banglanewspaper

‘বন্ড, জেমস বন্ড!’ হলিউডের ইতিহাসে নির্দ্বিধায় আইকনিক সংলাপের মধ্যে অন্যতম এটি। এই সংলাপের বক্তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ছবির সিরিজ সম্ভবত সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় সিরিজের মধ্যে একটি, ‘জেমস বন্ড’।

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্টি এই ব্রিটিশ এজেন্টের ভক্ত ছড়িয়ে রয়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে। ক্ষুরধার বুদ্ধি, অদম্য সাহস, পাথুরে মন এবং সব রকমের অস্ত্রে চালানো নিপুণ এই ‘এমআই সিক্স’-এর এজেন্ট। সুন্দরী নারী এবং চোখ ধাঁধানো সব গাড়ি ছাড়া অসম্পূর্ণ ‘বন্ড’-এর চরিত্র।

গত ৬০ বছর ধরে বড় পর্দায় যে যে অভিনেতারা ‘বন্ড’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে এক মুহূর্ত সময় লাগেনি তাদের। কিছুটা বিতর্ক থাকলেও এই অভিনেতাদের মধ্যে সম্ভবত সব থেকে জনপ্রিয় ড্যানিয়েল ক্রেইগ।

তবে গত দুই বছর ধরে বন্ড ফ্যানরা মেতেছেন একটি তর্কে। এক পক্ষের মতে, অনেক তো হল এবার ‘০০৭’-এর ভূমিকায় দেখানো হোক কোনো নারীকে। তাতে লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধেও হয়তো জোরদার বার্তা দেওয়া যাবে এবং গ্লোবালাইজেশনের যুগের সঙ্গেও পাল্লা দেওয়া যাবে।

ওদিকে স্বাদ বদলের ব্যাপারটা তো রইলই। তবে প্রাচীনপন্থী বন্ড ফ্যানরা অবশ্য ‘প্রোটেস্টান্ট বন্ড লাভারদের’ এই সম্ভাব্য যুক্তি স্রেফ মাছি তাড়ানোর মত উড়িয়ে দিয়েছেন। হলিউডের বিভিন্ন তারকারাও এই তর্কে অংশগ্ৰহণ করেন। এবার সেই ব্যাপারে মুখ খুললেন বর্তমান ‘জেমস বন্ড’ ড্যানিয়েল ক্রেগ স্বয়ং।

এই তর্কের সূত্রপাত তখনই হয়েছিল, যখন ড্যানিয়েল ঘোষণা করেছিলেন ‘নো টাইম টু ডাই’ হতে চলেছে বন্ড হিসেবে তার শেষ ছবি। এর পরই বন্ড-ভক্তদের একাংশের মধ্য থেকে দাবি ওঠে ‘০০৭’কে এবার নারী রূপে দেখানো হোক।

এ বিষয়ে এতদিন চুপ থাকলেও সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রেগ বলেন, ‘আগে আমাকে বলুন, কেন বন্ডকে নারী হিসেবে পেশ করা হবে? প্রয়োজনটা ঠিক কী? আদপেই তার কোনো দরকার আছে কি?’

তিনি বলেন, ‘কেন খামোখা একজন মেয়ে বন্ডের চরিত্র অভিনয় করতে যাবেন, যেখানে বন্ডের ছবিতে তার মতোই দারুণ গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্রে দিব্যি অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে মেয়েদের।’

অবশ্য ‘নো টাইম টু ডাই’ ছবিতে ক্রেগের সহ-অভিনেত্রী লাসানা লিঞ্চ এই মতের সঙ্গে একমত নন। ‘বন্ড’-এর চরিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ দেখিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও।

তবে হেনরি কেভিল, টম হিডলস্টোন, ক্রিস হেমসওয়ার্থ, টম হার্ডি, ইদ্রিস এলবার মতো বিশ্ববিখ্যাত সব পুরুষ তারকারাও পর্দায় ‘জেমস বন্ড’ হওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। সুতরাং, পাল্লা যে তাদের দিকেই ভারী, তা আলাদা করে বলার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে কে শেষ পর্যন্ত ক্রেগের ছেড়ে যাওয়া জুতায় পা গলিয়ে নতুন বন্ড হয়ে ওঠেন, সেটাই দেখার।

ট্যাগ: জেমস বন্ড