banglanewspaper

রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক মাস পর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তোরখাম সীমান্তে পাকিস্তানের একটি ট্রাক থামায় তালেবান যোদ্ধারা৷ ট্রাকটি থেকে পাকিস্তানের পতাকাও সরিয়ে নেয় তারা৷ এই ঘটনা পাকিস্তান ভালোভাবে নেয়নি৷ কিন্তু তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নতুন আফগান শাসক এবং পাকিস্তানের মধ্যকার দূরত্ব সৃষ্টির তথ্য নাকচ করে দেন৷ কিন্তু তারপরও তালেবান ও পাকিস্তানের মধ্যে কিছু তিক্ততা স্পষ্ট৷ এতে প্রশ্ন উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের কি চিড় ধরেছে?

পাকিস্তানের পশতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা এবং আফগানিস্তানের মধ্যকার ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে মেনে নিতে তালেবানের অস্বীকৃতি পাকিস্তানকে অস্বস্তিতে ফেলেছে৷ অধিকাংশ পশতুনই দুই দেশের মধ্যকার ২,৬৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসাবে মানতে চান না৷ এদিকে অধিকাংশ তালেবান যোদ্ধাও পশতুন জাতিসত্তার সদস্য৷

১৮৯৩ সালে ব্রিটিশরা এই ডুরান্ড লাইন প্রতিষ্ঠা করে৷ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই লাইনটি দুই দেশের সম্পর্কে গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে৷

বৈধতা চায় তালেবান

২০২০ সালে মার্কিন-তালেবান চুক্তিকে সহজ করে তুলতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল৷ ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানে ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর থেকে দেশটি তালেবান শাসনকেও সমর্থন করেছিল৷ কিন্তু পাকিস্তান এখনো তালেবানদের আফগানিস্তানের বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি৷ কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকতে পারে৷ ইসলামাবাদ এবং তালেবানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষও একটি কারণ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷

বুধবার মস্কোতে এক শীর্ষ সম্মেলনে আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তালেবান৷ তবে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ তাদের এই অনুরোধে সাড়া দেবে এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি৷

ইসলামাবাদও তালেবান শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷ কিন্তু দেশটির বিভিন্ন জাতিসত্তাকে অন্তর্ভুক্ত না করেই সরকার গঠন করায় পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে৷

বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে পাকিস্তানও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জোরালো অবস্থান নিতে পারছে না৷ অন্যদিকে তালেবান মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজি করানোর জন্য পাকিস্তানের আরও অনেক কিছুই করার ছিল৷

হাক্কানিদের সমর্থন করছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক সংকট ছাড়াও কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয়ও তালেবান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু প্রবীণ তালেবান কমান্ডার ক্ষুব্ধ যে, ইসলামাবাদ হাক্কানি নেটওয়ার্ককে সমর্থন করার মাধ্যমে নতুন আফগান শাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে৷

পেশোয়ার-ভিত্তিক আফগান ও পশতুন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলম মেহসুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘১৯৯০-এর দশকে (সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর) আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পাকিস্তান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারকে সমর্থন করেছিল৷ এখন, হাক্কানিদের সমর্থন করছে ইসলামাবাদ, যাদের অন্তর্বর্তী সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে৷' তবে এই সমর্থন কিছু তালেবানকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে মনে করেন তিনি৷

একজন সাবেক আফগান কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডয়চে ভেলেকে বলেন, সিনিয়র তালেবান কমান্ডার মোল্লা আব্দুল সালেম জাইফ, ভারপ্রাপ্ত আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব এবং অন্যান্য অনেক তালেবান নেতা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনে সন্তুষ্ট নন৷

আফগানিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময় তালেবানের মধ্যে টানাপোড়েনের খবর প্রথম জানা যায়৷ পূর্ণ সরকার গঠনের বদলে ক্রান্তিকালীন সরকার গঠন করা এই বার্তাই দেয় যে, আফগানিস্তানের নতুন শাসকরা ঐক্য সৃষ্টিতে সক্ষম হয়নি৷

মোল্লা হাসান আখুন্দকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী এবং সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে হাক্কানিকে একটি জ্যেষ্ঠ পদ দেয়ার সিদ্ধান্তটি এটাই প্রমাণ করে যে শক্তিশালী হাক্কানি নেটওয়ার্ককে তালেবান দূরে সরাতে চায়নি৷ হাক্কানি নেটওয়ার্ক তালেবানের অধীনস্থ একটি উপ-সংগঠন হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আমজাদ শোয়েব ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় হাক্কানিরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে৷ তারা (১৯৮০-এর দশকে) আফগান জিহাদের সময় থেকেই পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ ছিল৷'

পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে জেনারেল হিসেবে অবসর নেওয়া শোয়েব মনে করেন অন্যান্য তালিবান গোষ্ঠীর সঙ্গেও ইসলামাবাদের সুসম্পর্ক রয়েছে৷

আফগান জনগণের চাপ

তালেবানের সাথে ইসলামাবাদের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও অনেক আফগান পাকিস্তানকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকারী দেশ হিসেবে দেখে৷ আফগানদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই ধারণা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে আফগান জনগণ বেশ বিরক্ত৷ পেশোয়ার-ভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক লতিফ আফ্রিদি ডয়চে ভেলেকে বলেন, আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে বাণিজ্য রুটগুলো ঘন ঘন বন্ধ হওয়ার ফলে অনেক আফগানদের সমস্যা হচ্ছে৷

আফ্রিদি বলেন, ‘পাকিস্তান আফগানিস্তানের কৃষিপণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার৷ সীমান্ত বন্ধের ফলে আফগানদের শাকসবজি ও ফল পঁচে গেছে৷' তিনি বলেন, ‘এই একতরফা পদক্ষেপগুলো এরইমধ্যে বিপর্যস্ত আফগান অর্থনীতিতে আঘাত করেছে এবং এমনকি ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানপন্থী হিসেবে পরিচিত আফগান কর্মকর্তাদেরও ক্ষুব্ধ করেছে৷'

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স- পিআইএ আফগানিস্তানের সংকটের সুযোগ নিয়ে আশরাফ গানির সরকারের পতনের পর আফগান যাত্রীদের কাছে অতি উচ্চ মূল্যে টিকিট বিক্রি করেছে৷ তালেবান কর্মকর্তাদের সমস্যাযুক্ত আচরণের কথা বলে সম্প্রতি পিআইএ কাবুল থেকে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন যে তালেবানরাও বুঝতে পেরেছে যে অনেক আফগান পাকিস্তানের প্রতি অসন্তুষ্ট৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

ট্যাগ: আফগান

আন্তর্জাতিক
করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ উদ্বেগের: ডব্লিউএইচও

banglanewspaper

দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন একটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। যার নাম রাখা হয়েছে ‘ওমিক্রন’। প্রাথমিকভাবে এটির নাম দেওয়া হয়েছিল বি.১.১.৫২৯ । ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। স্থানীয় সময় শুক্রবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে ইউরোপের দেশগুলোতে এই মুহূর্তে ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই শনাক্ত হলো ওমিক্রন। 

নতুন শনাক্ত হওয়া ধরনটিকে এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলা করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। মহামারির শুরুর দিকে তুলনামূলক দুর্বল আলফা, বেটা ও গামা ধরনও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।

ডব্লিউএইচও বিবৃতিতে বলা হয়, সামনে আসা নানা প্রমাণ করোনা মহামারি ক্ষতিকর দিকে মোড় নেওয়ার আভাস দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ওমিক্রন। 

প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন শনাক্ত হওয়া ধরনটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ধরনটির সংক্রমণের ক্ষমতা এবং শারীরিক জটিলতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এনেছে কিনা তা এ সময়ের মধ্যে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি করোনার প্রচলিত চিকিৎসা ও টিকার ওপর কোনো প্রভাব আসবে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বসতোয়ানা, ইসরায়েল ও হংকংয়ে করোনার নতুন ধরনটির সন্ধান মিলেছে। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত একজনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে ধরনটি।

এদিকে ওমিক্রন শনাক্তের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নতুন করে ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি দেশ থেকে ফ্লাইট চলাচলের ওপর জরুরিভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা এনেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো। এর পরপরই একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। আফ্রিকার ছয়টি দেশ থেকে বিমান চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্যও।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
করোনার নতুন ধরন 'ওমিক্রন' : নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

banglanewspaper

করোনার নতুন ধরন 'ওমিক্রন'-এর সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর এ জরুরি অবস্থা শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।

নিউইয়র্ক গভর্নরের আদেশ অনুযায়ী স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোছুল বলেছেন, 'ওমিক্রন এখনো নিউইয়র্কে শনাক্ত হয়নি। তবে হাসপাতালে জরুরি প্রয়োজন নয় এমন এবং কম জরুরি পদ্ধতিগুলো সীমিত করতে একটি জরুরি নির্বাহী আদেশে সই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে স্বল্পসময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেবা সরবরাহের বিষয়টিও থাকছে।'

করোনার নতুন ধরন প্রথম শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে বি.১.১.৫২৯ নামে ডাকা হচ্ছিল। ধরনটিকে 'উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, বি.১.১.৫২৯ ধরনকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এটার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে 'ওমিক্রন'। প্রাথমিকভাবে হাতে আসা তথ্য বলছে, এই ধরনটির মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ নতুন করে বিস্তারের ঝুঁকি রয়েছে।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
এক ডোজ টিকা নিয়েই সৌদি আরব যাওয়া যাবে

banglanewspaper

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সৌদি আরবে ভ্রমণসংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা সামনে এনেছে দেশটির সরকার। করোনার টিকার কমপক্ষে একটি ডোজ নেওয়া থাকলে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়া যাবে। আগামী শনিবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। খবর রয়টার্স।

গতকাল শনিবার সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনাটি জারি করা হয়। এর আগের দিনই করোনার নতুন ধরনটি নিয়ে শঙ্কার মুখে আফ্রিকার সাতটি দেশ থেকে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে সৌদি সরকার। তবে নতুন নির্দেশনায় ফ্লাইট স্থগিতের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

গতকালের নির্দেশনায় সৌদি মন্ত্রণালয় জানায়, করোনার টিকার একটি ডোজ নেওয়া থাকলেই আগামী শনিবার থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে সৌদি আরবে ঢোকার অনুমতি মিলবে। তবে দেশটিতে ঢোকার পর তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়। এরপর তা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সবশেষ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইতালিতে নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

ডব্লিউএইচও বলছে, করোনার ওমিক্রন ধরনের অনেক বেশি মিউটেশন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু উদ্বেগজনক। করোনার নতুন ধরনের খবর মেলার পর আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোয় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা ও নানা বিধিনিষেধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করবে না তালেবান

banglanewspaper

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ বলেছেন, তার সরকার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। গতকাল শনিবার হাসান আখুন্দ এ প্রতিশ্রুতি দেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা হাসান আখুন্দের অডিও বক্তব্য গতকাল দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। কাতারের দোহায় আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে বৈঠক হতে যাচ্ছে। এ বৈঠক সামনে রেখে হাসান আখুন্দ ভাষণ দিলেন।

গত মধ্য আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। পরের মাসে তারা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। তালেবানের সরকার গঠনের পর এই প্রথম জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন হাসান আখুন্দ।

তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৩০ মিনিট ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘সব দেশকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না। আমরা তাদের সঙ্গে ভালো অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই।’

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর আফগান জনগণের সংকট আরও বেড়েছে। তালেবান সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হাসান আখুন্দ জাতির উদ্দেশে ভাষণ না দেওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হচ্ছিল।

তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমস্যায় নিমজ্জিত। আমরা আল্লাহর সাহায্যে আমাদের জনগণকে দুঃখকষ্ট-কষ্ট থেকে বের করে আনার শক্তি অর্জনের চেষ্টা করছি।’

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে সহায়তা প্রদান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হাসান আখুন্দ।

তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাকে তাদের সাহায্য বন্ধ না করার জন্য বলছি। আমাদের ক্ষয়প্রাপ্ত জাতিকে সাহায্য করার জন্য বলছি, যাতে জনগণের সমস্যার সমাধান করা যায়।

হাসান আখুন্দ জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তান যেসব সমস্যার সম্মুখীন, তা দেশটির বিগত সরকারগুলোর কর্মফল।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
এবার মেঘালয়ে মমতার তৃণমূলের ম্যাজিক!

banglanewspaper

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এবার মেঘালয় রাজ্যে বড় ম্যাজিক দেখালো। এক লাফে সেখানকার প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেল তৃণমূল। কারণ কংগ্রেসের ১২ জন বিধায়ক একসঙ্গে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। ফলে রাতারাতি কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে সামনের সারিতে উঠে এলো মমতার দল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার সন্ধ্যায় মুকুল সাংমাসহ ১২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এক ডজন বিধায়কের দলবদলের ফলে কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ছয়জনে।

২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুকুল। বর্তমানে তিনি ওই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। কিন্তু মুকুল হঠাৎ কেন কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? সূত্রের খবর, মাস-দেড়েক আগেই তার বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা লোকসভার সাংসদ ভিনসেন্ট পালাকে মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়েছে। তাতে ক্ষুব্ধ হন তিনি। এমনকি কিছুদিন ধরে কংগ্রেসের অন্দরে মুকুল কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন বলেও তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর।

এদিকে তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মুকুলের ভালো সম্পর্ক‌। সেই সূত্রে মুকুলকে ঘুঁটি করে ১২ বিধায়ক পকেটে পুরে নেওয়ার কাজ করেছেন পিকে। কিছুদিন আগে কলকাতাও ঘুরে গিয়েছেন মুকুল। সেই সময় তৃণমূলের এক শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছিল।

২০২৪ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ছোট রাজ্যগুলোতে নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানো টার্গেট নিয়েছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে। সেখানেও প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এছাড়া সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

ট্যাগ: