banglanewspaper

বাংলাদেশ থেকে ধর্মান্ধ, জঙ্গি ও মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সমূলে বিনাশ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্ম পালন করবে। আমরা ধর্ম পরায়ণ হতে চাই, ধর্মান্ধ হতে চাই না।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গৌরব ‘৭১ আয়োজিত সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, এই বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি আছে। আমরা যাত্রা, পালাগান, জারি-সারি, পল্লীগীতি, লোক সংস্কৃতির চর্চা করে এসেছি। গ্রামে লোক সংস্কৃতি ছিলো, মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছিলো। দুর্ভাগ্য আমাদের, আজ সমাজ থেকে শত বছরের লোক সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে। আজকে গ্রাম থেকে নাটক, পালা গান, জারি সারি ও পুঁথি গান হারিয়ে গেছে। আজকে সমাজ থেকে সংস্কৃতি চলে গেছে। ওয়াজ মাহফিলের মধ্য মানুষকে ধর্মান্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের মাথায় অন্য ধর্ম পালনকারীদের ওপর হামলা করা হয় কেন? এটা জানতে আমাদেরকে গোঁড়ায় যেতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশে রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টি করেছে, সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। তারা নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা করে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো। এই জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলো। কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমকে বাংলাদেশে এনে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার গাছ রোপণ করে দিয়েছিলেন। এরপর এরশাদ, খালেদা জিয়া সেই গাছকে বড় করেছেন।

তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য একাত্তরে আমরা জাতির পিতার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিলাম। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমানের রক্তের স্রোতে গড়া এই বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ স্বাধীন করতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ রক্ত দিয়েছে। ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিলো। এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ ছিলো। জাতির পিতা আমাদের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছিলেন। আজকের সেই বাংলাদেশ আমাদের মাঝ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

হানিফ বলেন, বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ ধর্ম পালন করবে। আমরা ধর্ম পরায়ণ হতে চাই, ধর্মান্ধ হতে চাই না। আজকে মানুষকে ধর্মান্ধ করার মধ্য দিয়ে সমাজকে কলুষিত করা হচ্ছে। একাত্তরে ধর্মের ভূল ব্যাখ্যা করে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, মা-বোনদের নির্যাতন করা হয়েছে। এখনো আবার ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর আঘাত করা হচ্ছে। এটা বরদাশত করার মতো নয়। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছি। শেখ হাসিনার একজন কর্মী থাকতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা যাবে না।তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানাই, ২০১২ সালের রামু, পাবনার সুজানগর, নাসিরনগর, সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট ঘটেছিলো সেগুলোর বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। অতিদ্রুত বিচার করার দাবি জানাই। বিচার বিলম্বের কারণে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বারবার হামলা করার সাহস পাচ্ছে। যদি সাধারণ আইনে বিচার না হয় তাহলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। আমরা সকল ধর্মের মানুষের শঙ্কা, ভীতি দূর করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে দেখা যায় ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলে বঙ্গবন্ধু দুই সম্প্রদায়কে রক্ষা করেছেন। এরপর বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দূর করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করেছেন। এমনকি সে সময়ে ইত্তেফাক পত্রিকায় শিরোনামও হয়েছে "শেখ মুজিবের ওপরও হামলা"। এসবের পরও বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করেছেন। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও নিজ হাতে রান্না করে সব ধর্মের মানুষকে খাওয়াতেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক এসব ঘটনা দাঙ্গা নয়, এটা দুর্বলদের ওপর আক্রমণ। এ আক্রমণের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু, এ আক্রমণের লক্ষ্য শেখ হাসিনা। আমাদের শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে হবে।আমাদের যাদের সাথে আওয়ামী লীগের, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তের সম্পর্ক তাদের সোচ্চার হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অধ্যাপক সামাদ বলেন, এসব হামলা থেকে উত্তরণের জন্য আদর্শ ও নিষ্ঠাবান কর্মী তৈরি করতে হবে। তার জন্য ১৯৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। তাহলে কেবল বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সম্ভব।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি বলেন, সৃষ্টিকর্তা বলেছেন, লা ইকরা ফিদ দিন। অর্থাৎ আমি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি পছন্দ করি না। তাহলে আমি, আপনি কি বলি সেটা তো কোন ব্যাপার না। সৃষ্টিকর্তার কথাই আসল কথা। তাহলে আমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে এসব করছি কেন?

তিনি বলেন, কেয়ামত পর্যন্ত একাত্তর পরাজিত হবে না। সব অপশক্তি অতীতের ন্যায় পরাজিত হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের পরাজিত না করে আমরা ঘরে যাবো না।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস এমপি বলেন, বাংলাদেশের শেষ ঠিকানা বঙ্গবন্ধু, আর বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য যুদ্ধ করেছি। সকল ধর্মের মানুষের রক্তে গড়া এই বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা সহ্য করা হবে না।

সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখনো বঙ্গবন্ধুর দেশে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তারা ভুলে গেছে এদেশ বঙ্গবন্ধুর দেশ, এদেশ মুক্তিযুদ্ধের দেশ, এদেশ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। এদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের ঠাঁই আগেও ছিল না, এখনো হবে না। তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা ভালো নাই, বাংলাদেশের মানুষ ভালো নেই। ৩০ লাখ মানুষ শহীদ, দুই লাখ মা-বোন নির্যাতিত হয়েছে দেশের এরকম অবস্থা দেখার জন্য নয়। কুমিল্লার পর রংপুরেও ঘটনা ঘটানো হলো। এ আঘাতটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নয়, এ আঘাতটা ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর।

হুঁশিয়ারি দিয়ে এ ছাত্রনেতা বলেন, রাতের আঁধারে হামলা নয়। কাপুরুষের দল বুকে সাহস থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসো। আমরা ছাত্রলীগ তোদের দেখে নেবো।

সাবেক ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, কথায় কথায় মুরতাদ, নাস্তিক ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ শকুনের হাতে পড়েছে। এদেরকে রুখতে হবে।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, জঙ্গিবাদ রুখে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে জনগণকে রাজপথে নামতে হবে।

গৌরব ‘৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কুহেলী কুদ্দুস মুক্তি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল এমপি, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবদুল মতিন, মামুন আল মাহাতাব স্বপ্নিল, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, তানভীন সুইটি, বাণী ইয়াসমিন হাসি, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রতিরোধ সমাবেশের পর সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার প্রতিবাদে লাঠি মিছিলও করেছে গৌরব ’৭১। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে এ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ। সমাবেশে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ট্যাগ: হানিফ

রাজনীতি
বিএনপি নেতারা আইন-আদালতের তোয়াক্কা করে না: কাদের

banglanewspaper

বিএনপি নেতারা দেশের আইন আদালতের কোনো তোয়াক্কা করে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে বিএনপি নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্যের জবাবে এমন মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আইন আদালতের প্রতি আস্থা নেই বলেই বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আইন কোনো বাধা নয়, সরকার বাধা বলে বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে তারা দেশের আইন আদালতের কোনো তোয়াক্কা করে না।

বিএনপি মহাসচিবের কাছে প্রশ্ন রেখে সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি অবৈধই হয় তাহলে এই অবৈধ সরকারের কাছে দাবি করছেন কেন? আর এই সরকার অবৈধই বা কি করে হয়? সংসদেতো আপনাদেরও বৈধভাবে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে ঢাকা সিটিতে বেশ কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া বাস্তবায়ন না করার যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়েও কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

পরিবহন মালিক শ্রমিকদের আবারও অনুরোধ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করুন।

পরিবহন মালিক শ্রমিকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, কথা দিয়ে কথা রাখুন। আপনাদের সিদ্ধান্ত আপনারাই কেন লঙ্ঘন করছেন?

ট্যাগ:

রাজনীতি
বিদ্রোহীদের ওপর ভর করে হানাহানি করছে বিএনপি: কাদের

banglanewspaper

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর ভর করে মারামারি, হানাহানি সৃষ্টি করেছে।’

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ও ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ঘোমটা পরে প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করছে। তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের ওপর ভর করে মারামারি ও হানাহানি সৃষ্টি করছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ছিলো। একজন নির্বাচন কমিশনারও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনে পার্টিসিপেশন মূল কথা। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড পার্টিসিপেশন হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এদেশে কখনো শান্তিপূর্ণ হয়নি। তবে এতে শেখ হাসিনা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেউ অপরাধ করে পার পাবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূল থেকে অনেক সময় ভুল নাম আসে, কখনো কখনো বিভিন্ন প্রভাবের কারণে সংস্থার রিপোর্টও প্রভাবিত হয়, ভুল আসে। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সৎসাহস আওয়ামী লীগের আছে। আমরা ভুলগুলো খুঁজে বের করে সতর্ক হচ্ছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের পতন হবে জনগণের ইচ্ছেয়, বিএনপির ইচ্ছায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসেনি। জনগণ চাইলে চতুর্থবারও আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় থাকবেন।

সড়ক পরিবহন আইনে কোনো শিথিলতা আসছে না জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বেপরোয়া গাড়ি যেমন দুর্ঘটনার কারণ, বেপরোয়া পথচারীও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। মোটরসাইকেল চালকরাও দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডারের মতো ছুটছে তো ছুটছে। এরাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সড়ক পরিবহন আইনে কোনো শিথিলতা আসছে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গণপরিবহনে হাফ ভাড়া আগে থেকেই কার্যকর ছিলো। মাঝে শিথিলতা দেখা গেছে। সরকার বিআরটিসি বাসে ছাত্রছাত্রীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের অনুরোধে বেসরকারি বাস মালিকরা হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্ত আজ সংবাদ সম্মেলনে দেবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সেতুমন্ত্রী বলেন, তারা সাত বছর ধরে মামলা পিছিয়েছে, পরে দণ্ডিত হয়েছে। বিচার বিভাগ স্বাধীন। রায় মানতে হবে, আইন মানতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় খালেদা জিয়া দণ্ডাদেশ স্থগিত করে বাসায় থাকতে দিয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা করতে দিয়েছে। এর চেয়ে বেশি বিএনপি কিভাবে আশা করে?

সভায় বিজয় দিবসে আওয়ামী লীগ গৃহীত কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয় র‌্যালি হবে, ভারতের রাষ্ট্রপতি ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জাসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি থাকবে। সহযোগী সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সাথে মিলে নিজস্ব কর্মসূচি নেবে। ব্যানার ফেস্টুন যাতে শুধুমাত্র আত্মপ্রচারের জন্য যাতে না হয়। দলের নামে পোস্টার, ব্যনার, বিলবোর্ড করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ফারুক খান, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রমুখ।

ট্যাগ:

রাজনীতি
খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস

banglanewspaper

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের কারণে ব্লিডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তার চিকিৎসায় গঠিত দলের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। 

চিকিৎসকরা বলেন, ‘নেত্রীর যকৃত বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়া গেছে। এখন তার যে অবস্থা, সেটি দ্বিতীয়বার সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’

রবিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। ব্রিফিংয়ে বিএনপি নেত্রীর রোগ নিয়ে প্রাথমিক একটি বর্ণনা দেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের গঠন করা মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এফ এম সিদ্দিকী।

বাংলাদেশে দুই থেকে তিন বার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তারা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পেট থেকে চাকা চাকা রক্ত যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে একবার রক্ত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া গেছে। কিন্তু এই ধরনের রোগীকে বারবার রক্ত দেয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘আশঙ্কা করছি, আবার যদি ব্লিডিং হয় তাহলে যদি এটাকে কন্ট্রোল করা সাপোর্ট করা যাবে না। ব্লিডিং হয়ে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।’

ইন্টারভ্যানশনাল গ্যাস্ট্রো অ্যানালিস্ট চিকিৎসক আরেফিন সিদ্দিক লিভারে রক্তক্ষরণ ঠেকাতে চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, এটা একটা হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। এটাকে বলে। বাংলাদেশে টিপস করা কোনো রোগী আমরা দেখি না যার দুই থেকে তিনবার এটা করা হয়েছে।

তাহলে কোথায় এই চিকিৎসা করা যায়-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আমেরিকা বা ইউরোপ বেজড, বিশেষ করে ইউকে, জার্মানি ইউএসএতে কিছু সেন্টার আছে। সেটাও পুরা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই দুই একটি সেন্টার আছে।

ট্যাগ:

রাজনীতি
আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ বিএনপি নতুন ইস্যু খুঁজছে: কাদের

banglanewspaper

আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন নতুন নতুন ইস্যু খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

দেশের উন্নয়ন-অর্জনে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তাঁরা করছে মন্তব্য করে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার সকালে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের। সেতুমন্ত্রী তার ঢাকার বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

আওয়ামী লীগের ‍সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার মত বিএনপির এমন কোনো মুখ নেই। তাই তারা আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে নতুন নতুন ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে।

বিএনপির রাজনীতি মাঠে নয়,তাদের রাজনীতি এখন মিডিয়ানির্ভর এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক নেতা তারেক রহমান লন্ডনে বসে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে উসকানি দিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে দলের নেতাকর্মীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন সে বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে না, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে জয়ী হবার নিশ্চয়তা দিলেই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ, আর জয়ী হবার নিশ্চয়তা না দিলে নিরপেক্ষ নয়।

‘আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, কে অংশ নিলো কি নিলো না তা দেখার কিছু নেই, কারণ নির্বাচন কারও জন্য বসে থাকবে না।’-বলেন আওয়ামী লীগ নেতা কাদের।

বিএনপি ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ না নিলেও ঘোমটা পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে অংশ নিচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল বলেন, তারা নির্বাচনে হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্র করছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সম্মেলনে দলের মধ্যে যারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে জেলা কমিটি শোকজ ও প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কমিটিতে রাখার নির্দেশ দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সুসময়ে অনুপ্রবেশকারিরা দলে প্রবেশ করলে দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। ভাড়া করে খারাপ লোকদের দলে এনে দল ভারী করার কোনো দরকার নেই।

ইউপি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে এবং নেপথ্যে মদদদাতাতের বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল।

ট্যাগ:

রাজনীতি
বিএনপির আন্দোলনে আ.লীগের কিছু যায় আসে না: কাদের

banglanewspaper

বিএনপি নেতাদের সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি এক দফা অথবা দশ দফা আন্দোলন করুক, তাতে আওয়ামী লীগের কিছু যায় আসে না, কারণ আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না।

সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে একথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথের সংগঠন, আন্দোলন সংগ্রাম করেই ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। জেল-জুলুম- নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা জনগণের দাবি আদায়ের সাহসী সংগঠন আওয়ামী লীগ।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি আবার গণ-আন্দোলনের হুমকি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের এসব হুমকি-ধামকি নিজেদের পদ-পদবি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। অতীতেও দেশবাসী বিএনপির দফা ভিত্তিক আন্দোলন দেখেছে, তাদের আন্দোলন রাজপথে নয়, তাদের আন্দোলন হচ্ছে ফেসবুক আর মিডিয়া নির্ভর।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা তাদের আন্দোলনের সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোই জানেন। তবুও তারা কর্মী-সমর্থকদের রোষাণল থেকে বাঁচতে গণমাধ্যমে লিপ-সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন অবিরাম।

‘বিএনপি নেতারা গত একযুগের বেশি সময় ধরে নানা ইস্যুতে আন্দোলন আর সরকার পতনের হুমকি দিয়ে আসছেন, প্রকৃতপক্ষে এসব হুমকি সরকার ও জনগণের মনে কোনোরূপ আগ্রহ বা উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারেনি’-যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বিএনপির হাতে কখনো ইস্যু তুলে দেবে না, তাই জনগণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো ইস্যুতে সরকার সবসময়ই সক্রিয় ও তৎপর।

ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় দফা নির্বাচন আসন্ন এবং চতুর্থ দফা নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে, এর পর পঞ্চম ধাপও সমাগত,- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে দলের সর্ব-পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আবারও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহবান জানান।

তিনি বলেন, দলের মনোনয়নকে উপেক্ষা করে যারা বিদ্রোহ করছেন বা বিদ্রোহীদের উসকানি দিচ্ছেন তাদের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যারা সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে,দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ট্যাগ: