banglanewspaper

একদিকে করোনার ঊর্ধ্বগতি। অন্যদিকে কঠোর বিধিনিষেধ। এর মধ্যেই শিল্পকারাখানা খুলে দেয়ায় ঢাকায় ঢুকেছেন লাখ লাখ শ্রমিক। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এসব শ্রমিক ঢাকায় আসায় সামনের দিনগুলোতে করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকরা এক দিনের ঘোষণায় ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে কর্মস্থলে ফিরছে, এটা আমাদের জন্য আরও ভয়ংকর পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারে।


রবিবার দুপুরে মহাখালীর বিসিপিএস অডিটোরিয়াম হলে ১ম বর্ষ এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এক কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেয়া হবে। ৭ তারিখ থেকে উপজেলা পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে। এনআইডি কার্ড না থাকলেও বয়স্করা টিকা পাবেন। সে অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশে করোনা এখনও ঊর্ধ্বমুখী। তাই সবাইকেই বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে জুলাই মাসের শুরু থেকে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ দেয় সরকার। পরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু কেনাকাটা ও ঘরমুখো মানুষের স্বাভাবিক যাত্রা নিশ্চিত করতে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যান্ত গণপরিবহন চালুসহ বেশ কিছু শর্ত শিথিল করা হয়।

ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবারো শুরু হয় ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। কিন্তু এর মধ্যেই মালিকদের অনুরোধে রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হয় শিল্পকারখানা।

হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েন ঢাকার বাইরে থাকা শ্রমিকরা। তাই চাকরি বাঁচাতে দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে শনিবার ঢাকায় ফেরেন লাখ লাখ শ্রমিক।

অবশ্য দিন শেষে শ্রমিকদের সুবিধার্থে শনিবার রাত ৮টার পর থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রবিবার বেলা ১২টা পর্য্ন্ত গণপরিবহন এবং লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও যাত্রী চাপ না থাকায় বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চল থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে গণপরিবহন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করেছে।
জাহিদ মালেক বলেন, আজ থেকে গার্মেন্ট খুলে দেয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। ফলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়বে। জীবনের জন্য জীবিকার দরকার হয়। সরকারকে সবকিছুই ভাবতে হয়।

পূর্বাঞ্চল তথা কুমিল্লায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে এমন তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন দেশের উত্তরাঞ্চলে সংক্রমণ কম। মধ্যাঞ্চলে সংক্রমণ স্থিতিশীল। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর প্রমুখ বক্তব্য দেন। এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএমএ’র সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

ট্যাগ: bdnewshour24