banglanewspaper

অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় যুব মহিলালীগ থেকে বহিষ্কৃত আলোচিত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের উপস্থিতিতে এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বর চার্জশুনানির তারিখ ধার্য করে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ বদলির আদেশ দেন আদালত।

গত বছর ৪ আগস্ট দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থার উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাপিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুম ভাড়া নেন পাপিয়া। তিনি নগদে মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা বিল পরিশোধ করেন। ওয়েস্টিন হোটেলে থাকা অবস্থায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা করেন পাপিয়া। এসব অর্থের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

এছাড়া ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাসা ভাড়া ৩০ লাখ টাকা, গাড়ির ব্যবসায় বিনিয়োগ ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশনে বিনিয়োগ ২০ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও স্বামীর নামে জমা রাখা ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকারও কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি দুদকের অনুসন্ধানে।

অন্যদিকে র‌্যাবের অভিযানে তার বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং সুমনের নামে হোন্ডা সিভিএ ২০১২ মডেলের ২২ লাখ টাকার গাড়ি জব্দ করা হয়। এরও কোনো বৈধ উৎস মেলেনি দুদকের অনুসন্ধানে।

মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এসব অর্থের বৈধ উৎসের দালিলিক প্রমাণ না পাওয়ায় পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলালীগের (বর্তমানে আজীবন বহিষ্কৃত) সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেশত্যাগের সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন। সেদিন পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ও তার দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও কাজী তায়্যিবা নূরও একই স্থান থেকে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন।

গ্রেপ্তারের পর পাপিয়ার নানা অপকর্ম তথ্য বেরিয়ে আসে। গুলশানের পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট সাড়ে ৪ মাস ধরে ভাড়া ছিল পাপিয়ার কাছে। এ সময়ে হোটেলটির কক্ষ ভাড়া, মদের বিল, খাবারের খরচসহ আনুষঙ্গিক মোট বিল হয়েছিল তিন কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতিদিন হোটেলের বিল বাবদ গড়ে খরচ করেন আড়াই লাখ টাকা। তরুণীদের অনৈতিক ব্যবহার, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, জাল নোটের কারবার, চাঁদাবাজি, তদবির-বাণিজ্য, জায়গাজমি দখল-বেদখল ও অনৈতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হন পাপিয়া ও সুমন দম্পতি।

ধরা পড়ার পর পাপিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়।

ট্যাগ: পাপিয়া

আইন-আদালত
অবৈধ সম্পদের মামলায় পাপিয়া দম্পতির বিচার শুরু

banglanewspaper

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত আলোচিত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় আগামী ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ আলী হোসেন এ আদেশ দেন।

শুনানিকালে গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে এই দম্পত্তিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

সোয়া ছয় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মামলায় গত বছর ৪ আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করে রুম-নাইট, রেস্টুরেন্ট (খাবার), রেস্টুরেন্ট (মদ), স্পা, লন্ড্রি, মিনি বার ফুড, মিনি বার বাবদ মোট তিন কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকার বিল ক্যাশে পরিশোধ করেন পাপিয়া। ওই সময়ে হোটেলে থাকা অবস্থায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার শপিং করেন। যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি। এছাড়া ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাসা ভাড়া বাবদ ৩০ লাখ টাকা, গাড়ির ব্যবসায় বিনিয়োগ করা এক কোটি টাকা এবং নরসিংদীতে কেএমসি কার ওয়াশ সলিউশানে বিনিয়োগ করা ২০ লাখ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তার ও তার স্বামীর নামে জমা করা ৩০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৮ টাকারও কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি দুদকের অনুসন্ধানে।

অন্যদিকে র‌্যাবের অভিযানে তার বাসা থেকে ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং সুমনের নামে হোন্ডা সিভিএ ২০১২ মডেলের ২২ লাখ টাকার গাড়ি উদ্ধার করা হয়। এরও কোনো বৈধ উৎস মেলেনি দুদকের অনুসন্ধানে।

এর আগে গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুজন সঙ্গীসহ পাপিয়া এবং তার স্বামীকে আটক করে র‌্যাব-১। ওই সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়। ওই মামলায় পাপিয়া ও তার স্বামী মো. মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর গত বছর ১২ অক্টোবর ২৭ বছর করে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে আদালত।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
হাইকোর্টের আরও এক আদেশ মানেননি বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর, রুল জারি

banglanewspaper

রাস্তা সম্প্রসারণের নামে একটি গ্রুপ অব কোম্পানির দেয়াল না ভাঙতে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়টি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কাশেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল ইসলামের আইনজীবী আকতার রসুল।

তিন বলেন, বুধবার কাশেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল ইসলামের করা আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি করে এ আদেশ দেন বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জমি অধিগ্রহণ না করে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে ২০২০ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জয়দেবপুর এলাকার বাইমাইলে অবস্থিত কাশেম কটন মিলের একটি জমির দেয়াল ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরে ওই বছরই এ বিষয়ে একটি রিট করেন কাশেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল ইসলাম। সেই আবেদনের শুনানি করে কাশেম কটন মিলসহ আশপাশের জমিগুলোর ওপর নির্মিত দেয়াল যেভাবে আছে, সেইভাবেই থাকবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু এ আদেশ অমান্য করে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে কাশেম কটন মিলের জমির দেয়াল ভেঙে দেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় দুই কমিশনার। এরপর চলতি মাসে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করা হলে শুনানি শেষে রুল জারি করা হয়। গাজীপুরের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ দুই কাউন্সিলরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে জমি সংক্রান্ত এক মামলায় বুধবার জাহাঙ্গীর আলমসহ চারজনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদনটি করলে বুধবার আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন আদেশ দেন।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
সেই কিশোর গাড়িচালকের বাবাকে আদালতের ভর্ৎসনা

banglanewspaper

বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে রিকশা গুঁড়িয়ে দিয়ে পাঁচ মাসের শিশুসহ তিন আরোহীকে আহত করার ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত কিশোরের বাবাকে সোমবার আদালতে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারক।

রাজধানীর বেইলি রোডের এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর ১৫ বছর বয়সী এই ছেলেকে ঢাকার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। তার পক্ষে তার বাবা তারজেল হোসেন জামিন আবেদন করেন বলে জানান শিক্ষানবিশ আইনজীবী হাসিবুজ্জামান।

দুটি আবেদনই নাকচ করে কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালতের বিচারক আল-মামুন।

শুনানির সময় বিচারক ওই কিশোরকে দেখিয়ে বলেন, ‘ওর তো গাড়ি চালানোর বয়স হয়নি। লাইসেন্স নাই। তার হাতে গাড়ি দিলো কেন? ওর বাবা এত দায়িত্বহীন কেন?’

গাড়ি কার নামে নিবন্ধিত জানতে চাইলে ওই কিশোর বলে, তার বাবার নামে গাড়ি। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আক্তার বিচারককে বলেন, ‘সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি, ছয় মাস আগে কেনা হয়েছে। তার বাবা সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।’

বিচারক তারজেলের কাছে তার ছেলের গাড়ি চালানোর লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি না সূচক জবাব দিয়ে বলেন, ‘তার ছেলে যে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল, তা তিনি জানতেন না।’

এ সময় বিচারক তাকে বলেন, ‘সাজা তো আপনার হওয়া উচিত।’

কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই কিশোরকে বিচারক বলেন, ‘এখনো অনেক সময় পড়ে আছে। বড় হও, অনেক গাড়ি চালাতে পারবে। তুমি তো একজনের ছেলে। যে শিশুটাকে আহত করেছো সেও তো কারো না কারো ছেলে। কত সময়, কত দিন পড়ে আছে, জীবনটা কি এতো ছোট?’

শিশু বিবেচনায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করার কথা জানালেও কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন বিচারক।

হাতিরঝিল থানায় করা মামলার তথ্য মতে, শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ফখরুল হাসান তার পাঁচ মাসের শিশুপুত্রকে নিয়ে বের হন। তিনি একটি রিকশা নিয়ে মগবাজার থেকে বেইলি রোড হয়ে রমনা পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বেইলি রোডে একটি বেপরোয়া গতির প্রাইভেটকার তাদের বহনকারী রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তাদের দুজনের সঙ্গে রিকশাচালক আনোয়ার ইসলামও গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

পরদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই কিশোর মাকে নিয়ে বাসে করে মেহেরপুরের গাংনীতে দাদার বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে।

পরে সংশ্লিষ্ট ওই দুই থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে কিশোরকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
রায় শুনে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেন সাফাতরা

banglanewspaper

রাজধানীর বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসামিরা বলেন, আদালতের মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস প্রদান করেন।

রায় শুনে কাঠগড়ায় থাকা পাঁচ আসামি আলহামদুলিল্লাহ বলেন। এরপর তারা বিচারককে উদ্দেশ করে হাত তুলে বলেন, আসসালামু আলাইকুম।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, মামলার দুই ভিকটিম আগে থেকেই সেক্সুয়াল কাজে অভ্যস্ত। তারা স্বেচ্ছায় হোটেলে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বললেন, ‘আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি’। অহেতুক তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে আদালতের ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া এরপর থেকে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ মামলা করতে যায় তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

এর আগে বুধবার (২৭ অক্টোবর) এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন প্রবীণ আইনজীবী বাসেত মজুমদার মারা যাওয়ায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তাই বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ১১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

তারও আগে ১২ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিচারক অসুস্থ থাকায় রায় পিছিয়ে ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৩ অক্টোবর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের তারিখ ১২ অক্টোবর ধার্য করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ মে সাফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ধর্ষণ মামলা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

একই বছরের ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ওই বছরের ১৩ জুলাই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শফিউল আজম পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন।

অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। মামলার অন্য তিন আসামি সাদমান সাকিফ, আলী ও বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধেও একই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন এবং নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিম।

ট্যাগ:

আইন-আদালত
জেমস ও হামিনের মামলায় বাংলালিংক কর্মকর্তাদের তলব

banglanewspaper

মুঠোফোন নেটওয়ার্ক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনে হওয়া মামলার আবেদন আমলে নিয়েছে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করেছেন নগরবাউল ব্যান্ডের ভোকাল মাহফুজ আনাম জেমস ও মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদ।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল। তিনি জানিয়েছেন, পৃথক দুটি মামলায় শুনানির জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর বাংলালিংকের কর্মকর্তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত।

অভিযোগ, জেমসের গাওয়া ছয়টি গান দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া রিংটোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বাংলালিংক। মাইলসের ব্যবহার করা হচ্ছে দুটি গান। এ সংক্রান্ত মামলায় বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহীসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাসের অভিযোগ, জেমস ও মাইলসের নামে গানগুলো আলাদাভাবে কপিরাইট আইনে নিবন্ধন করা। এগুলোর ব্যবহার নিষেধ করা হলেও আমলে নেয়নি বাংলালিংক। আইনি নোটিশও পাঠানো হয়। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছেন জেমস ও হামিন।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর একই অভিযোগ নিয়ে কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে গিয়েছিলেন জেমস। কিন্তু সে সময় গায়কের মামলার আবেদন গ্রহণ না করে তাকে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন বিচারক। থানায় মামলা না নিলে পুনরায় আদালতে যেতে বলা হয়। সেটাই করলেন জেমস ও হামিন।

ট্যাগ: