banglanewspaper

বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাঙ্গণতো বটেই, এমনকি পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ নিয়ে আগ্রহ খুব কমই দেখা যায়। হাতে গোনা দু‘একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে এক্ষেত্রে নিজেদের উদ্যোগে কাজ করার উদাহরণ কম। তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিববর্ষ নিয়ে অন্য সকলের জন্য উদাহরন সৃষ্টি করেছে দেশের শীর্ষ বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাঙ্গণ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনসএসইউ)।

দেশ বিদেশেন স্বনামধন্য ৪৭ জন লেখক ও রাজনিতিবিদদের লেখা নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নামে বইটি রচনা ও প্রকাশ ছাড়াও নর্থ সাউথ প্রতিষ্ঠা করেছে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত দুই হাজারেও বেশি বই ছাড়াও কর্নারে আছে আরো দুর্লব সব সংগ্রহ যা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এয়াড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে আরো নানা আয়োজনে এই করোনাকালেও ব্যস্ত সময় পার করছে নর্থ সাউথ। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ।

ইউজিসি চেয়ারম্যান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘অত্যন্ত ভাল কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ধরনের কাজ খুব প্রয়োজন আমাদের জন্য। তারা অনেক কাজ করছে। আমরা এ ধরনের কাজকে সাধুবাদ জানাই। আশাকরি নর্থ সাউথের পথ ধরে এন্য বেনরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানহগুলো এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে ড. অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘আসলে তুলনামূলকভাবে বেশি ইংলিশ মিডিয়াম ব্যকগ্রাউন্ড থাকা শিক্ষাথীরা জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটু কম সচেতন থাকে। দেখা যায় তারা বিদেশের অনেক কিছু জানে। তবে নর্থ সাউথের মতো অন্যরা যদি এভাবে কাজ কনেরর তাহলে তার অত্যন্ত ইতিবাচক ফল আমরা পাবো।’

নর্থ সাউথ সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ। বছরব্যাপী ‘মুজিববর্ষ’ পালনের লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে নানা এমন সব কর্মসুচি যা এখন পর্যন্ত অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত দেয়া যায়নি। আয়োজনের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম এবং বিশ্ববাসিকে জানানোর জন্য নেয়া প্রকাশ করা হয়েছে বই। জাতির জনকের জীবন নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি দেশ বিদেশের স্বনামধন্য ৪৭ জন লেখক ও রাজনিতিবিদদের লেখা নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ নামে বই রচনা ও প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের পাঠকদের কথা বিবেচনা করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। যে বই ইতোমধ্যে প্রসংশা পাচ্ছে সকল মহলে।

সম্প্রতিক ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” বইয়ের ভার্চুয়াল মোড়ক উন্মোচন করা হয়। যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা: দীপু মনি। এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে স্থাপন করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’। গবেষকদের মধ্যে গবেষণা  স্বর্ণপদক ও সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে লেখা দুই হাজার ১৭৮ টি বই, সামগ্রী এবং ছবির বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত এই কর্নারে সংরক্ষিত আছে। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত গবেষণা কাজে এই কর্নারে রাখা সকল বই এবং ছবিগুলো ব্যবহার করা যাবে।

ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নর্থ সাউথ সম্পূর্ণ বিনা বেতনে অধ্যায়নের সুযোগ দিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩০০ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বিনা বেতনে পডাশোনা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রতিবছর বিজয় দিবসে অভিভাবক মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করে থাকে।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইফজিসির সহায়তায় আয়োজিত ১০০ দিনব্যাপী ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কুইজ’ প্রতিযোগিতার এর নলেজ পার্টনার ছিলো নর্থ সাউথ। এ প্রতিযোগিতায় সারা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের এক কোটিরও বেশী ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। এনএসইউ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষের স্মারক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত কলম তৈরি করেছে। বছরব্যপী নানা আয়োজনে এই করোনাকালেও ব্যস্ত সময় পার করছেন চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরা।

ট্যাগ: bdnewshour24

জাতীয়
দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি চর রাজিবপুরে, কম গুলশানে

banglanewspaper

দেশের সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ বাস করেন কুড়িগ্রামের চর রাজিব উপজেলায়। এ এলাকায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। এ ছাড়া দেশে সবচেয়ে কম দরিদ্র মানুষ বাস করেন ঢাকার গুলশানে। এ এলাকায় মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। সারাদেশে গড় দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

রোববার (২২ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘প্রভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যাপস বেজড অন স্মল এরিয়া এস্টিমেশন টেকনিক’ শীর্ষক সেমিনারে ২০১৬ সালের দারিদ্র্যের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে দেশের দারিদ্র্য মানচিত্র প্রকাশ করা হয়।

দারিদ্র্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সারাদেশকে মেট্রোপলিটন থানাসহ ৫৭৭টি উপজেলায় বিভক্ত করা হয়েছে।

সেমিনারে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ১৬ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে অতি নিম্ন দারিদ্র্যের হার গ্রুপে ৭৭টি উপজেলা-মেট্রোপলিটন থানা রয়েছে। এ ছাড়া অতি উচ্চ দারিদ্র্যের হার গ্রুপে রয়েছে আরও ১২টি উপজেলা। এই বিভাগে সবচেয়ে কম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা গুলাশানে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মিঠামইন উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৬১ দশমিক ২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এই বিভাগে চট্টগ্রাম সদরে সবচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশি থানচি উপজেলায় ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

এদিকে, বরিশাল বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ২৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এই বিভাগের দৌলতখান উপজেলায় দারিদ্রের হার সবচেয়ে কম ১২ দশমিক ২ শতাংশ এবং দশমিনা উপজেলায় দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

খুলনা বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই বিভাগে সবেচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সবেচেয়ে বেশি মাগুরার মোহম্মদপুর উপজেলায় ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ৩২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ বিভাগের ভালুকা উপজেলায় দারিদ্র্যের হার সবেচেয়ে কম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সবেচেয়ে বেশি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ।

রাজশাহী বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ২৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এই বিভাগে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম বোয়ালিয়া উপজেলায় ৯ শতাংশ এবং সবেচেয়ে বেশি পোরশায় ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

রংপুর বিভাগে দরিদ্র মানুষের গড় হার ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই বিভাগে সবচেয়ে বেশি দারিদ্রের হার কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম আটোয়ারী উপজেলায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

সিলেটে দরিদ্র মানুষের গড় হার ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই বিভাগে সবচেয়ে কম দারিদ্রের হার বিশ্বনাথে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশি শাল্লা উপজেলা ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিবিএস’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেনি পিয়ার্সি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিএস’র প্রভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যাপিংসের ফোকাল পয়েন্ট মো. আলমগীর হোসেন।

ট্যাগ:

জাতীয়
আত্মসমর্পণের পর কারাগারে হাজী সেলিম

banglanewspaper

দুর্নীতির মামলায় হাইকোর্টের রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল থাকায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে।

রবিবার (২২ মে) শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে যে কোনো শর্তে জামিনের আবেদন করেন হাজী মোহাম্মদ সেলিম। আবেদনে হাজী সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালে ওপেন হার্ট সার্জারির সময় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন যাবত বাক-শক্তিহীন অবস্থায় রয়েছেন হাজী সেলিম। তিনি দেশ ও বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন। জেলে থাকলে চিকিৎসার অভাবে ও বাক-শক্তি না থাকায় যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে যে কোনো শর্তে তার জামিন আবেদন করছি। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না। তাই আপিল শর্তে আত্মসমর্পণ পূর্বক তার জামিন আবেদন করছি।

গত ২৫ এপ্রিল দুপুর ৩টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলামের আদালতে হাইকোর্ট থেকে মামলার নথি এসে পৌঁছায়। এদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে রায়ের নথি পাঠানো হয়। সেদিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, আইন অনুযায়ী আজ থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আর হাইকোর্টের রায়ের ফলে তার সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা নেই।

এর আগে হাজী সেলিমকে বিচারিক (নিম্ন) আদালতে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ২০২১ সালের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ পায় রায়।

এছাড়া জরিমানার টাকা অনাদায়ে হাজী সেলিমকে আদালত আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং রায় পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করলে জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এছাড়া জব্দ করা হাজী সেলিমের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে বলা হয়।

জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এরপর ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল হাজী সেলিমকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।পরে ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর হাজী সেলিম এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১৩ বছরের সাজা বাতিল করে রায় দেন।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টের ওই রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে হাজী সেলিমের আপিল পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় দেন হাইকোর্ট। সেখানে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ১০ বছর বহাল থাকে।

ট্যাগ:

জাতীয়
মাঙ্কিপক্স: বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা

banglanewspaper

মাঙ্কিপক্স এর বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ওপর সজাগ দৃষ্টিসহ স্ক্রিনিং জোরদার করা হয়। রবিবার (২২ মে) পর্যন্ত বিমানবন্দরে এ ধরনের কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলামের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সতকর্তা জারি করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীর শরীরে মাঙ্কিপক্সের মতো সন্দেহজনক ও লক্ষণ দেখা গেলে তাকে কাছের হাসপাতালে বা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। 

বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগের ড. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীর দেহে মাঙ্কিপক্স উপসর্গ শনাক্ত হলে তা সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) জানাতে হবে।

এ ব্যাপারে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম বলেন, মাঙ্কিপক্সের বিস্তার রোধে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য বিভাগ। বিমানবন্দরে কোভিড-১৯ সনাক্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য কার্ড পূরণ করেন যাত্রীরা। মাঙ্কিপক্স শনাক্তের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের স্বাস্থ্য কার্ড (হেলথ কার্ড) পূরণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ট্যাগ:

জাতীয়
পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে কঠিন কাজও সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে যেকোনো কঠিন কাজও সমাধান করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (২২ মে) ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিলের সভায় এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

শতবছরের পরিকল্পনা বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারপারসন করে এই কাউন্সিল গঠন করা হয়। ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে গত বছরের ১ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ডেল্টা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ডেল্টা প্ল্যানটা যদি আমরা ভালোভাবে একটা গাইডলাইন তৈরি করে প্ল্যান ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, আর যেহেতু এটা ২১০০ সাল পর্যন্ত, তাই সময়ের সঙ্গে এটা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন করতে হবে। সেইভাবেই কিন্তু আমাদের সব প্ল্যান হাতে নিতে হবে, নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব। ডেল্টা প্ল্যানের লক্ষ্যে পরিবেশ রক্ষা করে উন্নত পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে যেকোনো কঠিন কাজ করা সহজ হয়।

সভায় সরকারপ্রধান বলেন, যমুনা সেতুর দৈর্ঘ্য কমানো হয়েছিল, যেটা পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে করা হয়নি। যে কারণে পদ্মা সেতু দীর্ঘ হয়েছে। কিন্তু এখানে নদীর বাফার জোনও রক্ষা করা হয়েছে।

ব-দ্বীপ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নত জীবন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মন্তব্য করে পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিত শিল্পায়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্রকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

ট্যাগ:

জাতীয়
সরকারি কর্মচারীদের ৬০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর দাবি

banglanewspaper

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল প্রদান না করা পর্যন্ত সরকারি কর্মচারিদের অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য ৬০% বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণী সরকারি কর্মচারী সমিতি। শনিবার (২১ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি'র সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৫ সনে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল প্রদানের পর বিগত ৭ (সাত) বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আয়ের সরকারি কর্মচারিদের জীবন যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন জাতীয় বেতন স্কেল প্রদান অত্যাবশ্যক। 

নতুন বেতন স্কেল প্রদান না করা পর্যন্ত অসহায় ও হতাশাগ্রস্থ সরকারি কর্মচারিদেরকে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য ৬০% বেতন বৃদ্ধি করাসহ চিকিৎসা ভাতা ৪ হাজার টাকা প্রদান এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য নিরসনকল্পে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ন্যায় সচিবালয় বহির্ভূর্ত অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, স্টেনোগ্রাফার, কম্পিউটার অপারেটর, স্টোর কিপারসহ সমমানের সমমর্যাদার কর্মচারীদের পদ-পদবী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বপদে দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা ও বেতনস্কেল প্রদান, ডিপ্লোমা নার্সদের ন্যায় সমশিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা হেলথ টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও সম শিক্ষাগত যোগ্যতাধারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদাসহ বেতনস্কেল প্রদানের দাবি জানানো হয়।

দাবি বাস্তবায়নে আগামী মঙ্গলবার (২৪ মে) প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, আগামী ২৬ মে হতে ৯ জুন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন দপ্তর/প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলাসমূহে দাবির সমর্থণে কর্মচারি সমাবেশ এবং দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১১ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- সমিতির মহাসচিব মো. ছালজার রহমান। উপস্থিত ছিলেন- সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান; কার্যকরী সভাপতি নূরুন্নবী, রায়হান চৌধুরী, আসাদুজ্জামান, তাইজুল ইসলাম, হুমায়ূন কবির; সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লাহ, মনিরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, খতিবুর রহমান, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম মিয়া, মোজাম্মেল হক; অতিরিক্ত মহাসচিব তাপস কুমার, মনির হোসেন বাবু, মফিজুল ইসলাম পিন্টু, মজিবুর রহমান খান, মনিরুল ইসলাম; ঢামেক সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান, সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাসেল ও মাহাতাব উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মামুন, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, ফারুক বিশ্বাস, দৌলতউজ্জামান ফরহাদ হোসেন, সেলিম রেজা, লিপি আক্তার, নাজমা আক্তার, রুবিয়া ইয়াসমিন, সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান, হাদিউজ্জামান, জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন বিমক, আনোয়ার হোসেন বিএসটিআই, আনোয়ার হোসেন শিক্ষা বোর্ড, আরিফুল ইসলাম, মিজানুর রহমান এবং উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুর রহমান ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

ট্যাগ: