী গুজরাটে শাড়ির ব্যবসা করি। একজন দালালের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম। পার করে দিতে ওই ব্যক্তি আমাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার রুপি নিয়েছিল। কিন্তু বিএসএফ আমাদের ধরে ফেলে। পরে রাতে আমাকে একা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ধর্ষণ করা হয়।’

বিএসএফ ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গাইঘাটা থানায় যান ওই নারী এবং মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই বিএসএফ জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে।

বনগাঁও এসিজেএম আদালতের চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর সমীর দাস বলেছেন, ‘কায়ালের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ কাস্টডিতে তাকে দুই দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে। সিআরপিসির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট ওই নারীর জবানবন্দি নিয়েছেন।’

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, অভিযোগকারী নারীকে বনগাঁও উপবিভাগীয় হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পরে ওই দুই নারীকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার জন্য গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।

ট্যাগ: bdnewshour24