banglanewspaper

মেক্সিকোর কুখ্যাত এক সিরিয়াল নারী খুনি আট বছরে অন্তত ১১ বৃদ্ধাকে খুন করার দায়ে দোষী প্রমাণিত হয়েছিলেন ২০০৮ সালে। তার সাজা হয়েছিল ৭৫৯ বছরের কারাদণ্ড। বলা হয়, আরও বহু খুন করেছিলেন তিনি, যেগুলো আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

হুয়ানা বারায্যা নামে দুর্ধর্ষ এই সিরিয়াল খুনি ছিলেন মেক্সিকোর একজন পেশাদার নারী কুস্তিগীর।

হুয়ানা বারায্যা মেক্সিকোয় পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ‘ম্যাটাবিহিতাস’ অর্থাৎ ‘বৃদ্ধা নারী ঘাতক’ নামে।

মেক্সিকো সিটির উত্তরের এক গ্রামে জন্ম হয় হুয়ানার। তার পছন্দ ছিল লুৎজা লিব্রে নামে এক জনপ্রিয় ধারার কুস্তি -যেখানে কুস্তিগীররা লড়াই করেন মুখোশে মুখ ঢেকে। কুস্তিখেলার মঞ্চে তার পেশাদারি নাম ছিল ‘নীরব নারী'।

মেক্সিকো সিটির এক আদালতে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ অন্তত ১১ জন বৃদ্ধাকে খুন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হুয়ানা বারায্যা।

কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে ৪০টির বেশি খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন, কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে ১১টির বেশি মামলায় তারা তাকে দোষী প্রমাণ করতে পারেননি।

মেক্সিকোর গণমাধ্যমে দুর্ধর্ষ এই অপরাধীর খুনের সংখ্যা নিয়ে নানা হিসাব দেওয়া হয় - কেউ বলে তিনি খুন করেছেন ২৫ জন বৃদ্ধাকে, কেউ বলে এ সংখ্যা ৫০এর কাছকাছি।

শহরে ত্রাস, কর্তৃপক্ষ দিশেহারা

মেক্সিকো সিটিতে ২০০৫ সালে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে একের পর এক খুনের ঘটনা। রাজধানীতে খুন হতে থাকেন বয়স্ক নারীরা। নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে প্রবল ত্রাস আর আতঙ্ক। খুনের শিকার এবার না জানি কে হয়!

খুনের ঘটনাগুলো ঘটছিল সাত বছর ধরে। প্রত্যেক নারীকে তাদের বাসায় একই কায়দায় খুন করা হচ্ছিল।

এসময় মেক্সিকো সিটির মেয়র, সে দেশের একজন নিউরো সাইকোলজিস্ট ড. ফেগি অস্ট্রস্কির সঙ্গে প্রথম টেলিফোনে যোগাযোগ করেন ২০০৫ সালে।

বিবিসির মাইক ল্যাঞ্চিনকে ড. অস্ট্রস্কি বলেন মেয়র তাকে অনুরোধ করেন এই খুনের ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সবগুলো একই খুনির কাজ কি না এ বিষয়ে তদন্তে সহায়তা করতে।

‘সবগুলো খুনের একটা প্যাটার্ন ছিল। সবাই বয়স্ক নারী। সবাই থাকত একা। সবাইকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে মারা হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় খুনি কিন্তু দরোজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকেনি। কেউ তাকে দরোজা খুলে দিয়েছে,’ বলেন ড. অস্ট্রস্কি।

পুলিশ তখন হন্যে হয়ে সূত্র খুঁজছে। একটা ঘটনায় একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, তারা লম্বাচওড়া একজন মহিলাকে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছে। আরকজন বলে সে ঘটনাস্থলে দুজনকে দেখেছে।

এক পর্যায়ে পুলিশ শহরের হিজড়াদের ধরপাকড় শুরু করে। তাদের ধারণা জন্মায় খুনি একজন পুরুষ, নারীর ছদ্মবেশে খুন করছে। গোটা তদন্ত চলে বিশৃঙ্খলভাবে।

‘পুলিশের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। কিন্তু তারা তখন পুরো গোলকধাঁধাঁয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করেই তারা খুনিকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। আমিও কোনো কিনারা করতে পাচ্ছিলাম না- সবাই ছিল পুরোপুরি বিভ্রান্ত!’ ড. অস্ট্রস্কি বলেন।

আশার আলো

রাজধানীতে এক ডজনের বেশি বৃদ্ধা নারী খুন হয়েছে ২০০৫ সালের শেষ নাগাদ। কাউকে তখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি। এরপর ২০০৬ এর জানুয়ারিতে পুলিশ আশার আলো দেখল।

একটি বাড়িতে ৮২ বছরের এক বৃদ্ধাকে গলায় স্টেথিস্কোপ জড়িয়ে খুন করে পালানোর সময় ধরা পড়ল সন্দেহভাজন একজন। জানা গেল ওই সন্দেহভাজন সাবেক কুস্তিগীর হুয়ানা বারায্যা।

ঘটনার দিন ড. অস্ট্রস্কি ছিলেন রাজধানীর বাইরে -তিনি গিয়েছিলেন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। খবর শুনে তিনি দ্রুত ফিরে এলেন মেক্সিকো সিটিতে। সোজা হাজির হলেন জেলখানায়।

‘আমি জেলখানার অফিসে একটা খোলা জায়গায় তার সাথে কথা বলতে চাইলাম। আমার কিছুটা ভয়ই করছিল,’ বলছিলেন ফেগি অস্ট্রস্কি। ‘হুয়ানা বিশাল চেহারার একজন মহিলা। মাথার চুল ছোট করে কাটা। চুলে লাল রং করা।’

ড. অস্ট্রস্কি জেলখানায় তার মুখোমুখি হয়ে প্রথমেই জানতে চান খুনটা তিনিই করেছেন কি না। হুয়ানা উত্তর দেন – ‘হ্যাঁ- আমি একজন বৃদ্ধাকে খুন করেছি।’

ড. অস্ট্রস্কি বলছেন, তিনি বুঝতে চেয়েছিলেন খুন যে একটা অপরাধ -সেই বোধটা তার আছে কি না, সে ঠান্ডা মাথায় কাজটা করেছে কি না। হুয়ানা বারায্যা স্বীকার করেছিলেন কাজটা অন্যায় হয়েছে।

মনস্তত্ত্ববিদ ফেগি অস্ট্রস্কি বলছেন, এটা ঠিক সাইকোপ্যাথদের মনস্তত্ত্ব।

‘তারা জানে কোনটা অপরাধ। কিন্তু তারপরেও তারা অনায়াসে সেই অপরাধ করে- অপরাধ বোধ তাদের থাকে না।’

হুয়ানা বারায্যা আরও দুটি খুনের কথা স্বীকার করেছিলেন, যদিও পরে সেই স্বীকারোক্তি তিনি ফিরিয়ে নেন।

এরপর ড. অস্ট্রস্কি প্রত্যেকদিন জেলে তার সঙ্গে দেখা করতে যান। অন্য খুনের ঘটনাগুলো সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করেন, জানতে চান তার পরিবারের কথা, তার ছোটবেলার কথা।

কেন বৃদ্ধাদের খুন করতেন হুয়ানা?

হুয়ানা বারায্যা জেলখানায় বসে ড. অস্ট্রস্কিকে যখন তার পরিবারের কথা বলেন তখন তার মধ্যে কোনো আবেগ ছিল না, বিবিসিকে বলেন ড. অস্ট্রস্কি। ‘তার গলার স্বর ছিল একেবারে ঠান্ডা।’

‘হুয়ানা কিছুটা হাসতে হাসতে তার পরিবারের কথা বলছিলেন। বলেছিলেন তার মদ্যপ মা কীভাবে তাকে নির্যাতন করতেন, কীভাবে মদের বিনিময়ে তাকে একজন পুরুষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ওই পুরুষ তাকে অন্তঃসত্তা করেছিল,’ বলছিলেন ড. অস্ট্রস্কি।

হুয়ানা বারায্যার বয়স তখন ছিল মাত্র ১৩। অন্তঃসত্তা হবার পর তাকে মায়ের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল ওই পুরুষ। নিজের সন্তানের পাশপাশি ভাইবোনেদেরও দেখাশোনা করতে হতো তাকে।

ড. অস্ট্রস্কিকে হুয়ানা বারায্যা বলেছিলেন: ‘আমি মাকে ঘেন্না করতাম। আমার মা ছিল জঘন্য। আমার সৎ বাবাকে বরং আমি পছন্দ করতাম।’

টানা দু সপ্তাহ প্রতিদিন ড. ফেগি অস্ট্রস্কি হুয়ানার সঙ্গে জেলখানায় গিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু হুয়ানার যে আস্থা তিনি অর্জন করেছিলেন তা হঠাৎ করেই একদিন ভেঙে পড়ে, ড. অস্ট্রস্কি হুয়ানা বারায্যাকে না জানিয়ে তার সৎ বোন ও তার মেয়ের সঙ্গে দেখা করার পর।

পরদিন হুয়ানা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ড. অস্ট্রস্কিকে বলেন, তার সঙ্গে তিনি আর দেখা করবেন না।

ড. অস্ট্রস্কি তার রিপোর্টে লিখেছিলেন, মায়ের হাতে ছেলেবেলায় যে নির্যাতনের শিকার হন হুয়ানা বারায্যা, সেটাই তাকে পরিণত বয়সে সম্ভবত নারীঘাতক করে তুলেছিল।

তিনি আরও দেখেছিলেন হুয়ানার মস্তিষ্কের সামনের প্রকোষ্ঠটি ছিল মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের থেকে বেশি সক্রিয়, যেটা তার সহিংস আচরণের সম্ভাব্য একটা কারণ হতে পারে বলে ড. অস্ট্রস্কির ধারণা।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

এর দুই বছর পর ২০০৮ সালের বসন্তকালে তাকে ১১টি আলাদা খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৭৫৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মেক্সিকোর নিউরো সাইকোলজিস্ট ড. ফেগি অস্ট্রস্কি বিবিসির মাইক ল্যাঞ্চিনকে বলেন, কারাগারে এই খুনের আসামির সাথে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেছিলেন এটা বুঝতে যে হুয়ানা বারায্যা একাকী বৃদ্ধা নারীদের কেন টার্গেট করতেন।

ড. অস্ট্রস্কি আরও বুঝতে চেয়েছিলেন ৪৮ বছর বয়সী সাবেক পেশাদার কুস্তিগীর কোন মানসিক অবস্থা থেকে একের পর এক এতগুলো খুন করছিল- এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কি না।

‘আমি জানতে চেষ্টা করি তার মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে। হুয়ানার তো হঠাৎ করে এক সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হয়নি যে - নাঃ আজ কিছু করার নেই - আমি বোরড- আজ বরং একজন বৃদ্ধা মহিলাকে খুন করে আসি!’

ড. অস্ট্রস্কি বলছেন আসলে এর সঙ্গে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া জড়িত থাকে। এটা রাতারাতি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

‘কীভাবে সে বড় হয়েছে সেটা আমি বুঝতে চেয়েছিলাম। হিংসাত্মক আচরণের পেছনে অনেক রকম কারণ থাকে। অবশ্য কারোর মস্তিষ্কের গঠনেও অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে, যেটা জানা গেলে তার চিকিৎসা করা সম্ভব,’ তিনি বলেন।

তবে, ড. ফেগি অস্ট্রস্কি বলেন, কারাগারে যখন তিনি হুয়ানার সাথে প্রথম দেখা করেন তখন সেই অভিজ্ঞতা খু্ব স্বস্তির ছিল না।

‘হুয়ানার দৃষ্টিটা ছিল অন্তর্ভেদী। আমার কিন্তু ভয় করছিল। ও আমার মুখোমুখি বসেছিল। আমি মিষ্টি ব্যবহার করার চেষ্টা করছিলাম। সেও আমার সাথে ভালো ব্যবহার করছিল। কিন্তু আমাদের দুজনেরই মনের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল একই প্রশ্ন - কী চাও তুমি? কেন এসেছে?’

তিনি বলছেন, অভিজ্ঞতাটা ছিল অনেকটা ক্ষমতার খেলার মতো!

‘এটা আমাদের মতো মনোবিজ্ঞানীদের বুঝতে সাহায্য করে যারা সিরিয়াল খুনি- একের পর এক মানুষ খুন করে, তাদের মস্তিষ্কের গঠন এর জন্য কতটা দায়ী- তাদের শৈশব বা কৈশোরের ঘটনাই বা এর পেছনে কতটা ভূমিকা রাখে।’

তিনি বলেন, যারা ছোটবেলায় নির্যাতন আর অত্যাচারের আবহের মধ্যে দিয়ে বড় হয়ে ওঠে, ওইসব ঘটনা তাদের মানসিক গঠনকে অবশ্যই প্রভাবিত করে।

‘খুনিকে শুধু জেলে ভরে দিলেই তো অপরাধ বন্ধ হবে না। সমাজে অপরাধ ঠেকাতে হলে অপরাধীর মনকে বুঝতে হবে। সেটাই আমি করেছিলাম,’ বিবিসিকে বলেন ড. ফেগি অস্ট্রস্কি।

ড. অস্ট্রস্কি এরপর হুয়ানাকে দেখতে আর কখনও জেলখানায় যাননি। ৬৩ বছর বয়সী হুয়ানা বারায্যা আমৃত্যু জেল খাটছেন মেক্সিকো সিটির কারাগারে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

ট্যাগ: খুন

আন্তর্জাতিক
বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত আরও ৭ লাখ, মৃত্যু ১৩২৬

banglanewspaper

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৪২৬ জন। এ সময় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩২৬ জনের।

বুধবার (২৯ জুন) সকালে করোনার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫৫ কোটি ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৪০৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৪ জনের।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ানে ১০৩ জনের মৃত্যু এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৪২৮ জন।

যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৪১২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। একই সময়ে উত্তর কোরিয়ায় সংক্রমিত হয়েছেন ৬ হাজার ৭১০ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ২৬৮ জন এবং শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার ৪৪৮ জনের। ইতালিতে আক্রান্ত ৮৩ হাজার ৫৫৫ জন এবং মৃত ৬৯ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ২ হাজার ৫৪১ জন এবং মৃত্যু ৫৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। ব্রাজিলে মৃত ২৯৪ জন এবং আক্রান্ত ৭০ হাজার ১৬৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ায় মৃত ৭৪ জন এবং আক্রান্ত ২৭ হাজার ৭৫৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় থাইল্যান্ডে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১ হাজার ৭৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। একই সময়ে কানাডায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৯ জন এবং ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিলিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫১৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে, একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
মহানবিকে কটূক্তি : দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা, কারফিউ জারি

banglanewspaper

মহানবি (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় এক দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই যুবক।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) দুপুরে রাজস্থানের উদয়পুরে মালদাস এলাকায় নিজ দোকানে ওই দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনতা সহিংস হয়ে উঠলে পুরো রাজস্থান রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, ইন্টারনেট ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এক মাসের জন্য বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজ্যটির সরকার উদয়পুর ও এর আশপাশে ৬০০ অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং শহরের কিছু অংশে কারফিউ ঘোষণা করেছে।

কানহাইয়া লাল নামের ওই দর্জিকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তার দোকানে আসা দুই ব্যক্তি তার গলা কেটে ফেলে। তবে হত্যাকাণ্ডটি হামলাকারীদের একজন ভিডিও ধারণ করে এবং তারা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার হুমকি দেয়।

ভিডিওতে হামলাকারীদের একজনের পোশাকের জন্য মাপ নিতে দেখা যায় দর্জিকে। এরপরই তার ওপর হামলা শুরু হয়।

এই হত্যাকাণ্ডে উদয়পুর এবং রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য নেতারা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি শেয়ার না করার অনুরোধ করেছে পুলিশ। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাওয়াসিং ঝুমারিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকে ভিডিওটি প্রচার না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, কানহাইয়া লাল কয়েকটি সংগঠনের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন।

মঙ্গলবার বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে রাজস্থান সরকার।

সূত্র : এনডিটিভি

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
এবার বাইডেনের স্ত্রী ও মেয়ের ওপর রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা

banglanewspaper

অর্থ ও জ্বালানি মন্ত্রীসহ ৬১ মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও মেয়ে অ্যাশলে বাইডেনসহ ২৫ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়া।

নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা রাশিয়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন না বলে প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

স্থানীয় সময় আজ (২৮ জুন) মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ রাজনৈতিক ও জনসাধারণের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিস্তৃত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ার জবাব হিসেবে ২৫ মার্কিন নাগরিককে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক মার্কিন সিনেটর। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মেইন অঙ্গরাজ্যের সুসান কলিন্স, কেনটাকির মিচ ম্যাককনেল, আইওয়ার চার্লস গ্রেসলি ও নিউইয়র্কের সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্রান্ড। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা, ব্রিটেনসহ বেশ কিছু দেশ রাশিয়ার স্বর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর এর আগেও একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আকস্মিক হামলা চালায় রাশিয়া। তারপর থেকে সংঘাত এখনও চলছে।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
পাকিস্তান সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান

banglanewspaper

প্রকৃত শুল্কের মধ্যে বর্ধিত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করায় পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে ৯৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

সোমবার (২৭ জুন) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

কোরিয়ান বিনিয়োগকারীরা ন্যাশনাল ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডেসপ্যাচ কোম্পানি (এনটিডিসি) প্রকল্পের সিওডি থেকে কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য ১৪৭ মেগাওয়াট প্যাট্রিন্ড হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট থেকে বিদ্যুৎ সরাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে পাওয়ার ডিভিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী খুররম দস্তগিরের অধীনে পাওয়ার ডিভিশন একটি রেট নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে এনটিডিসি, সিপিপিএ এবং পাওয়ার ডিভিশনের অসাধু কর্মকর্তাদের র‌্যাকেট ঠিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা প্রকল্প থেকে সময় মতো বিদ্যুৎ সরিয়ে না নেওয়ার জন্য দায়ী।

এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে দেখা গেছে এনটিডিসি কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি, যখন কোরিয়ান কোম্পানি বিদ্যুৎ বিতরণ পয়েন্ট তৈরি করেছিল। বর্তমানে এনটিডিসি ৪২১ বিলিয়ন ডলার ট্রান্সমিশন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে।

অন্যদিকে কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা একজন যুগ্ম সচিবকে অপসারণ করেছি, যিনি বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য এনটিডিসির সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।

তারা বলেন, শেহবাজ শরীফ যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন বিষয়টি তার সামনে আনা হয়। তিনি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির উপায় খুঁজে বের করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিলেন।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, এসএইচপিএল একটি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) প্রতিষ্ঠান। এটি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর জেলার মুজাফফরাবাদের পাত্রিন্দ গ্রামের কাছে কুনহার নদীর ওপর ১৪৭ মেগাওয়াট রান-অব-রিভার প্যাট্রিন্ড জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং বিকাশ করেছে। প্রকল্পটি পাকিস্তানের জাতীয় গ্রিডের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। প্রকল্পটি ৩০ বছরের রেয়াত মেয়াদসহ বুট (boot) ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প ২০০২ এর জন্য সরকারের নীতির অধীনে তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় একটি ভবিষ্যত কর্মপন্থা চূড়ান্ত করছে৷ এ জন্য পাকিস্তান এখন আদালতের বাইরে এটির নিষ্পত্তি চান।

ট্যাগ:

আন্তর্জাতিক
ভারতে মোদির সমালোচক মুসলিম সাংবাদিক গ্রেপ্তার

banglanewspaper

ভারতে একটি ফ্যাক্ট-চেকিং (তথ্যের সত্যতা যাচাই) ওয়েবসাইটের সহপ্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন।

অল্ট নিউজের ওই সাংবাদিক মোহাম্মদ জুবায়েরের বিরুদ্ধে টুইটারে ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা।

তারা বলেছে, এটি হিন্দু-জাতীয়তাবাদী সরকারের সমালোচনা করে যারা বক্তব্য দেয়, তাদের দমন করার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন বিতর্কে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন মুখপাত্রের মহানবি (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য তুলে ধরেন জুবায়ের। তার টুইটটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ ভারতকে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জুবায়েরের করা অতীতের মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জন্য তার বিচারের দাবি জানিয়েছে হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা।

দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, জুবায়েরকে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে। ওই পোস্টের অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের একটি পোস্টে হিন্দুদের দেবতা হনুমানের নামে একটি হোটেলের নাম পরিবর্তন করার বিষয়ে মন্তব্য করে হিন্দুদের অপমান করেছিলেন তিনি।

তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বহু সাংবাদিক।

একজন মুসলিম সাংবাদিক রানা আইয়ুব বলেন, জুবায়ের যিনি নিয়মিতভাবে ভুয়া খবর ফাঁস করেছেন, ভারতে বিদ্বেষপ্রসূত কৌশল উন্মোচন করেছেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশ তাদের শাস্তি দিচ্ছে যারা রিপোর্ট করেছে, অধপতনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করেছেন, ‘বিজেপির ঘৃণার রাজনীতি, ধর্মান্ধতা এবং মিথ্যা প্রকাশ করে দেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। সত্যের একটি কণ্ঠকে গ্রেপ্তার করলে আরও হাজার হাজারের জন্ম হবে।’

সূত্র : বিবিসি

ট্যাগ: