banglanewspaper

খুবি প্রতিনিধি : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসচালক সেলিম আজমলের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ উঠেছে। বাস থেকে অবৈধভাবে তেল সরানোর সময় রবিবার সাংবাদিকের মোবাইল ফোনে ধারণ হয়ে সেই দৃশ্য। এরপর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এ বিষয়ে বিশ্বিবদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক ড. শেখ জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি থেকে এক বিন্দু তেল বের করার অধিকার কারও নেই। আজকে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটি, এ কারণে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।’

পরিচালক বলেন, ‘ওই বাসচালককে তার রুটিন দায়িত্ব থেকে আপাতত বিরত রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে চুল পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না।’

দৈনিক সময়ের খবরের সিনিয়র রিপোর্টার আশরাফুল ইসলাম নূরের সামনেই তেল চুরির ঘটনাটি ঘটে। আশরাফুল তাৎক্ষণিক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে তেল চুরির ঘটনাটি ফোনে ক্যামেরাবন্দি করেন।

রবিবার দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটের দিকে মেট্রোপলিটন পেট্রোল পাম্পের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আশরাফুল। এ সময় তিনি দেখেন, পাম্পের গ্যারেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি (খুলনা মেট্রো ঝ ১১-০০০৬) একজন শ্রমিক পানি দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন। আরেকজন শ্রমিক বাসের নিচে পাইপ ঢুকিয়ে ৩০ লিটারের বড় ড্রামে বাস থেকে তেল বের করছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে তেল বের করার দৃশ্য দেখেই মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও করা শুরু করেন ওই প্রতিবেদক।

মুহূর্তেই বাসটির চালক সেলিম আজমল এগিয়ে এসে মোবাইল ফোনে চিত্রধারণের কারণ ও আশরাফুলের পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে বাসটির চালক তাৎক্ষণিক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাসটি ওয়াশ করতে এক লিটার তেল প্রয়োজন, তাই ওরা তেল বের করছে।’ প্রকৃতপক্ষে ৩০ লিটারের ড্রামটিতে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি তেল ভরা হয়েছিল। দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে দেখে প্রতিবেদকের ফোনটি কেড়ে নেবারও চেষ্টা করেন বাসচালক সেলিম আজমল।

এ বিষয়ে ওই পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার জানান, রবিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি বাস সেখানে ওয়াশ করা হয়েছিল। তবে বাস থেকে তেল চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ট্যাগ: bdnewshour24