banglanewspaper

পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন দুঃসাহসী অভিযাত্রী ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম। টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ‘কোমায়’ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই পাইলট না ফেরার দেশে চলে গেলেন।  সোমবার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সকাল ১১টার দিকে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেন ভারতের নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।তার মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ একজন পাইলট। দুঃসহ অভিযাত্রার স্বীকৃতিও মিলেছে ক্যাপ্টেন নওশাদের। বৈমানিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএএলপিএ) প্রশংসাপত্র পেয়েছেন এই বৈমানিক।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর চাকা ফেটে যাওয়া বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২২ ফ্লাইটটি নিরাপদে আবতরণ করানোর তাকে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। সে যাত্রায় ১৪৯ যাত্রী আর ৭ ক্রুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ। 

এরপর গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) মাসকাট-ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল ফ্লাইট বিজি ০২২ মোট ১২৪ যাত্রী নিয়ে ঢাকা আসার পথে পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। এরপর নাগপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়। 

শনিবার রাতেই নওশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি ‘কোমায়’ চলে যান।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২২ ফ্লাইটে ক্যাপ্টেন ছিলেন নওশাদ। সেই ফ্লাইটটি মাস্কাট বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টেক-অফ করার পর মাস্কাট বিমানবন্দরের রানওয়েতে তার বিমানের টায়ার ফেটে যায়। কিন্তু উপায় ছিলো না। বিমান নিয়ে উড়তে হয় তাকে। 

ঘটনার পরপরই মাইক্রোফোনে যাত্রীদের আতঙ্কিত না হতে বলেন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। তিনি ও ফার্স্ট অফিসার মেহেদী হাসান বুঝতেও পারছিলেন, কী ঘটেছে। ১৮ টন জ্বালানি আর উড়োজাহাজটির ওজন ৬০ টন। সব মিলিয়ে ৭৮ টন ওজনের বিশাল উড়োজাহাজের ওমানে জরুরি অবতরণ করাও অসম্ভব। একটু এদিক-সেদিক হলেই বিস্ফোরিত হতো উড়োজাহাজটি। প্রাণ যেতে পারত সব আরোহীর। তবে পাঁচ ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে অতি দক্ষতার সঙ্গে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করান ক্যাপ্টেন নওশাদ। জীবন রক্ষা পায় দেড়শ যাত্রীর।
 

ট্যাগ: bdnewshour24