banglanewspaper

শীতকালীন সবজি ফুলকপি এখন সারা বছরই মেলে। স্বাস্থের জন্য দারুন উপকারি এটা। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগের নিরাময়। বিশেষ করে ফুলকপি খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। এছাড়াও এটা ক্যানসার প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।

ফুলকপিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান ক্যানসারের স্টেম সেল মেরে টিউমারের বৃদ্ধি আটকায়। ফুলকপির এই উপাদান প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফুলকপি ফাইবার-সমৃদ্ধ। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফুলকপির সালফোরাফেন রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন। এটি এক ধরনের ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখে(ছবি সৌজন্যে : Pixabay)

ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন, ভিটামিন সি ও ফোলাট ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।

এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। যা হাড় শক্ত রাখে। ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার হজমে সাহায্য করে।

কিডনি রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে ফুলকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস।

এই সবজিতে থাকা সালফোরাফেন রেটিনা নষ্ট হওয়া রোধ করে। উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় ফুলকপি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করতে পারে।

ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ডার্ক স্পট কাটাতে সাহায্য করে।

ট্যাগ: ক্যানসার

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
রোগ নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা ‘লাইট থেরাপি’

banglanewspaper

রোগ নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ দিলেন ভারতের চিকিৎসকরা। তারা জানান, আলো বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে কাজ করছে। যদিও লাইট থেরাপি বহুকাল আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতের পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারোপ্যাথি’র ন্যাচারোপ্যাথি ও যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলম এই চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন রোগে কোন কোন আলো ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

শিশু শরীরে প্রভাব বেশি

আলোর প্রভাব শিশুদের উপর খুব বেশি বোঝা যায়। একটি শিশুকে অনেকক্ষণ লাল আলোর মধ্যে রেখে দিলে তার মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হবে। সে রেগে যাবে। নীল আলোয় রাখলে শিশু শান্ত থাকবে। পশুদের ক্ষেত্রেও আলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আলোর রকমফেরে জীব-জন্তুর মেজাজও বদলে যায়। আজকাল অনেকে আবার রোদে রাখা ‘সোলারাইজড’ জল খাচ্ছেন। কেউ ক্রোমোথেরাপির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন অ্যারোমাথেরাপি, ক্রিস্টালস, ম্যাসাজ, যোগাথেরাপি। এই কম্বাইন্ড থেরাপি খুবই কার্যকর।

রোগ সারে নানা রংয়ে

লাল, হলুদ, নীল। এই তিনটি মৌলিক রং। এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়েই যাবতীয় রং তৈরি করা হয়। এক-একটি আলোর এক এক রকম রোগ সারানোর ক্ষমতা। যেমন অ্যানিমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে লাল রং খুব উপযোগী। এই রং স্পাইনাল কর্ডের নিচে থাকা মূলাধার চক্রকে প্রভাবিত করে। বাড়িয়ে দেয় হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন। কিন্তু কখনওই ক্যানসার রোগীর উপর লাল রঙের ক্রোমোথেরাপি প্রয়োগ করা উচিত নয়। এতে হিতে বিপরীত হবে।

কমলা রং পরিপাকতন্ত্রকে পরিপুষ্ট করে হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ‘মাসল ক্র‌্যাম্প’ সারিয়ে দেয়। সৃষ্টিশীল কাজে মনসংযোগের জন্য এই রং খুবই উপযোগী।

স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে হলুদ রং। মনের জোর বাড়াতেও কার্যকরী। ডায়াবেটিস রোগীদের পাকস্থলী ও লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে হলুদ রং। সবুজ রং চোখের জন্য ভাল এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত, এই রং জ্বর সারাতে পারে, হার্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা রাখে। উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, হাপানিতে নীল রং কার্যকর। অনিদ্রা দূর করতে পারে বেগুনি রং।

গবেষণার সূত্র

আলোর এই ক্ষমতা নিয়েই আড়াই হাজার বছর আগে গবেষণা করেছিলেন পিথাগোরাস। খুঁজে বের করেন আলোর রোগ নিরাময়ের আশ্চর্য ক্ষমতা। পরবর্তীকালে যোগবিজ্ঞানীরা আলোর সঙ্গে শরীরের নানা চক্রের মেলবন্ধন ঘটান। ‘ক্রোমোথেরাপি’ নামে নতুন শব্দবন্ধের জন্ম হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে। কোন রঙের

আলো, কোন রোগ সারায়, তার তালিকা তৈরি করেন। ভারত তো বটেই মিশর, চীনেও ‘ক্রোমোথেরাপি’ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই তিন দেশে বিভিন্ন রঙের হলঘর তৈরি হয়। সেখানেই সমবেত চিকিৎসা হত। সেই সব এখন ইতিহাস।

বাক্সে লুকিয়ে থেরাপি

আসলে প্রতিটি রঙের এনার্জি লেভেল, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা। আলোর ব্যবহার শরীরের চক্রগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যে আলোর কম্পন বেশি, সেই আলো তত বেশি গরম। কম্পন কম হলে আলোর প্রভাব ঠান্ডা হয়। এই বিজ্ঞানকে মাথায় রেখেই জানালার কাচের রং ঠিক করা যেতে পারে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, খাবারের রং, পোশাকের রং-ও শরীর-মনের উপর প্রভাব ফেলে। তবে ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞরা ক্রোমোথেরাপির জন্য ক্রোমোথার্মোলিয়াম নামে একটি বিশেষ বাক্স ব্যবহার করেন।

সূর্যের আলো সেই বাক্সের মধ্যে পড়ে সাতভাগে ভাগ হয়ে শরীরের নানা অংশের উপর পড়ে। কোথাও আবার বেডের উপর নানা রঙের আলো লাগানো হয়। সেই বিছানায় রোগীকে শোয়ানো হলে শরীরের নানা অংশে নানা রঙের আলো পড়বে।

জেনে নিন কোন রং কোন রোগ সারাতে সাহায্য করে

লাল: অ্যানিমিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্যারালাইসিস। সবুজ: হাঁপানি, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা, হৃদরোগ। নীল: অনিদ্রা, চিকেন পক্স, কলেরা, মৃগী। কমলা: থাইরয়েডের সমস্যা, পিরিয়ডের সমস্যা, গাউট, ডায়াবেটিস মেলিটাস। হলুদ: কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণ, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, অর্শ। ইন্ডিগো: হাঁপানি, নিউমোনিয়া। বেগুনি: মূত্রথলি ও কিডনির সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, মৃগী, রিউম্যাটয়েড আর্থারাইটিস।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
সাপের কামড়ে বছরে দেশে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু

banglanewspaper

প্রতিবছর দেশে প্রায় ছয় হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায় এমনটা তথ্য জানিয়ে প্রাণহানি কমাতে সব হাসপাতালে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া সাপের বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রবিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন তথ্য জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস বা এনসিডি) শাখা আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনুমিত পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে প্রতিবছর সাপের কামড়ে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ও ৭ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। মূলত বর্ষাকালে গ্রামের মানুষকেই সাপ কামড়ে থাকে বেশি। বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন ও প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। তাই সাপে কাটা রোগীকে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রতি বছর আনুমানিক সাত লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। আর সাপের কামড়ে মারা যান ছয় হাজার মানুষ। সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

সাপে কামড়ানো রোগীকে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসারও পরামর্শ দেন জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে এসে অপচিকিৎসায় সময় নষ্ট করলে রোগী মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।

জাহিদ মালেক বলেন, সাপের বাসস্থান মানুষ দখল করে নিচ্ছে। সাপের বসবাসের জায়গা আমরা রাখছি না। ফলে সাপ মানুষের বসতিতে চলে আসছে এবং তখনই দংশনের ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকাল, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের সময় সাপের দংশন বৃদ্ধি পায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের বিষধর সাপের মধ্যে কোবরা সাপ বেশি কামড়ায়। বর্ষা, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের ফলে সাপের আবাসস্থল ভেসে গেলে সাপ মানুষের বাড়িতে চলে আসে। গ্রামের মানুষ যারা মাটিতে ঘুমায় তাদেরকে বেশি কামড়ায়। ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও বাঁশঝাড়ে সাপ বেশি থাকায় এসব স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

সভায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দেশে সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসা, সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা, অপচিকিৎসা ও মানুষের মধ্যে অসচেতনতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এ ফয়েজ বলেন, সাপে কাটা রোগীদের অপচিকিৎসারোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ণ করতে হবে। সাপে কাটা রোগীদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় ঝাড়ফুঁক ও ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

এম এ ফয়েজ বলেন, একটা সময় ছিল যখন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপে কাটা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরাসহ বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ডায়াবেটিস নিরাময়ে তুলসী পাতার আশ্চর্য গুণ

banglanewspaper

ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ তুলসী। এই গাছ লামিয়াসি পরিবারের অন্তর্গত একটি সুগন্ধী উদ্ভিদ। তুলসী পাতার গুণ ও তুলসীর রসে তৈরি ওষুধের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। তুলসী পাতা শুধু নয়, পুরো গাছটাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লাগে।

তুলসীর ভেষজ গুণ অনেক। ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি ভরপুর থাকে তুলসীতে। আর থাকে ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, ক্লোরোফিল। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, জীবাণুনাশক গুণ আছে তুলসী পাতার। যে কোনও সংক্রামক ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া তুলসীর মধ্যে আছে ইউজেনল, সিট্রোনেল্লোল, লিনালোল নামক এসেনশিয়াল ওয়েল। এই উপাদানগুলোর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ আছে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা যে কোনও প্যাথোজেনের সংক্রমণে শরীরে যে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, তাকে কমাতে পারে এই এসেনশিয়াল ওয়েল।

প্রাচীনকালে তুলসি পাতা নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। বর্তমানে একটি সমীক্ষা বলছে তুলসী পাতা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে নিয়মিত তুলসী পাতার রস খুব কার্যকরী। এতে শর্করার স্তর ঠিক থাকে, যার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম হয়।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া এই সমীক্ষা টাইপ টু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীদের উপর করা হয়। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে ডায়াবিটিসের ওষুধ খেতে বলা হয়, বাকিদের তার বদলে রোজ দেওয়া হয় ২৫০ মিলিগ্রাম তুলসির নির্যাসযুক্ত ক্যাপসুল।

সমীক্ষা শেষে দেখা যায়, ইনসুলিন ও ওষুধের উপর নির্ভর না করে কেবল তুলসী খেয়েই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তারা। কাজেই ইনসুলিনের ক্ষরণে তুলসীর যে ভূমিকা আছেই, তাতে আর সংশয় থাকে না।

তুলসী পাতা ভাল করে ধুয়ে নিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। এর ফলে তুলসীতে থাকা যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ গুণ সহজেই আপনার শরীরে প্রবেশ করবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও তুলসীর কোনও জুড়ি নেই।

চা খেতে ভালবাসেন? তাহলে দিনে অন্তত একবার তুলসী পাতা দিয়ে চা বানান। পানি গরম করে তাতে কয়েকটি তুলসী পাতা ফুটতে দিন। মিনিট তিনেক পর সেই পানি ফুটে গেলে ছেঁকে খান।

রান্নাতেও তুলসী পাতা ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের রান্নায় তুলসী পাতা দিলে স্বাদ বাড়বে, সেই রকম রান্নায় তুলসী পাতা দিন।

তুলসী পাতা ভেজানো পানিও শরীরের জন্য উপকারি। রাতে এক গ্লাস পানিতে তুলসী পাতা ভিজিয়ে রেখে চাপা দিয়ে দিন। পরের দিন সকালে সেই তুলসী ভেজানো পানি খেয়ে নিন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
করোনা টিকা নেওয়ার পর পেইনকিলার কেন?

banglanewspaper

অন্যান্য টিকার মতো করোনার টিকা নিলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই মৃদু প্রকৃতির এবং এসবের স্থায়িত্ব এক সপ্তাহের বেশি নয়। উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো- ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা-ফোলা বা লাল হওয়া, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, শীতশীত অনুভূতি, ক্লান্তি ও বমিভাব।

যারা করোনার টিকা নেওয়ার পর হাতে ব্যথা অনুভব করেন তাদের একটা প্রবণতা হলো- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পেইনকিলার (ব্যথানাশক ওষুধ) সেবন করা। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের পেইনকিলার রয়েছে। একেক পেইনকিলার একেক স্বাস্থ্য সমস্যায় কার্যকর ও নিরাপদ।

তাই টিকা নেওয়ার আগে জেনে নিন, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?

১. টিকা নেওয়ার পর হাত ফুলে যাচ্ছে সঙ্গে হচ্ছে বিরাট ব্যথা। হাত তোলা যাচ্ছে না। সামান্য গুঁতো লাগলে প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। চিন্তার কিছু নেই। এটিকে কোভিড আর্ম বলা হয়। ব্যথা কমাতে পেনকিলার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের পরামর্শ, নিজের থেকে কমতে দিন ব্যথা। তবে আরাম পেতে বরফ দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে হাতের ব্যায়াম করুন। কিছু সহজ স্ট্রেচিংয়ের ব্যায়াম করতে পারেন। এতে ব্যথা অনেকটা কম বোধ হবে। 

২. কেন হয় হাতে ব্যাথা? বিশেষজ্ঞদের কথায় ভ্যাকসিন যে আপনার শরীরে কাজ করছে এটি তার প্রমাণ বলা যেতে পারে। আপনি যখন ভ্যাকসিনের কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, এর অর্থ হ'ল আপনার অনাক্রম্যতা কাজ করছে। ভ্যাকসিন ভাইরাসের একটি অনুকরণ এবং তাই এটি যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তার প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং শরীরকে প্যাথোজেন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। যেহেতু COVID ভ্যাকসিনগুলি ইনট্রামাসকুলার ইনজেকশনগুলির মাধ্যমে দেওয়া হয় অর্থাৎ সরাসরি পেশীগুলিতে ইনজেকশন দেওয়া হয়। যত ছড়িয়ে পড়ে, তার ফলে ব্যথা হয়। যেহুতু হাতে দেওয়া হয়, তাই সেখানেই ব্যথা বেশি হয়। ইনজেকশন ঠিকঠাক ভাবে না দিলে ব্যথা বেশি হতে পারে। 

৩. জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে খুব জ্বর থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিত পারেন। তবে এই জ্বর সাধারণত দেড় দিন থাকবে। তার চেয়ে বেশি জ্বর থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. টিকা নেওয়ার পর তেল-মশলা দেওয়া রান্না বা প্রসেস্‌ড ফুড না খাওয়াই ভাল। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে দিনভর। তার পরেও বমি-বমি ভাব লাগলে লেবু-জল, আদা চা বা পিপারমেন্ট টি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে  স্মুদির মতো পানীয় খেতে পারেন। ক্লান্তি দূর হবে। উষ্ণ গরম পানীয় খান। স্যুপ খেতে পারেন। 

৫. তবে টিকা নেওয়ার পরদিন বিশ্রামে থাকাই ভাল বলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বিশ্রাম পেলে ক্লান্তিভাব কাটার পাশাপাশি গা-হাতের ব্যথাও অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া গরম জলে লবণ মিশিয়ে গোসল করতে পারেন। আবার দিনের শেষে জলে বাথ সল্ট মিশিয়ে পা ডুবিয়ে বেশ খানিকটা সময় বসে থাকলে আরাম পেতে পারেন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ যে রোগের লক্ষণ

banglanewspaper

মানুষের ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া খুবই অস্বস্তিকর ব্যাপার। সাধারণত ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার মানে হলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় বেগ পাওয়া এবং প্রস্রাব করা। এটি যেকোন ব্যক্তির প্রতিদিনকার দিনলিপিতে বিঘ্ন ঘটায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে থাকে। তাই দ্রুত আরাম পাওয়ার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব হলে শুরুতে অনেকেই না বুঝে এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন যা বহু ক্ষেত্রেই উল্টো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেকের দিনে ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে আবার অনেকের রাতে বেশি আসে আবার কারো ক্ষেত্রে দিন রাতে সমান থাকে। দিনে ৪-৫ বার প্রস্রাবের চাপ আসা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তবে তার থেকে বেশি বার হলে কিন্তু চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

আবার ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই ডায়াবেটিস, বিষয়টি কিন্তু তাও নয়। এর পেছনে যেমন ডায়াবেটিস থাকতে পারে তেমনি আরো বহু কারণ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন-অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, পেলভিক রিজিয়ানে কোন অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে।

এই অসুখে দেখা যায়, ব্লাডার বা মূত্রথলির পেশি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে যায়, প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে থাকে। ফলে একজনের বারবার প্রস্রাব পেতে থাকে। অনেকের আবার মূত্রথলি থেকে ছিদ্র হয়ে মুত্র চুঁইয়ে পড়তে পারে।

মূত্রথলির এই সমস্যার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কেন এমন হচ্ছে সেটা চিহ্নিত করা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। অনেক রকম সমস্যা এর জন্য দায়ী হতে পারে।

ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন– মূত্রথলিতে বা কিডনিতে ইনফেকশন হলে তা থেকে এমন সমস্যা হতে পারে।

আউটফ্লো অবস্ট্রাকশন- বিশেষত পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন হয়। প্রস্টেটের সমস্যা থেকে ব্লাডারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিউরো বা স্নায়ুজনিত সমস্যা- যাদের পারকিনসনস ডিজিজ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের সমস্যা রয়েছে অথবা যাদের একবার স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডারের সমস্যা দেখা দেয়।

দায়ী কিছু ওষুধ – উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (ল্যাসিক্স, ডাইয়ুরেটিক্স) টানা খেলে তা থেকে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মদ্যপান কিংবা কফি বেশি পান করলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মহিলা কিংবা পুরুষ সকলের ক্ষেত্রেই এমন হতে পারে। বিশেষ করে, যে সকল মহিলার মেনোপজ হয়ে গিয়েছে তাদের রিস্ক অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। আর পুরুষদের, যাঁদের প্রস্টেটের অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে মূত্রথলির এমন সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। লক্ষণ থাকলে ইউরিন কালচার, ব্লাডার ক্ল্যান, সিস্টোস্কোপি, ইউরো ডায়নামিক টেস্টিং করে ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার রোগ নির্ণয় করা হয়।

মূত্রথলির এমন সমস্যা হলে শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে যান। যতটা সম্ভব কফি কিংবা ক্যাফিন জাতীয় পানীয় বর্জন করুন। কার্বোনেটেড ড্রিংক, মিষ্টি জাতীয় পানীয়, মশলাদার খাবার, অ্যাসিডিক ফুড ডায়েট থেকে বাদ দিন। ওজন বেশি থাকলে তা কমাতে হবে। পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করুন। এতে পেলভিক বা মূত্রনালির পেশির জোর বৃদ্ধি পায়। সারাদিনে সময় ধরে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস করুন।

যাদের বারবার প্রস্রাব হয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, তারা একটা ডায়েরি মেনটেইন করুন। তাহলে চিকিৎসা করতে, সমস্যা চিহ্নিত করতে অনেক সুবিধা হবে। এসব নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবেই।

ট্যাগ: