banglanewspaper

চলমান সিরিজে কিউইদের সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জার রেকর্ড দিয়েছিল বাংলাদেশ। এক ম্যাচ ব্যবধানে এবার বাংলাদেশ পেল সেই লজ্জা! অবশ্য আজ মিরপুরে ৭৬ রানে অল আউট হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়ল টাইগাররা। এই সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান কিউইদের বিপক্ষেই। ২০১৬ সালে তারা অলআউট হয়েছিল মাত্র ৭০ রানে। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলে মাত্র ৯.৩ ওভারে ৭৬ রানে গুটিয়ে গেছিল তারা। আজ ঘরের মাঠে ফেরাল সেই রেকর্ড!

টাইগারদের লজ্জার দিনে ৫২ রানের জয়ে সিরিজে টিকে থাকল সফরকারী কিউইরা। পাঁচ ম্যাচের সিরিজের তিন ম্যাচ শেষে ২-১ এ ব্যবধান কমাল ব্লাক ক্যাপসরা। নির্ধারিত ওভার শেষ হবার আগেই টাইগাররা অল আউট হয় মাত্র ৭৬ রানে। কিউইদের হয়ে ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন আজাজ প্যাটেল ও ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন কোল ম্যাকোনকি।

এদিন মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। তিন পরিবর্তন আনা দলটিকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন সম্প্রতি করোনা মুক্ত হওয়া ফিন অ্যালেন (১৫)। তবে ‘বারুদ’ খ্যাত ফিন অ্যালেনকে বিপজ্জনক হওয়ার আগেই তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষের দিকে ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে অবিচ্ছিন্ন ৬৫ রানের জুটিতে ১২৮ রানের সংগ্রহ গড়েন হেনরি-ব্লান্ডলরা। টাইগারদের হয়ে দুটি উইকেট নেন পেসার সাইফউদ্দিন।

অবশ্য শুরুতে সিরিজ বাঁচানো ম্যাচে দারুণভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন কিউই ব্যাটাররা। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরু করা কিউইরা পাওয়ার প্লেতে তুলে ফেলেছিলেন ৪১ রান। হারিয়েছিলেন মাত্র এক উইকেট। সেখানে জোড়া আঘাত হেনে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান পেসার সাইফ উদ্দিন।

টাইগারদের বিপক্ষে স্টোকের ফুলিঝুড়ি ছোটানো উইল ইয়ং (২০) ফেরার পরই ফেরেন অভিজ্ঞ কলিন ডি গ্রান্ডহোম (০)। পরে ধীরে শুরু করা ওপেনার রাচিন রাবিন্দ্রকে বোল্ড করে ফেরান শততম ম্যাচ খেলা মাহমুদউল্লাহ।

গত ম্যাচে ফিফটিতে আশা জাগানো টম লাথামকে আজ ফেরান টাইগার অফ স্পিনার মেহেদি হাসান। কিউই অধিনায়ক এদিন ব্যাট হাতে করেছেন মাত্র ৫ রান। ৬২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে সেখান থেকে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ১২৮ রানের সংগ্রহ গড়েন হেনরি-ব্লান্ডলরা। ৬৫ রানের জুটিতে ২৯ বলে ৩৬ রান নিয়ে নিকোলাস ও ৩০ বলে ৩০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন টম ব্লান্ডল।

জবাবে ঘরের মাটিতে অল্পতেই গুটিয়ে গেলেও শুরুটা দারুণ করেছিলেন দুই ওপেনার। অবশ্য ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আসা ম্যাকোনকির ওপর চড়া হওয়ার পরই ফিরতে হয় টাইগার ওপেনার লিটনকে। এলবি হয়ে ফেরার আগে অবশ্য নাঈম-লিটন দারুণ শুরু এনে দেন। এরপর আজাজ প্যাটেল দাগান তোপ। ওপরের দিকে ব্যাটিংয়ে নামানো মেহেদি হাসান (১) পারেননি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে। আর আজাজের বলে তুলে মারতে গিয়ে ফেরেন সাকিব আল হাসান (০)। পরে আরেক বারের হানায় তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ-আফিফের উইকেট। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৬ রানে ৪ উইকেট নেন এই স্পিনার। পুরুস্কার স্বরুপ তার মিলেছে ম্যাচ সেরার খেতাব।

৪৩ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে অবশ্য ভালো কিছু দিতে ব্যর্থ হন নুরুল হাসান সোহান। যদিও দুর্দান্ত এক ডাইভে রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন তবুও দশের (৮) নিচেই থামে তার ব্যাট। পরে ৬৬ রানে সাইফউদ্দিন ফিরলে চোখ রাঙাচ্ছিল লজ্জার রেকর্ড গড়ার। হারের ব্যবধান কমাতে ক্রিজে ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। ১৯.৪ ওভারে গ্রান্ডহোম মোস্তাফিজকে তুলে নিলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ড গড়ে টাইগাররা।

সিরিজের বাকি দুই ম্যাচ যথাক্রমে আগামী ৮ ও ১০ সেপ্টেম্বর। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরে, বিকেল চারটায়।

ট্যাগ: bdnewshour24