banglanewspaper

আপনি কি কখনো বাসে, ট্রেনে কিংবা লঞ্চে ভ্রমণ করতে গিয়ে অথবা ল্যাপটপ-ডেস্কটপে কাজ করার সময় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছেন? এটি হয়তো আপনার জন্য আরামদায়ক ছিল, কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর ভয়ানক পিঠে ব্যথা, ঘাড় এবং কাঁধে শক্ত অনুভব করেছেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে এটি দীর্ঘ সময় বসে থাকার এবং গতিহীন থাকার কারণে ঘটেছে। ঘুমানোর সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণিজগতে একটি সাধারণ ঘটনা, তবে মানবদেহ এই জাতীয় অভ্যাসে অভ্যস্ত নয়।

বসে থাকা অবস্থায় নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা আপনার জয়েন্টগুলিতে একটি ভারী চাপ নিতে পারে এবং সেগুলো শক্ত করে তুলতে পারে। এটি আপনার গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে যেমন ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস। বসে ঘুমানোর বিপদগুলো জেনে নিন এবং এটি মারাত্মক হতে পারে কিনা তা খুঁজে দেখুন। বসা অবস্থায় ঘুমানো আরামদায়ক হতে পারে, কিন্তু এটি জয়েন্ট এবং পিঠে ব্যথার কারণ হতে পারে।

আমরা প্রায়ই আমাদের চেয়ারে আরাম বোধ করি, কাজ করার সময় ডেস্কে ঘুমিয়ে পড়ি। এমন স্মৃতি ছাড়া তো আমাদের স্কুলের দিনগুলো অসম্পূর্ণ। তবে ঘন ঘন এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

এক জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় থাকা হতে পারে শরীরের ব্যথার কারণ। যা আমাদের অঙ্গবিন্যাসকেও ধ্বংস করতে পারে। এটি জয়েন্টগুলোতে ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। স্ট্রেচিংকে নমনীয়তা, অঙ্গবিন্যাস উন্নত করা এবং জয়েন্টে ব্যথা প্রতিরোধ করার একটি দুর্দান্ত উপায় বলে মনে করা হয়। বিছানায় শুয়ে ঘুমালে তা আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং জয়েন্টগুলো প্রসারিত করতে সাহায্য করতে পারে। এদিকে বসে থাকা অবস্থায় ঘুমালে রক্ত ​​সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে, নড়াচড়া সীমিত করতে পারে, যা আরও জটিলতার দিকে নিয়ে যায়।

স্বল্পমেয়াদী সমস্যা ছাড়াও, বসা অবস্থায় ঘুমালে তা আপনাকে ডিপ ভেইন থ্রোম্বোসিসের মতো রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যা রক্ত ​​জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে ঘটতে পারে। এটি থ্রম্বাস নামেও পরিচিত। এটি এক জায়গায় দীর্ঘ সময় ঘুমানো বা বসে ঘুমানোর একটি নেতিবাচক ফলাফল হতে পারে।

ডিপ ভেইন থ্রোম্বোসিস যদি নির্ণয় না করা হয় বা চিকিত্সা না করা হয় তবে এটি একটি জরুরি পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি গুরুতর পরিস্থিতিতে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা দেয় যখন জমাট বাঁধা রক্তের কিছু অংশ ভেঙে যায় এবং ফুসফুস বা মস্তিষ্কে চলে যায়। ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়, হঠাৎ মৃত্যু ঘটে।

ভারতের ন্যাশনাল ব্লাড ক্লট অ্যালায়েন্স এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন ২০০ জনেরও বেশি মানুষ রক্ত ​​জমাট বাঁধার পরিণতিতে মারা যায়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২৫ থেকে ৮৫ বছর বয়স্ক ব্যক্তিও ছিলেন।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

► পায়ের পেশী, গোড়ালি বা পায়ে ফোলাভাব এবং ব্যথা।

► প্রদাহের ফলে লাল ও উষ্ণ ত্বক।

► হঠাৎ পায়ের গোড়ালি বা পায়ে ব্যথা।

সোজা হয়ে ঘুমানোর কোনো উপকার আছে কি?

বসে থাকা অবস্থায় ঘুমাতে চাইলে সবসময় রিক্লাইনার অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও এই জাতীয় ঘুমের অবস্থান এড়ানো উচিত। তবে এটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য উপকারী হতে পারে, শুয়ে ঘুমাতে অসুবিধা হয়। এটি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগছেন এমন ব্যক্তির জন্য ঘুমানোর একটি দুর্দান্ত উপায়। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এক ধরনের ঘুমের ব্যধি যা ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যাহত হলে ঘটে। এটি অ্যাসিড রিফ্লাক্সকেও সহজ করতে পারে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আরও ভালোভাবে ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে।

ট্যাগ: ঘুম

লাইফস্টাইল
হাঁটাচলায় ঝুঁকি কমে ক্যানসার ও হৃদরোগের

banglanewspaper

সচেতন হতে হবে খাওয়া-দাওয়া আর খানিকটা চালচলনে। বড় ধরনের পরিবর্তন না এনেই সুস্থ থাকা যায়। শারীরিক নানা ধরনের ব্যায়াম করে শরীরকে বশে রাখা যায়। কষ্টের ব্যায়াম না করে সহজ উপায় হল হাঁটা। টানা ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে রক্তে চলমান চর্বি ফুরিয়ে আসে।  তাই অফিস থেকে বাড়িতে ফেরার পথে খানিকটা পথ হেঁটেই ফিরুন।  শারীরিক সক্ষমতা থাকলে অফিস কিংবা বাড়িতে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়িতেই চড়ুন। হাড় ও হার্ট দুটিই ভালো থাকবে।

হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুকি কমাতে হাঁটাহাটির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ। 

যে কোনো বয়সের মানুষের শরীর ঠিক রাখতে হলে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সব ব্যায়াম সব বয়সের জন্য উপযোগী নয় এবং সব ব্যায়াম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা সব বয়সের জন্য মানানসই। সহজে করা যায়। হাঁটার উপকারিতাও অনেক। এর চেয়ে সহজ ব্যায়াম আর নেই। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়াম কম খরচে শরীর ভালো রাখা যায়। ঘরে-বাইরে যে কোনো জায়গায় করা যায়। ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়। উপযুক্ত পোশাক এবং এক জোড়া ভালো জুতা ছাড়া কোনো অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে না।

ডায়াবেটিস রোগীর উপকার

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটাচলা, হাট-বাজারে কোথাও গেলে অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করা। অল্প কয়েক তলার জন্য লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে ওঠা বা নামার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন বা সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট হাঁটলে এবং শরীরে ওজন সাত শতাংশ কমালে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা কমে প্রায় ৫৮ ভাগ। যদি ডায়াবেটিস হয়েই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হাঁটা বিশেষ কার্যকর। হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তের সুগার কমে, ওষুধ কম লাগে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের অন্যতম একটি রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া। হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মেদ কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসে। দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৫০ ভাগ কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে শুধু ডায়েটিং করেন। কিন্তু হাঁটাহাঁটি না করে বা অলস জীবনযাপন করে শুধু ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ মেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা।

হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা

নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হৃদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় শরীরে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশংকা কম থাকে। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হাঁটলে শরীরে জমে থাকা মেদ কমে। রক্তে মন্দ কোলেস্টেরল বা লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন কমে যায়। এই মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যারা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা অথবা দৈনিক আধা ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। হাঁটার ফলে ভালো কোলেস্টেরল বা হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বাড়ে। ফলে রক্তনালিতে ব্লক সহজেই হয় না। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায় না। তাই হৃদরোগের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি কমে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

হাঁটা ও কর্মক্ষমতা

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং রক্ত সরবরাহ বাড়ে। এগুলো বেশি কর্মক্ষম থাকে। হাঁটার ফলে পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে ফলে পেশির শক্তি বাড়ে। শরীরের ওজন কমে। শরীর থাকে ফিট। নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হয়। সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটাচলা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতো কাজ করে। হাঁটার ফলে উচ্চরক্তচাপ হয় না এবং আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপ থাকলে তা কমিয়ে রাখে।

টিপস

* হাঁটা শুরু করার প্রথম ৫-১০ মিনিট এবং শেষের ৫-১০ মিনিট আস্তে হেঁটে শরীরকে ওয়ার্ম আপ এবং ওয়ার্ম ডাউন করুন।

* হাঁটার আগে এবং পরে একটু পানি পান করুন।

* খাওয়ার পরপরই হাঁটবেন না। ৪৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

* দুপুরে রোদে হাঁটবেন না। সকাল বা বিকালের একটি সময় বেছে নিন।

* হাঁটা শেষ করে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কিছু খেয়ে নিন।

* হাঁটায় উপকারিতা পেতে অবশ্যই সপ্তাহে অন্তত তিন বা চার দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হবে যথেষ্ট দ্রুত, যেন শরীরটা একটু ঘামে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হাঁটা চলার মাধ্যমে কমানো সম্ভব বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিন্মাংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়। দীর্ঘমেয়াদি কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়। কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের আশংকাও কমে যায়।

হাড়ের ক্ষয়রোগ রোধে

পোস্ট মেনপোজাল (রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী) নারী এবং বয়স্ক পুরুষদের সাধারণ রোগ হচ্ছে অষ্টিও পোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। সামান্য আঘাত বা অল্প উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটাচলা এ ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি-পরবর্তী বয়সে যেসব নারী প্রতিদিন অন্তত এক মাইল হাঁটেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আর্থ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশংকাও কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য

হাঁটলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার কিছু পদার্থ এনড্রফিন, ডোপামিন, সেরেটোনিন নিঃসরণ হয়। ফলে মন-মেজাজ ভালো থাকে। হাঁটার ফলে মনে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে, মানসিক চাপ কম বোধ হয়। এনড্রফিন নামক রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে গেলে ঘুম আরামদায়ক হয়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন হাঁটার ফলে বিষণœতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন তাদের বোধশক্তি ৪০ মিনিটের কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি।

হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। যে কোনো ধরনের হাঁটাই উপকারী।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
রাতে গোসল করলে সেসব উপকার

banglanewspaper

অনেকের রাতে ভালো ঘুম হয় না, কিংবা ঘুম আসতে দেরি হয়। নানা রকম চেষ্টাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। ঘুমের সমস্যার থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি অতি সহজ সরল উপায় রয়েছে, তাহলো গোসল থেরাপি। তবে শুধুমাত্র ভালো ঘুমের ওষুধই নয়, এই থেরাপির রয়েছে আরও অনেক সুফল।

সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে যেমন গোসলের জুড়ি নেই, তেমনই ত্বকের জন্যেও এই গোসল থেরাপি জাস্ট পারফেক্ট। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করলে ত্বকের উপর জমে থাকা ধুলো ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। ত্বকের রোমকূপ খুলে যায়, ফলে আরও বেশি রিফ্রেশড লাগে দিন শেষে। আর যদি গোসলের জলে দুধ মিশিয়ে নিতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। ত্বকের জেল্লাও বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বেশ খানিকটা সময় নিয়ে গোসল করতে পারলে তার প্রভাব পড়ে আপনার ব্লাড প্রেশারেও। স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি আপনার রক্তচাপও কমাতে সাহায্য করবে।

শরীরে ঘাম জমে থাকলে নানা রকম ফাঙ্গল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এছাড়াও কাজ থেকে ফেরার পর গোসল মাংসপেশি রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। তাছাড়া মাসল পেইনও কমায়।

প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গোসলের পানিতে ওডিকোলন বা এসেনশিয়াল অয়েলের কয়েক ফোঁটা ফেলে গোসল সারলে ইনসমনিয়ার থেকেও মুক্তি পাবেন।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
জিরা ভেজানো পানি খাওয়ার ৫ উপকারিতা

banglanewspaper

জিরা আমাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত অন্যতম মসলা। রান্নায় জিরা ব্যবহারের প্রধান কারণ স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানো বলে মনে হলেও এর রয়েছে আরও অনেক উপকারিতা। নিয়মিত জিরা খেলে তা আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হজমের সমস্যা দূর, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও রক্তস্বল্পতা দূর করার পাশাপাশি সাহায্য করে ওজন কমাতে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নানাভাবে কাজ করে জিরা। 

জিরায় আছে আয়রন, তামা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, জিঙ্ক ও পটাশিয়াম। বিভিন্ন অসুখে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে জিরা ব্যবহার করা হয়। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী হলো জিরা ভেজানো পানি। প্রতিদিন একগ্লাস জিরা ভেজানো পানি পান করলে তা আমাদের নানা উপায়ে উপকার করে থাকে। এটি সকালবেলা খালি পেটে খেলে বেশি উপকার পাবেন। জেনে নিন সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি খেলে কী হয়-

বদহজম দূর করে

অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, অন্ত্রে গ্যাস জমে গিয়ে পেট ফুলে যায়। যে কারণে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং পেট ভার হয়ে থাকার মতো অনুভূতি হয়। সেইসঙ্গে পেট ব্যথা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। এমন সমস্যাকে সাধারণ মনে হলেও ভোগান্তি কম কিছু হয় না। তাই এ থেকে মুক্তি পেতে জিরা ভেজানো পানি পানের অভ্যাস করুন। বদহজমের সমস্যা দূর করতে জিরা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 

ওজন কমায়

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাদের সেই কাজে সাহায্য করতে পারে জিরা। জিরা ভেজানো পানি হজম ভালো হতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে সব ধরনের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। যদি আপনার পাচনতন্ত্র ঠিক থাকে তাহলে সহজেই শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। এ কারণে ফ্যাট ও ওজন দুটোই দ্রুত কমে। নিয়মিত সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে জিরা কার্যকরী। এতে আছে পটাশিয়াম, আয়রন এবং ফাইবার। আপনি যদি নিয়মিত জিরা ভেজানো পানি পান করেন তবে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দ্রুত শক্তিশালী করে তুলবে। এটি নানা ধরনের রোগের সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি ঘনঘন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমিয়ে দেয়।

নিয়ন্ত্রণে রাখে ডায়াবেটিস

যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য উপকারী একটি পানীয় হতে পারে জিরা ভেজানো পানি। এটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর জন্য খুবই কার্যকরী। জিরা আমাদের শরীরের ইনসুলিন উত্‍পাদন বাড়িয়ে তোলে। সেইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখে শর্করার মাত্রা। এর ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস। 

নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন জিরা ভেজানো পানি। এতে থাকে উচ্চ পটাশিয়াম। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা আমাদের শরীরের ক্রিয়াকলাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও জিরা ভেজানো পানি খেলে তা লবণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তচাপ।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
পাত্র-পাত্রী দেখার আদবকেতা

banglanewspaper

পারিবারিকভাবে বিয়ে হলে সে ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রী দেখতে যাওয়ার কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কারণ এর ওপরই অনেকটা নির্ভর করে বিয়ে হবে কি হবে না। প্রথম দেখা করতে গেলে অনেক বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। বলতে গেলে বিয়ের পাকা কথা এখান থেকেই শুরু হয়। অনেকে শুরুতেই বড় ধরনের ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেন। সামান্য ভুলের জন্য অনেক সম্পর্কই শুরু হওয়ার আগে ভেঙে যায়। তাই এসব ক্ষেত্রে কিছু আদবকেতা মেনে চলা উচিত। আর এ বিষয় নিয়েই আজকের এ প্রতিবেদনে পাত্র বা পাত্রীর সাথে প্রথম দেখা করার বিষয়ে আদবকেতার কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে।

জেনে নিন প্রথম পাত্রপাত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় যেসব আদবকায়দা মেনে চলবেন:

* ছবি দেখে কারো সম্বন্ধে ধারণা করা ঠিক না। বাস্তবে সে রকম নাও হতে পারে। তাই দেখা হওয়ার পর কথা বললে কিছুটা বোঝা সম্ভব সে কেমন মানুষ হতে পারে। অতএব চুপ করে না থেকে কথা বলার চেষ্টা করুন। নিজে জানুন ও আপনাকে জানার সুযোগ করে দিন।

* দুজনেই দুজনার জীবনযাপন বা ভালোলাগা অথবা শখ সম্বন্ধে আগে থেকেই কিছুটা হলে জেনে নিন। তাহলে প্রথম পরিচয়ে অনেক বিষয় পাবেন কথা বলার জন্য।

* পাত্রপাত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি ভালো জায়গা নির্বাচন করুন। এমন কোনো জায়গায় যাবেন না যেখানে সে অস্বস্তিবোধ করে। অথবা চেষ্টা করুন তার পছন্দের জায়গায় যাওয়ার। যেখানে সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

* বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখা করতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক কিছুই নিজে বলতে পারবেন না বা বললে ভালো দেখাবে না সে ক্ষেত্রে বন্ধু বা আত্মীয়দের দিয়ে বলানোর চেষ্টা করুন।

* দেখা করার একদিন আগে অন্তত ফোনে অল্প হলেও কথা বলে নিন। এতে একেবারে অপরিচিত ভাবটা থাকবে না।

* দেখা করতে গিয়ে আগেই প্রশ্ন করা শুরু করবেন না। প্রথমে সৌজন্যমূলক কিছু কথা বলে পরিবেশটা স্বাভাবিক করে নিন।

* রান্না করতে পারেন? এ ধরনের প্রশ্ন না করাই ভালো। চাকরির সাক্ষাৎকারের মতো প্রশ্ন না করাই উত্তম।

* যে জায়গায় দেখা করবেন সেখানে যেন দুজনেরই আসতে সুবিধা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

* রেস্তোরাঁর মেনু দেখে বিপরীত লিঙ্গের মানুষটিকে খাবার অর্ডার দিতে বলুন। এটা এক ধরনের ভদ্রতা।

* নিজের সম্পর্কে অযথা বাড়িয়ে বলবেন না। পরে সেগুলো ভুল প্রমাণিত হলে সম্পর্ক মাঝপথেই ভেঙে যেতে পারে।

* আপনার বেতন কত? এ রকম প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

* বিপরীত লিঙ্গের মানুষ যদি কথা বলতে সংকোচ বোধ করে তাহলে তাকে কথার মাধ্যমে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করুন।

* নিজের পরিবার, আত্মীয়-পরিজন সম্বন্ধে জানানোর চেষ্টা করুন। যাতে পরে সে সবার সম্বন্ধে ধারণা রাখতে পারে।

* অন্য প্রসঙ্গ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। যদি কোনো কথায় অপরপক্ষের মানুষের মন খারাপ হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলুন।

* মানুষটিকে যদি আপনার পছন্দ না হয় তাহলে তাকে ভুলেও তখন বুঝতে দিবেন না। সরাসরি জানতে পারলে সে মনে অনেক কষ্ট পাবে।

* কোনো কথা তার কাছে লুকানোর চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন কোনো কিছু লুকিয়ে সম্পর্ক টেকানো সম্ভব হয় না।

* দেখা শেষ করে কিভাবে সে বাসায় ফিরবে তা ভালোভাবে জেনে তাকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করুন।
 

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
কফির উপকার-অপকার

banglanewspaper

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি হলো কফি। তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবার কাছেই কদর রয়েছে। আপনিও কি একজন কফিপ্রেমী? তাহলে জেনে নিন কফির উপকার ও অপকারগুলো। 

উপকার 
কফি অবসাদ দূর করে মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখে। এটি লাং ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিইনটেসটিনাল ক্যান্সারসহ পার্কিনসন অসুখের বিরুদ্ধে কাজ করে। 

মাথাব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ, স্থূলতা কমানোর পাশাপাশি মানুষের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে কফি। বাতব্যথার উপশম হিসেবেও কফির ব্যবহার রয়েছে। মেদ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে কফির ভূমিকা।

অপকার 
অতিরিক্ত কফি পান গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ক্যাফেইন মস্তিষ্ক উত্তেজিত রাখে বলে উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দেয়। কফির কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। ডায়াবেটিস, উক্ত রক্তচাপ, ডায়রিয়া, হারক্ষয়ের মতো আরও অসংখ্য রোগ তৈরিতে কফির ভূমিকা রয়েছে।

ট্যাগ: