banglanewspaper

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা ভাবনা করছে। এত দিন মুখে মুখে ঘুরলেও গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে সৌদি আরব যে প্রস্তাব তুলেছে, সেটা ফুটবলে অনুন্নত দেশগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার মুখেও সে প্রস্তাব এগোবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন জাগছে। 

কারণ, উয়েফা হুমকি দিয়ে রেখেছে, দরকার হলে বিশ্বকাপে খেলবে না ইউরোপের কোনো দল। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন তো কদিন আগেই এ ব্যাপারে তার অমত জানিয়ে দিয়েছিলেন। এবার দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের সভাপতি সেবাস্তিয়ান কো। অলিম্পিকের মতো আয়োজন এতে বাধাগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করছেন কো।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য এমনিতেই ফুটবলারদের ছাড়তে আপত্তি থাকে ইউরোপের শীর্ষ লিগের দলগুলোর। এখন প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ ও ইউরো আয়োজনের কথা বলছে ফিফা। তার মানে আর দুই বছর পর পর নয়, প্রতি বছরই কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে হবে শীর্ষ ফুটবলারদের। 
এই বাড়তি ফুটবল খেলাটা তাদের ক্লাব ক্যারিয়ারকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে। তাই ইউরোপের আরও ৩৬টি লিগের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে ফিফার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। যেখানে তারা সবাই একাত্ম হয়ে দৃঢ়ভাবে ফিফার বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।

ফিফার বৈশ্বিক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার বলছেন, ২০২৮ সাল থেকেই দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব। অর্থাৎ ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকের কয়েক সপ্তাহ আগে হবে বিশ্বকাপ। 
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য কো এ প্রস্তাব মানতেই পারছেন না, ‘আমি এর পেছনে কোনো ভালো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো অপ্রকাশ্য লাভ থাকতেও পারে কিন্তু গ্রীষ্মকালীন খেলাগুলো (অ্যাথলেটিকস) এ ব্যাপারে অনেক রক্ষণশীল। কারণ, এমনিতেই সংবাদমাধ্যমের নজর পেতে কষ্ট হয়। দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ হলে অলিম্পিক গেমসের সঙ্গে এ ব্যাপারে সমস্যা হবেই।’

এভাবে আর্থিক লাভের জন্য খেলোয়াড়দের বিপদে ফেলাটা মানতে পারছেন না কো, ‘আমি অনেক বড় ফুটবল ভক্ত। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এটা অনেক খেলোয়াড়কে বেশ বড় শারীরিক ধকলের মধ্যে ফেলে দেবে। ক্লাব ও লিগগুলো এর বিপক্ষে। আমার মন বলছে, আপনি চাইলে আরও খেলা ক্যালেন্ডারে ঢোকাতে পারবেন, কিন্তু মাঝে মাঝে কমই বেশি (ভালো)।’

কো শুধু আবেদনই রাখতে পারছেন, কিন্তু সেফেরিনের পক্ষে কিছু করা সম্ভব। এবং উয়েফা সভাপতি সেটা করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। 

দ্য টাইমসকে বলেছেন, ‘আমরা এখানে না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আমি যত দূর জানি দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোও এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে আছে। তাহলে এমন এক বিশ্বকাপ আয়োজন করার জন্য শুভ কামনা। আমার ধারণা, এটা কখনোই ঘটবে না কারণ, এটা ফুটবলের মূল নীতির বিপক্ষে। প্রতি মৌসুমে এক মাস ধরে একটা টুর্নামেন্ট, খেলোয়াড়দের মেরে ফেলার উপায়।’

এখন পর্যন্ত ২১টি বিশ্বকাপ হয়েছে। এর প্রতিটিই জিতেছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশ। এ দুই অঞ্চলের দলগুলো না থাকা মানে হচ্ছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনের মতো দলগুলোর না থাকা। তেমন এক বিশ্বকাপ দর্শক আগ্রহ কখনোই জাগাবে না। ফলে ফিফার আর্থিক উদ্দেশ্য বা খেলা ছড়ানোর উদ্দেশ্য কোনোটাই পূরণ হবে না।

মঙ্গলবার উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশকে একটি মিটিংয়ে ডেকেছেন সেফেরিন। আর দুই বছর পর পর ইউরো আয়োজনের কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন সেফেরিন।

তিনি বলেন, ‘আর্থিকভাবে উয়েফার জন্য লাভজনক হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, এতে ফুটবলকে মেরে ফেলব। আমরা খেলোয়াড়দের মেরে ফেলছি। আমার মনে হয় না, কোনো ক্লাব ফুটবলারদের ছাড়বে। এটাই আমাদের বিভক্ত করে দেবে।’ 

সেফেরিন আরও বলেন, ‘আমি জভোনিমির বোবানের (সাবেক ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড়, বর্তমান উয়েফা ফুটবল প্রধান) সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে বলেছেন, এখন একটা বিশ্বকাপ বা ইউরোর ধকল কাটাতেই নভেম্বর এসে যায়। এ জিনিস প্রতি বছর হলে কী হবে চিন্তা করুন!’

ট্যাগ: বিশ্বকাপ